উয়েফা নেশন্স লিগের নতুন মৌসুমে জয় দিয়ে যাত্রা শুরু করেছে ক্রোয়েশিয়া। লিগ ‘এ’-এর গ্রুপ ৩-এর ম্যাচে প্রাগের ফর্তুনা অ্যারেনায় স্বাগতিক চেকিয়াকে ২-১ গোলে হারিয়েছে তারা।
ম্যাচে প্রথমে গোল করে ক্রোয়েশিয়া। পরে আদাম কারাবেকের গোলে সমতায় ফেরে চেকিয়া। শেষ পর্যন্ত বদলি হিসেবে নামা মার্কো পাসালিচের গোলে পূর্ণ তিন পয়েন্ট নিশ্চিত করে সফরকারীরা।
গোলশূন্য প্রথমার্ধ
ম্যাচের শুরু থেকেই বলের নিয়ন্ত্রণ ও আক্রমণে কিছুটা এগিয়ে ছিল ক্রোয়েশিয়া। প্রথমার্ধে চেকিয়াকে নিজেদের বক্সের বাইরে রাখতে সক্ষম হয় তারা। বিরতিতে যাওয়ার আগে ক্রোয়েশিয়া মোট নয়টি শট নেয়, যেখানে চেকিয়ার কোনো শটই লক্ষ্যে ছিল না।
তবে গোলের দেখা পেতে দ্বিতীয়ার্ধ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়।
মদ্রিচের গোলে এগিয়ে ক্রোয়েশিয়া
বিরতির পর মাত্র দুই মিনিটের মধ্যেই এগিয়ে যায় ক্রোয়েশিয়া। চেকিয়ার রক্ষণে চাপ তৈরি করে বল দখলে নেওয়ার পর ইগর মাতানোভিচ সেটি বাড়িয়ে দেন লুকা মদ্রিচের দিকে।
অভিজ্ঞ এই মিডফিল্ডার সুযোগটি কাজে লাগিয়ে ডান পায়ের শটে বল জালে পাঠান। ৪৭ মিনিটে করা এই গোলে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় ক্রোয়েশিয়া।
দ্রুত সমতায় চেকিয়া
গোল হজমের পর বেশিক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়নি স্বাগতিকদের। ৫৪ মিনিটে অ্যাডাম হ্লোজেকের কাছ থেকে বল পেয়ে অ্যাডাম কারাবেক নিচু শটে গোল করেন।
তার গোলে ম্যাচের স্কোর ১-১ হয়ে যায় এবং লড়াই আবারও জমে ওঠে।
বদলির পর ম্যাচের মোড় ঘোরে
সমতা ফেরার পর ক্রোয়েশিয়ার কোচ বেঞ্চ থেকে একাধিক খেলোয়াড়কে মাঠে নামান। ৬৩ মিনিটে আন্তে বুদিমির, মারিও পাসালিচ ও মার্কো পাসালিচ মাঠে নামার পর ক্রোয়েশিয়ার আক্রমণে নতুন গতি দেখা যায়।
শেষ পর্যন্ত এই পরিবর্তনের সুফলও পায় দলটি। ৭৭ মিনিটে বাঁ দিক থেকে ইভান পেরিসিচের নিখুঁত ক্রসে মার্কো পাসালিচ কাছ থেকে হেড করে বল জালে পাঠান।
এই গোলেই আবার এগিয়ে যায় ক্রোয়েশিয়া এবং শেষ পর্যন্ত ২-১ ব্যবধান ধরে রেখে মাঠ ছাড়ে তারা।
পরিসংখ্যানে স্পষ্ট ক্রোয়েশিয়ার আধিপত্য
