সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচে মুখোমুখি হচ্ছে ইংল্যান্ড ও শ্রীলঙ্কা

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে বড় ধাক্কা খেল ইংল্যান্ড। চোটের কারণে দ্য ওভালে অনুষ্ঠেয় সিরিজ নির্ধারণী তৃতীয় ওয়ানডেতে খেলতে পারবেন না দলের অধিনায়ক ও অভিজ্ঞ ব্যাটার জস বাটলার। তার জায়গায় উইকেটকিপিংয়ের দায়িত্ব সামলানোর সম্ভাবনা রয়েছে জর্ডান কক্সের।

বাটলারের চোটের কারণে ইংল্যান্ডের স্কোয়াডেও পরিবর্তন এসেছে। কভার হিসেবে দলে ডাকা হয়েছে ড্যান লরেন্সকে। আন্তর্জাতিক সাদা বলের ক্রিকেটে এখনো অভিষেক না হওয়া এই ব্যাটারকে চলতি মৌসুমে দুর্দান্ত ফর্মের কারণে জাতীয় দলে ফেরানো হয়েছে।

হেডিংলিতে চোট, এরপরই ছিটকে গেলেন বাটলার

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ব্যাট করার সময় রান নিতে গিয়ে বাঁ হ্যামস্ট্রিংয়ে সমস্যা অনুভব করেন বাটলার। চোট পাওয়ার পর ফিজিওর কাছ থেকে চিকিৎসাও নেন তিনি।

এরপর কিছুক্ষণ ব্যাটিং চালিয়ে গেলেও স্বাভাবিকভাবে দৌড়াতে সমস্যা হচ্ছিল। শেষ পর্যন্ত ৬৯ রানের ইনিংস খেলে মাঠ ছাড়েন ইংল্যান্ডের অধিনায়ক।

তার ইনিংসটি ছিল গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘ সময় পর ওয়ানডেতে বাটলারের ব্যাটে বড় রানের দেখা মিলেছিল। তবে তার ব্যক্তিগত ইনিংস ইংল্যান্ডকে ম্যাচ জেতাতে পারেনি। শেষ পর্যন্ত ১৬ রানে হেরে যায় স্বাগতিকরা।

এই পরাজয়ের ফলে সিরিজের ভাগ্য এখন তৃতীয় ম্যাচের ওপর নির্ভর করছে। এমন গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে অধিনায়ককে হারানো ইংল্যান্ডের জন্য বড় ধাক্কা।

চোটের মাত্রা জানতে হবে আরও পরীক্ষা

বাটলারের চোট কতটা গুরুতর, তা এখনো নিশ্চিত নয়। ইংল্যান্ডের মেডিকেল টিম তার অবস্থা পর্যবেক্ষণ করছে।

আগামী সপ্তাহের শুরুতে এমআরআই স্ক্যান করার পর চোটের প্রকৃতি ও পুনর্বাসনের সময় সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যাবে। ফলে শুধু শ্রীলঙ্কা সিরিজ নয়, সামনে থাকা ইংল্যান্ডের অন্যান্য ম্যাচ নিয়েও কিছুটা অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

বাটলার সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বেশ কয়েকবার সফট-টিস্যু ইনজুরিতে ভুগেছেন। হ্যামস্ট্রিংয়ের একই ধরনের সমস্যা এর আগেও তার ক্যারিয়ারে দেখা গেছে। ফলে এবারও ইংল্যান্ড টিম ম্যানেজমেন্ট তাকে নিয়ে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করছে।

কক্সের সামনে বড় সুযোগ

বাটলারের অনুপস্থিতিতে জর্ডান কক্সের সামনে জাতীয় দলে নিজের অবস্থান শক্ত করার সুযোগ তৈরি হয়েছে। সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচে খেললে এটি হবে তার ক্যারিয়ারের মাত্র চতুর্থ ওয়ানডে।

বাটলারের জায়গায় শুধু ব্যাটিং নয়, উইকেটের পেছনেও দায়িত্ব নিতে হবে কক্সকে। ইংল্যান্ডের নতুন সাদা বলের পরিকল্পনায় তার মতো তরুণ ক্রিকেটারদের প্রস্তুত রাখা যে গুরুত্বপূর্ণ, সেটিও এই পরিস্থিতিতে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

টম ব্যান্টনও উইকেটকিপিংয়ের বিকল্প হিসেবে দলের সঙ্গে রয়েছেন। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে কক্সের একাদশে থাকার সম্ভাবনাই বেশি।

নতুন মুখ লরেন্স

বাটলারের চোট ইংল্যান্ডের জন্য যেমন সমস্যা তৈরি করেছে, তেমনি ড্যান লরেন্সের জন্য খুলে দিয়েছে জাতীয় দলে সুযোগের দরজা।

