উয়েফা নেশন্স লিগে রোববার রাতে মুখোমুখি হচ্ছে নরওয়ে ও পর্তুগাল। লিগ ‘এ’-এর গ্রুপ ৪-এর এই ম্যাচ ঘিরে ফুটবলপ্রেমীদের আগ্রহের অন্যতম কারণ দুই দলের দুই তারকা – আর্লিং হালান্ড ও ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো।
আন্তর্জাতিক বিরতিতে নিজেদের প্রথম ম্যাচে জয় পেয়েছে দুই দলই। ফলে দ্বিতীয় ম্যাচেও জয়ের ধারাবাহিকতা ধরে রাখার লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামবে তারা। নরওয়ের উল্লেভাল স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে ম্যাচটি।
জয়ের আত্মবিশ্বাসে নরওয়ে
বৃহস্পতিবার ডেনমার্কের বিপক্ষে ৩-২ গোলের রোমাঞ্চকর জয় পেয়েছে নরওয়ে। ম্যাচে জোড়া গোল করে দলের জয়ে বড় ভূমিকা রাখেন হালান্ড। বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনাল পর্যন্ত যাওয়া নরওয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবলে নিজেদের অবস্থান শক্ত করেছে। ঘরের মাঠে সাম্প্রতিক সময়ের পারফরম্যান্সও তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়াচ্ছে।
নিজেদের মাঠে শেষ ১৪ ম্যাচে অপরাজিত নরওয়ে। সর্বশেষ ২০২৪ সালের মার্চে চেকিয়ার কাছে ২-১ গোলে হেরেছিল তারা।
পর্তুগালের শুরুটাও জয় দিয়ে
নতুন কোচ জর্জ জেসুসের অধীনে প্রথম ম্যাচে ওয়েলসকে ১-০ গোলে হারিয়েছে পর্তুগাল। ম্যাচের একমাত্র গোলটি করেন জোয়াও ফেলিক্স। তবে জয় পেলেও পর্তুগালের পারফরম্যান্স নিয়ে খুব বেশি সন্তুষ্ট হওয়ার সুযোগ নেই। নতুন কোচের অধীনে দলটি এখনও নিজেদের কাঙ্ক্ষিত ছন্দ খুঁজছে।
বিশ্বকাপেও প্রত্যাশা অনুযায়ী পারফর্ম করতে পারেনি পর্তুগাল। শেষ পর্যন্ত চ্যাম্পিয়ন স্পেনের কাছে হেরে বিদায় নিতে হয়েছিল তাদের।
আবারও আলোচনায় হালান্ড-রোনালদো
নরওয়ের আক্রমণের মূল ভরসা হালান্ড। ডেনমার্কের বিপক্ষে জোড়া গোলের পর পর্তুগালের বিপক্ষেও তার দিকে থাকবে বিশেষ নজর। মিডফিল্ডে আর্সেনালের অধিনায়ক মার্টিন ওডেগার্ডের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। ডেনমার্কের বিপক্ষে দুটি অ্যাসিস্ট করা এই মিডফিল্ডারই হালান্ডের কাছে বল পৌঁছে দেওয়ার অন্যতম প্রধান দায়িত্ব পালন করবেন।
অন্যদিকে পর্তুগালের আক্রমণভাগে থাকবেন অভিজ্ঞ ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। জাতীয় দলের হয়ে এটি হতে পারে তার ২৩৫তম উপস্থিতি। তবে ওয়েলসের বিপক্ষে রোনালদো খুব বেশি প্রভাব ফেলতে পারেননি। নরওয়ের শক্তিশালী রক্ষণ ভাঙতে এবার তার অভিজ্ঞতা কতটা কাজে আসে, সেটিই দেখার বিষয়।
মুখোমুখি পরিসংখ্যানে এগিয়ে পর্তুগাল
নরওয়ে ও পর্তুগাল এর আগে ১১ বার মুখোমুখি হয়েছে। সেই লড়াইয়ে নরওয়ের জয় মাত্র একটি। ২০১০ সালে পর্তুগালের বিপক্ষে সেই একমাত্র জয় পেয়েছিল নরওয়ে। এরিক হুসেক্লেপের গোলে ১-০ ব্যবধানে জিতেছিল তারা।
সর্বশেষ দুই দলের দেখা হয়েছিল ২০১৬ ইউরো শুরুর আগে একটি প্রস্তুতি ম্যাচে। সেবার ৩-০ গোলে জয় পেয়েছিল পর্তুগাল। তবে এক দশকেরও বেশি সময় পর আবার মুখোমুখি হওয়া দুই দলের বর্তমান পরিস্থিতি অনেকটাই আলাদা।
নরওয়ের সম্ভাব্য একাদশ
ডেনমার্কের বিপক্ষে খেলা একাদশে বড় পরিবর্তন না আনার সম্ভাবনা রয়েছে নরওয়ের কোচ স্তালে সোলবাকেনের। তবে ডেভিড মোলার উলফে থাকছেন না। ডেনমার্কের বিপক্ষে বদলি হিসেবে নেমে দুটি হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়ায় নিষেধাজ্ঞায় রয়েছেন তিনি। সম্ভাব্য একাদশ: নিয়ল্যান্ড; রিয়েরসন, আয়ের, হেগেম, অরসনেস; ওডেগার্ড, বের্গে, প্যাট্রিক বের্গ; বব, হালান্ড, নুসা।
পর্তুগালেও আক্রমণে রোনালদো
ওয়েলসের বিপক্ষে জয় পাওয়া দল থেকে একটি পরিবর্তনের সম্ভাবনা রয়েছে পর্তুগালের। জোয়াও নেভেস মাঝমাঠে রুবেন নেভেসের জায়গায় সুযোগ পেতে পারেন।আক্রমণে রোনালদোর সঙ্গে থাকবেন পেদ্রো নেতো ও জোয়াও ফেলিক্স। মাঝমাঠে সৃজনশীলতার দায়িত্ব থাকবে ব্রুনো ফার্নান্দেসের ওপর।
সম্ভাব্য একাদশ: কস্তা; কানসেলো, দিয়াস, ভেইগা, নুনো মেন্দেস; জোয়াও নেভেস, ভিতিনিয়া, ব্রুনো ফার্নান্দেস; নেতো, রোনালদো, ফেলিক্স।
নরওয়ের ঘরের মাঠের রেকর্ড বনাম পর্তুগালের অভিজ্ঞতা
ম্যাচের অন্যতম আকর্ষণ হবে নরওয়ের দুর্দান্ত হোম রেকর্ড এবং পর্তুগালের অভিজ্ঞ স্কোয়াডের মুখোমুখি সংঘর্ষ। একদিকে হালান্ড-ওডেগার্ডদের নেতৃত্বে নরওয়ে দ্রুতগতির আক্রমণ গড়ে তুলতে চাইবে। অন্যদিকে রোনালদো, ব্রুনো ফার্নান্দেস ও ফেলিক্সকে ঘিরে পর্তুগাল নিজেদের আক্রমণ সাজাবে।
দুই দলের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স বিবেচনায় ম্যাচটি বেশ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। গ্রুপে শুরুটা জয় দিয়ে করা দুই দলই দ্বিতীয় ম্যাচে আরও তিন পয়েন্ট তুলে নেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামবে।
- ম্যাচ: নরওয়ে বনাম পর্তুগাল
- ভেন্যু: উল্লেভাল স্টেডিয়াম, অসলো
- তারিখ: ২৭ সেপ্টেম্বর, রোববার
- কিক-অফ: বাংলাদেশ সময় রাত ১২টা ৪৫ মিনিট