ম্যাচের সামগ্রিক পরিসংখ্যানও ক্রোয়েশিয়ার আধিপত্যের চিত্র তুলে ধরে। বল দখলে তারা এগিয়ে ছিল ৫৬ শতাংশ। মোট শটেও বড় ব্যবধান ছিল। ক্রোয়েশিয়া যেখানে ১৬টি শট নিয়েছে সেখানে চেকিয়ার শট ছিলো মাত্র ৫টি।
লক্ষ্যে শটের হিসাব ছিল ৫-২। গোলের সম্ভাবনাও তুলনামূলক বেশি তৈরি করেছে ক্রোয়েশিয়া। ম্যাচের প্রত্যাশিত গোল বা xG ছিল ক্রোয়েশিয়ার ১.৭৮, বিপরীতে চেকিয়ার ০.৯৯।
ক্রোয়েশিয়া প্রতিপক্ষের বক্সের ভেতরে ১২টি শট নেওয়ার সুযোগ তৈরি করেছিল, যেখানে চেকিয়ার ছিল মাত্র চারটি। কর্নারেও এগিয়ে ছিল সফরকারীরা—৬-১।
আক্রমণ তৈরিতেও এগিয়ে ক্রোয়েশিয়া
মাঠের শেষ তৃতীয়াংশে বল নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রেও ক্রোয়েশিয়ার আধিপত্য ছিল স্পষ্ট। ফাইনাল থার্ডে প্রবেশের সংখ্যা ছিল ৭৩, চেকিয়ার ৩২।
পাসিংয়েও এগিয়ে ছিল ক্রোয়েশিয়া। তারা ৫৬৪টি পাসের মধ্যে ৪৯০টি সফলভাবে সম্পন্ন করে। চেকিয়া ৪৫০ পাসের মধ্যে সফল করে ৩৮০টি।
প্রতিপক্ষের বক্সে ক্রোয়েশিয়ার খেলোয়াড়দের স্পর্শের সংখ্যা ছিল ২৭, যেখানে চেকিয়ার ছিল মাত্র ৮।
শারীরিক লড়াইয়ে এগিয়ে চেকিয়া
তবে সব পরিসংখ্যানে ক্রোয়েশিয়া এগিয়ে ছিল না। শারীরিক দ্বৈরথে বরং স্বাগতিকরা এগিয়ে ছিল। মোট ডুয়েলের ৫৪ শতাংশ জিতেছে চেকিয়া।
ড্রিবলিংয়েও তারা কার্যকর ছিল। ১১টি ড্রিবলের মধ্যে ৯টি সফল হয়েছে। আকাশপথের লড়াইয়েও ৫৬ শতাংশ সাফল্য পেয়েছে স্বাগতিক দল।
চেকিয়ার রক্ষণকে অবশ্য ম্যাচজুড়ে অনেক চাপ সামলাতে হয়েছে। তারা ৪১টি ক্লিয়ারেন্স করেছে, যেখানে ক্রোয়েশিয়ার ক্লিয়ারেন্স ছিল মাত্র ১০টি।
গোলরক্ষকদের পারফরম্যান্স
চেকিয়ার গোলরক্ষক লুকাশ হর্নিচেক বেশ কয়েকবার দলকে বিপদ থেকে রক্ষা করেন। তিনি চারটি সেভ করার পাশাপাশি দুইবার মুষ্টি দিয়ে বল সরিয়ে দেন।
অন্যদিকে ক্রোয়েশিয়ার গোলরক্ষক ডমিনিক লিভাকোভিচকে তুলনামূলক কম পরীক্ষা দিতে হয়েছে। তার সেভ ছিল একটি।
চেকিয়ার দুটি ভুল সরাসরি গোলের সুযোগ তৈরিতে ভূমিকা রাখে, বিপরীতে ক্রোয়েশিয়ার এমন ভুল ছিল একটি। শেষ পর্যন্ত এই ছোট ছোট পার্থক্যই স্কোরলাইনে বড় প্রভাব ফেলে।
জয়ের ফলে নেশনস লিগের লিগ ‘এ’-এর গ্রুপ ৩-এ পূর্ণ তিন পয়েন্ট নিয়ে শুরু করল ক্রোয়েশিয়া। অন্যদিকে ঘরের মাঠে ভালো লড়াই করেও হার দিয়ে অভিযান শুরু করতে হলো চেকিয়াকে।


