বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ের পর শেষ পর্যন্ত সেমিফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে আর্জেন্টিনা। নির্ধারিত ৯০ মিনিটে ১-১ গোলে সমতায় থাকা ম্যাচে অতিরিক্ত সময়ে দুর্দান্ত ফুটবল উপহার দিয়ে সুইজারল্যান্ডকে ৩-১ গোলে হারিয়েছে আলবিসেলেস্তেরা। এই জয়ে শিরোপার পথে আরেকটি কঠিন বাধা পেরিয়ে শেষ চারের টিকিট নিশ্চিত করেছে আর্জেন্টিনা।
সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনা খেলবে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে। অন্য সেমিতে মুখোমুখি হবে ইউরোপের দুই পরাশক্তি স্পেন ও ফ্রান্স।
শুরুতে সতর্ক ফুটবল
ম্যাচের শুরু থেকেই দুই দলই সতর্ক ফুটবল খেলেছে। সুইজারল্যান্ডের সংগঠিত রক্ষণ আর আর্জেন্টিনার ধারালো আক্রমণের লড়াইয়ে নির্ধারিত সময়জুড়ে ছিল টানটান উত্তেজনা। দুই দলই একটি করে গোল করায় ৯০ মিনিট শেষে স্কোরলাইন দাঁড়ায় ১-১। ফলে ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। লিওনেল মেসির কর্নার কিক থেকে হেড করে অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার দশম মিনিটে দলকে এগিয়ে নিয়েছিলেন। ৬৭ মিনিটে ড্যান এনদোয়ে গোল পরিশোধ করেন।

তবে ম্যাচের মোড় ঘুরে যায় ৭৮তম মিনিটে। ফাউলের শিকার হওয়ার অভিনয়ের কারণে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন সুইজারল্যান্ডের ব্রিল এম্বোলো। এরপর থেকে ১০ জন নিয়ে খেলতে বাধ্য হয় ইউরোপের দলটি। সংখ্যাগত এই সুবিধা কাজে লাগাতে শুরু করে আর্জেন্টিনা। নির্ধারিত সময়ে সুইসরা প্রতিরোধ গড়ে তুললেও অতিরিক্ত সময়ে সেই দেয়াল আর টিকিয়ে রাখতে পারেনি।
অতিরিক্ত সময়ে দুই গোল
অতিরিক্ত সময়ের শুরু থেকেই আক্রমণের ঝড় তোলে আর্জেন্টিনা। একের পর এক আক্রমণে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে সুইজারল্যান্ডের রক্ষণভাগ। শেষ পর্যন্ত আরও দুটি গোল করে ম্যাচ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসে লাতিন আমেরিকার দলটি। হুলিয়ান আলভারেজ দূর পাল্লার বাঁকানো শটে লক্ষ্যভেদ করে আর্জেন্টিনার সমর্থকদের স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলার সুযোগ করে দেন। শেষ বাঁশি বাজার আগে লাউতারো মার্টিনেজও স্কোরশিটে নাম লেখান।
এই জয়ের ফলে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে উঠল আর্জেন্টিনা। সেখানে তাদের প্রতিপক্ষ ইউরোপের আরেক শক্তিশালী দল ইংল্যান্ড। ফুটবল বিশ্বের অন্যতম আকর্ষণীয় এই দ্বৈরথ ঘিরে এখন থেকেই বাড়তে শুরু করেছে উত্তেজনা। ইতিহাস, ঐতিহ্য এবং বর্তমান ফর্ম- সব মিলিয়ে দুই দলের লড়াই হতে যাচ্ছে বিশ্বকাপের সবচেয়ে প্রতীক্ষিত ম্যাচগুলোর একটি।
অন্যদিকে, সাহসী লড়াই করেও সুইজারল্যান্ডের বিশ্বকাপ যাত্রা শেষ হলো শেষ আটেই। দীর্ঘ সময় সমানে সমান লড়াই করলেও একজন কম নিয়ে খেলার চাপ শেষ পর্যন্ত সামাল দিতে পারেনি তারা। আর সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে আর্জেন্টিনা আবারও প্রমাণ করল, নকআউট মঞ্চে সামান্য সুযোগ পেলেই তারা কতটা ভয়ংকর হয়ে উঠতে পারে।


