পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলকে বিদায় করে কোয়ার্টার ফাইনালে নাম লিখিয়েছিল নরওয়ে। ম্যাচটিতে জোড়া গোল করেছিলেন আর্লিং হালান্ড। তার দুই গোলেই বিদায় হয়েছিল ব্রাজিলের। সেমিফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে সেই হালান্ড ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ছিলেন নিষ্প্রভ। আর তাতেই শেষ হয়ে গেছে বিশ্বকাপ ফুটবলে নরওয়ের রূপকথার পথচলা।
জুডে বেলিংহামের জোড়া গোলে নরওয়েকে ২-১ গোলে হারিয়ে ইংল্যান্ড পৌঁছে গেছে সেমিফাইনালে। এ নিয়ে চুতর্থবারের মতো ইংল্যান্ড বিশ্বকাপ ফুটবলের শেষ চারে পৌঁছালো।
দুর্ভাগ্য নরওয়ের। আগে গোল করেও জয়ের দেখা পেল না। ৩৬ মিনিটে আন্দ্রেস গোল করে নরওয়েকে এগিয়ে নিয়েছিলেন। তার এ গোলই নরওয়ে স্বপ্ন দেখছিল সেমিফাইনালের। সেই স্বপ্ন আর বাস্তবে রূপ নেয়নি। বরং যোগ্য দল হিসেবে ১৯৬৬ সালের চ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ড শেষ চারে পৌঁছেছে।
শুরু থেকেই ইংল্যান্ডের আধিপত্য
ম্যাচের শুরু থেকেই আধিপত্য ছিল টমাস টুখেলের প্রশিক্ষণাধীন দল ইংল্যান্ডের। সুযোগও আসছিল, তবে সেগুলো বাস্তবে রূপ দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছিল। তার মাঝে নরওয়ে গোল করে এগিয়ে যায়। ব্যবধান দ্বিগুন করারও সুযোগ পেয়েছিল দলটি। ৪০ মিনিটের সময় পাওয়া সুযোগটি আলেক্সান্দার সোরলোথের স্বার্থপরতার কারণে কাজে লাগাতে পারেনি নরওয়ে। ফাঁকায় থাকা আর্লিং হালান্ডকে বল না দিয়ে নিজেই লক্ষ্যভেদ করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তা হয়নি, ফলে ব্যবধান তো বাড়ানো হয়নি, বরং ইংল্যান্ডকে ম্যাচ ফেরার সুযোগ করে দেয় সোরলোথের সেই ব্যর্থতা। বিরতির আগে দারুণ এক প্রতি আক্রমণ থেকে গোল করে সমতা ফেরায় ইংল্যান্ড। চমৎকার এক পরিকল্পিত আক্রমণ থেকে জুডে বেলিংহাম নিঁখুত শটে গোল করেন। বিশ্বকাপে এটা ছিল তার পঞ্চম গোল।

অতিরিক্ত সময়ের শুরুতেই গোল
নির্ধারিত সময়ের খেলা ১-১ গোলেে শেষ হয়। অতিরিক্ত সময়ের শুরুতেই বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কোটি কোটি সমর্থকদের আবার চমক দেন বেলিংহাম। আবার গোল করেছেন বেলিংহাম। ম্যাচের বয়স তখন ৯৩ মিনিট। এ সময়ে গোল হজম করলে তা ফিরিয়ে দেওয়া যে কোনো দলের জন্য কঠিন। নরওয়ের বেলায়ও তার ব্যতিক্রম হয়নি। গোল ফিরিয়ে দিতে পারেনি তারা। ফলে শেষ হয়ে যায় তাদের রূপকথার পথচলা।
বেলিংহামের জয়সূচক গোলটি ছিল এবারের বিশ্বকাপে তার ষষ্ঠ গোল। গোল্ডেন বুট জয়ের দৌড়ে ভালোভাবে টিকে আছেন তিনি। তারওপরে আছেন লিওনেল মেসি ও কিলিয়ান এমবাপে। উভয়েই আটটি করে গোল করেছেন। তারপরেই আছেন আর্লিং হালান্ড। সাত গোল তার। এরপরেই জুডে বেলিংহাম।


