ভারতের তারকা ব্যাটার বিরাট কোহলি আইসিসি পুরুষদের ওয়ানডে ব্যাটির্য শীর্ষে থাকা সতীর্থ ও অধিনায়ক শুভমান গিলের আরও কাছে চলে এসেছেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডে ম্যাচে উভয়ে সেঞ্চুরি করলেও অপরাজিত ইনিংস খেলার কারণে র্যাঙ্কিংয়ে বড় অগ্রগতি হয়েছে কোহলির।
রোববার তিরুবনন্তপুরমে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ২৯৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে মাত্র ৫০ বল হাতে রেখেই জয় পায় ভারত। সেই জয়ে কোহলির অবদান ছিল ৮৮ বলে অপরাজিত ১৩৯ রান। এই ইনিংসের মাধ্যমে ওয়ানডেতে ১৫ হাজার রানের মাইলফলকও অতিক্রম করেন তিনি। একই সঙ্গে এটি ছিল কোহলির ৫৫তম ওয়ানডে সেঞ্চুরি।
এই দুর্দান্ত ইনিংসের ফলে কোহলি নিউজিল্যান্ডের ড্যারিল মিচেলকে টপকে ব্যাটিং র্যাঙ্কিংয়ের দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছেন। তার রেটিং পয়েন্ট বেড়ে ৭৬৭ থেকে ৭৯৬- উন্নিত হয়েছে। অন্যদিকে শুভমান গিল তার ১১০ রানের ইনিংসের সুবাদে রেটিং পয়েন্ট ৮০১ থেকে ৮১৬ তে নিয়ে গেছেন। ফলে দুজনের ব্যবধান এখন মাত্র ২০ রেটিং পয়েন্ট।
ম্যাচের আগে গিলের সঙ্গে কোহলির ব্যবধান ছিল ৩৪ পয়েন্ট। এক ম্যাচেই কোহলি সেই ব্যবধান ১৪ পয়েন্ট কমিয়ে এনেছেন। ২০২২ সালের জুলাইয়ের পর এটাই কোহলির সর্বোচ্চ রেটিং পয়েন্ট।
ওয়ানডে র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষস্থান দখলের লড়াইয়ে কোহলি নতুন করে এগিয়ে এসেছেন। চলতি বছরের জানুয়ারিতে তিন দিনের জন্য তিনি র্যাঙ্কিংয়ে তিন নম্বরে ছিলেন। এর আগে ওয়ানডেতে মোট ১,৫৪৭ দিন এক নম্বর ব্যাটার হিসেবে কাটিয়েছেন কোহলি। এই তালিকায় তার চেয়ে বেশি সময় শীর্ষে ছিলেন কেবল ওয়েস্ট ইন্ডিজের দুই কিংবদন্তি স্যার ভিভিয়ান রিচার্ডস ও ব্রায়ান লারা।
ব্যান্টনের বড় লাফ
ইংল্যান্ডের ওপেনার টম ব্যান্টনও সর্বশেষ র্যাঙ্কিংয়ে বড় অগ্রগতি করেছেন। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ওয়ানডেতে ১০৫ বলে ১২৬ রান করে ম্যাচসেরা হন তিনি। এই পারফরম্যান্সের সুবাদে র্যাঙ্কিংয়ে এক লাফে ৩৩৩ ধাপ এগিয়ে ৮৩তম স্থানে উঠে এসেছেন ব্যান্টন।
শ্রীলঙ্কার কুশল মেন্ডিস তিন ম্যাচের সিরিজে মোট ১৯৮ রান করে ক্যারিয়ারসেরা সপ্তম স্থানে উঠেছেন। ইংল্যান্ডের বেন ডাকেট চার ধাপ এগিয়ে ১৫তম অবস্থানে রয়েছেন।
সর্বশেষ সাপ্তাহিক হালনাগাদে তিরুবনন্তপুরমের ম্যাচের পাশাপাশি ইংল্যান্ড-শ্রীলঙ্কা সিরিজের শেষ দুই ম্যাচ এবং দক্ষিণ আফ্রিকা-অস্ট্রেলিয়া সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচের পারফরম্যান্স বিবেচনা করা হয়েছে।
দক্ষিণ আফ্রিকার ম্যাথিউ ব্রিটজকে সিরিজের প্রথম ম্যাচে সেঞ্চুরিসহ মোট ১৩৬ রান করেছেন। যা তাকে ১৯ ধাপ এগিয়ে র্যাঙ্কিংয়ের ২১তম স্থানে নিয়ে গেছে। জোহানেসবার্গে সেঞ্চুরিসহ ১৫১ রান করা ডেভিড মিলারও র্যাঙ্কিংয়ে ফিরেছেন ৪১তম অবস্থানে।
দক্ষিণ আফ্রিকার অধিনায়ক টেম্বা বাভুমাও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে সেঞ্চুরি করেছেন। দক্ষিণ আফ্রিকা তিন ম্যাচের সিরিজে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যাওয়ার ম্যাচটিতে তার শতরানের সুবাদে তিনি ১০ ধাপ এগিয়ে ৩২তম স্থানে উঠেছেন। এ ছাড়া ইংল্যান্ডের উইল জ্যাকস ছয় ধাপ এগিয়ে ৭১তম এবং দক্ষিণ আফ্রিকার মার্কো ইয়ানসেন ৪২ ধাপ এগিয়ে ৮৭তম স্থানে উঠে এসেছেন।
বোলিং র্যাঙ্কিংয়েও বড় পরিবর্তন
আইসিসি পুরুষদের ওয়ানডে বোলিং র্যাঙ্কিংয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার বাঁহাতি স্পিনার কেশব মহারাজ এবং ভারতের কুলদীপ যাদবও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি করেছেন।
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দুই ওয়ানডে ম্যাচে ছয় উইকেট নেয়া মহারাজ তিন ধাপ এগিয়ে তৃতীয় স্থানে উঠেছেন। তিরুবনন্তপুরমে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ৪০ রানে চার উইকেট নেওয়া কুলদীপ যাদব চার ধাপ এগিয়ে পঞ্চম অবস্থানে উঠে এসেছেন।
অস্ট্রেলিয়ার জশ হ্যাজেলউডও আবার বোলিং র্যাঙ্কিংয়ের সেরা দশে ফিরেছেন। ওয়ান্ডারার্সে তিন উইকেট নেওয়ার পর তিনি শীর্ষ ১০-এ জায়গা করে নেয়েছেন।
অস্ট্রেলিয়ার আরেক বোলার নাথান এলিস দুই ধাপ এগিয়ে ১৫তম স্থানে উঠেছেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের জেইডেন সিলস চার ধাপ এগিয়ে ২২তম, শ্রীলঙ্কার দুনিথ ওয়েল্লালাগে ১২ ধাপ এগিয়ে ২৬তম এবং ভারতের এম. প্রসিধ কৃষ্ণ ছয় ধাপ এগিয়ে ৪২তম অবস্থানে রয়েছেন।
সব মিলিয়ে, সর্বশেষ র্যাঙ্কিংয়ে তাই ব্যাটিংয়ে কোহলির শীর্ষস্থান পুনরুদ্ধারের লড়াই যেমন নতুন মাত্রা পেয়েছে, তেমনি বোলিং তালিকাতেও মহারাজ ও কুলদীপের উত্থান উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এনেছে।