লরেন্স এখন পর্যন্ত ইংল্যান্ডের হয়ে টেস্ট ক্রিকেট খেললেও সাদা বলের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তার অভিষেক হয়নি। ২০২১ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে ইংল্যান্ডের ওয়ানডে স্কোয়াডে ডাক পেলেও সেবার কোনো ম্যাচ খেলার সুযোগ পাননি তিনি।

এবার পরিস্থিতি ভিন্ন। বর্তমান ফর্ম ও দলের প্রয়োজন—দুই দিক বিবেচনায় লরেন্সের সামনে আন্তর্জাতিক ওয়ানডেতে অভিষেকের সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে।

কাউন্টিতে দুর্দান্ত ছন্দে লরেন্স

ইংল্যান্ড দলে ডাক পাওয়ার ঠিক আগেই কাউন্টি ক্রিকেটে দুর্দান্ত একটি ইনিংস খেলেছেন লরেন্স। সারির হয়ে সমারসেটের বিপক্ষে কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপের ম্যাচে বৃহস্পতিবার তিনি সেঞ্চুরি করেন।

এটি চলতি মৌসুমে তার ষষ্ঠ শতক। জাতীয় দলের ডাক পাওয়ার পর কাউন্টি ম্যাচ থেকে তাকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং শনিবার দ্য ওভালে ইংল্যান্ড দলের সঙ্গে অনুশীলনে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে তার।

লরেন্সের সাম্প্রতিক ফর্মই ইংল্যান্ডের নির্বাচকদের নজর কাড়ার অন্যতম কারণ। এখন সেই পারফরম্যান্স আন্তর্জাতিক মঞ্চে কাজে লাগানোর সুযোগ তার সামনে।

সিরিজের সমীকরণে বাড়তি গুরুত্ব

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজের প্রথম ম্যাচে ইংল্যান্ড জয় পেয়েছিল। দ্বিতীয় ম্যাচে শ্রীলঙ্কার কাছে ১৬ রানে হেরে যাওয়ায় সিরিজে সমতা ফিরে আসে।

ফলে তৃতীয় ওয়ানডেটিই এখন সিরিজের নিষ্পত্তি করবে। এমন ম্যাচে অধিনায়ক বাটলারের অনুপস্থিতি ইংল্যান্ডের জন্য বাড়তি চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।

বাটলার শুধু দলের অধিনায়কই নন, দীর্ঘদিন ধরে ইংল্যান্ডের সীমিত ওভারের ক্রিকেটের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ব্যাটার ও উইকেটকিপার। তার জায়গা পূরণ করা তাই সহজ হবে না।

ইনজুরি থেকেই তৈরি হচ্ছে নতুন সুযোগ

ইংল্যান্ডের নতুন সাদা বলের ব্যবস্থাপনায় বেঞ্চের শক্তি বাড়ানোর বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে। বাটলারের চোট সেই প্রয়োজনীয়তাকে আরও সামনে এনেছে।

ইংল্যান্ডের সাদা বলের দলের নতুন মেন্টর কেভিন পিটারসেনও সম্প্রতি জানিয়েছিলেন, গুরুত্বপূর্ণ সময়ে প্রথম সারির কোনো খেলোয়াড় না থাকলে বিকল্প ক্রিকেটারদের প্রস্তুত থাকা প্রয়োজন। সেই পরিকল্পনার বাস্তব পরীক্ষা হতে যাচ্ছে দ্য ওভালে।

জর্ডান কক্স, ড্যান লরেন্সসহ অপেক্ষায় থাকা ক্রিকেটারদের জন্য তাই ম্যাচটি নিজেদের সামর্থ্য দেখানোর বড় সুযোগ।

নজর থাকবে দ্য ওভালে

একদিকে সিরিজ জয়ের লক্ষ্য, অন্যদিকে অধিনায়ক ও অভিজ্ঞ ব্যাটারকে ছাড়া মাঠে নামার চ্যালেঞ্জ—দুই পরিস্থিতি সামলাতে হবে ইংল্যান্ডকে।

শ্রীলঙ্কাও দ্বিতীয় ম্যাচের জয় থেকে আত্মবিশ্বাস নিয়ে মাঠে নামবে। ফলে তৃতীয় ওয়ানডেতে দুই দলের লড়াই শুধু সিরিজের ফল নির্ধারণ করবে না, ইংল্যান্ডের বিকল্প ক্রিকেটারদের সামর্থ্য যাচাইয়ের ক্ষেত্রও হয়ে উঠতে পারে।

বাটলারের চোট কতটা গুরুতর, কক্স কীভাবে উইকেটের পেছনে দায়িত্ব সামলান এবং লরেন্স আন্তর্জাতিক সাদা বলের ক্রিকেটে অভিষেকের সুযোগ পান কি না—এই তিন বিষয়ই এখন ইংল্যান্ডের ক্রিকেটে সবচেয়ে বেশি আলোচনায়।

spot_imgspot_img
spot_img

Related Articles