বিদায়টা এমনই হওয়ার কথা ছিল। যে মানুষটি আর্জেন্টিনার ফুটবলের সবচেয়ে উজ্জ্বল অধ্যায়গুলোর একটি লিখেছেন, তাঁর শেষটাও হলো গোল আর জয়ের গল্প দিয়ে। বুয়েনস এইরেসে বেনিনকে ৩-০ গোলে হারানোর ম্যাচে গোল করেছেন লিওনেল মেসি। আর্জেন্টিনার জার্সিতে এটাই তাঁর শেষ ম্যাচ।
বিশ্বকাপের ফাইনালে হারের পর আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছিলেন মেসি। এরপর তাঁকে ক্যারিয়ার উদ্যাপনের এই প্রীতি ম্যাচে অংশ নেওয়ার আমন্ত্রণ জানানো হয়। ২০২২ বিশ্বকাপজয়ী আর্জেন্টিনা দলের সতীর্থদেরও রাখা হয়েছিল বিশেষ এই আয়োজনে। মাঠে নেমেই অবশ্য মেসি বুঝিয়ে দিয়েছেন, বিদায়ের রাতেও গোলের ক্ষুধা তাঁর এতটুকু কমেনি।
গোলশূন্য প্রথমার্ধ
ম্যাচের শুরু থেকেই গোলের সন্ধানে ছিলেন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক। সপ্তম মিনিটেই তাঁর শট ঠেকিয়ে দেন বেনিনের গোলরক্ষক মার্সেল দানজিনু। প্রথমার্ধে আরও কয়েকবার গোলের সুযোগ তৈরি করেছিলেন মেসি, কিন্তু কাঙ্ক্ষিত গোলটি আসেনি। উল্টো বেনিনও একবার আর্জেন্টিনাকে চমকে দেওয়ার কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল। আইয়েগুন তোসিনের ভলি অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়।
ওতামেন্দির গোল
প্রথমার্ধ গোলশূন্য থাকার পর দ্বিতীয়ার্ধেই খুলে যায় ম্যাচের দরজা। বিরতির মাত্র তিন মিনিট পর মেসির নেওয়া কর্নার থেকে বল বিপদমুক্ত করতে ব্যর্থ হয় বেনিনের রক্ষণ। সেই সুযোগে গোল করে আর্জেন্টিনাকে এগিয়ে দেন বিদায়ী আরেক তারকা নিকোলাস ওতামেন্দি। ৩৮ বছর বয়সী এই ডিফেন্ডারেরও এটি ছিল আর্জেন্টিনার জার্সিতে শেষ ম্যাচ। ফলে কিছুটা সময়ের জন্য মনে হচ্ছিল, মেসির বিদায়ী রাতের প্রধান চরিত্র বুঝি ওতামেন্দিই হয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু গল্প তখনো বাকি। ৬১ মিনিটে আর্জেন্টিনার ব্যবধান দ্বিগুণ করেন নিকো পাজ। বক্সের বাইরে থেকে তাঁর নেওয়া শট বেনিনের জালে জড়ালে স্বস্তি বাড়ে আর্জেন্টিনার।

মেসির গোল
এর ১০ মিনিট পর আসে সেই মুহূর্ত, যার অপেক্ষায় ছিল পুরো বুয়েনস এইরেস। আগুস্তিন গিয়াইকে বেনিনের তামিমু উওরোর অযত্নের ফাউলের পর পেনাল্টি পায় আর্জেন্টিনা। গোলরক্ষককে কোনো সুযোগ না দিয়ে স্পটকিক থেকে বল জালে পাঠিয়ে দেন তিনি। এটি মেসির ১২৬তম আন্তর্জাতিক গোল। আর আর্জেন্টিনার হয়ে শেষ।মেসির জন্য এর চেয়ে সুন্দর বিদায় আর কী-ই বা হতে পারত!
আর্জেন্টিনার হয়ে মেসির আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার থামল ২০৮ ম্যাচে। জাতীয় দলের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলার রেকর্ড এখন তাঁর। গোলও সবচেয়ে বেশি-১২৬টি। তিনিই একমাত্র ফুটবলার, যিনি তিনটি বিশ্বকাপের ফাইনালে শুরু থেকে মাঠে নেমেছেন।
আটবারের ব্যালন ডি’অর জয়ী মেসির বিদায়ী ম্যাচে শেষ বাঁশির পর আবেগ সামলাতে পারেনি বুয়েনস এইরেসের গ্যালারিও। দীর্ঘ আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে যে মানুষটি আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপ জিতিয়েছেন, অসংখ্য রাতকে করেছেন স্মরণীয়, তাঁর শেষটাও তাই হয়ে থাকল স্মৃতির পাতায় লেখা এক রূপকথা।


