আফগানিস্তানের বিপক্ষে বড় লিডের পথে বাংলাদেশ

আবুধাবিতে আফগানিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টে জয়ের সুবাস পাচ্ছে বাংলাদেশ। হাসান মাহমুদের হ্যাটট্রিকসহ পাঁচ উইকেট এবং এবাদত হোসেনের চার উইকেটের পর ব্যাট হাতে দারুণ জবাব দিয়েছেন মুশফিকুর রহিম ও অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। তৃতীয় দিন শেষে দ্বিতীয় ইনিংসে ৬ উইকেটে ২২৩ রান তুলেছে বাংলাদেশ। সব মিলিয়ে লিড দাঁড়িয়েছে ৩২৯ রানে, হাতে রয়েছে আরও চার উইকেট।

রোববার (তৃতীয় দিন) দিনের শুরুতে আফগানিস্তানের ইনিংস গুটিয়ে দিতে বড় ভূমিকা রাখেন বাংলাদেশের দুই পেসার হাসান মাহমুদ ও এবাদত হোসেন। প্রথম ইনিংসে আফগানিস্তান থামে ২৪০ রানে। বাংলাদেশের হয়ে হাসান মাহমুদ ৫১ রানে পাঁচটি এবং ইবাদত ৫৬ রানে চারটি উইকেট নেন।

এরপর দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে শুরুতে উইকেট হারালেও দলকে শক্ত অবস্থানে নিয়ে যান মুশফিক ও শান্ত। চতুর্থ উইকেটে দুজন মিলে গড়েন ১৫৯ রানের দুর্দান্ত জুটি। মুশফিক ৮১ এবং শান্ত ৮২ রান করে আউট হন। দিনের শেষ দিকে স্পিনারদের আঘাতে দ্রুত কয়েকটি উইকেট হারালেও ততক্ষণে বড় লিড পেয়ে গেছে বাংলাদেশ।

হাসানের হ্যাটট্রিক

দিনের প্রথম ভাগে আলোচনার কেন্দ্রে ছিলেন হাসান মাহমুদ। এবাদত পঞ্চম উইকেটে রহমত শাহ ও ইকরাম আলিখিলের ৮০ রানের জুটি ভাঙার পর আফগানিস্তানের লেজ গুটিয়ে দেন হাসান।

আফগানিস্তানের বিপক্ষে বড় লিডের পথে বাংলাদেশ

প্রথমে ইসমত আলমকে বোল্ড করেন তিনি। পরের বলে কায়েস আহমেদকে ক্যাচ দিতে বাধ্য করেন। হ্যাটট্রিকের সুযোগে জিয়া-উর-রহমানকে এলবিডব্লিউ করেন হাসান। আম্পায়ারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে রিভিউ নিলেও বাঁচতে পারেননি আফগান ব্যাটার। এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের প্রথম পেসার হিসেবে টেস্টে হ্যাটট্রিকের কীর্তি গড়েন হাসান।

এর আগে বাংলাদেশের হয়ে টেস্টে হ্যাটট্রিক করেছিলেন লেগ স্পিনার অলক কাপালি ২০০৩ সালে এবং অফ স্পিনার সোহাগ গাজী ২০১৩ সালে। ইয়ামিন আহমদজাইকে ফিরিয়ে পাঁচ উইকেট পূর্ণ করার পাশাপাশি টেস্টে নিজের ৫০তম উইকেটও তুলে নেন হাসান। মাত্র ১৭তম টেস্টেই এই মাইলফলকে পৌঁছান তিনি।

এবাদতের চার উইকেট

আফগানিস্তানের প্রথম ইনিংসে চার উইকেট নিয়ে হাসানের সঙ্গে অনন্য এক কীর্তিতে নাম লেখান ইবাদত হোসেন। বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসে একই ইনিংসে দুই পেসারের চার বা তার বেশি উইকেট নেওয়ার ঘটনা এটিই প্রথম।

আফগানিস্তানের বিপক্ষে বড় লিডের পথে বাংলাদেশ
৫৬ রানে চার উইকেট নিয়েছেন পেসার ইবাদত হোসেন

দিনের শুরুতে রহমত শাহ ও ইকরাম আলিখিলের ব্যাটে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছিল আফগানিস্তান। দ্বিতীয় দিনের শেষ বিকেলে ১৩৯ রানে চার উইকেট হারানোর পর পঞ্চম উইকেটে দুজনের ৭২ রানের জুটি দলকে লড়াইয়ে ফেরার আশা দেখায়। তবে এবাদত বাধা হয়ে দাঁড়িয়ে আলিখিলকে ফিরিয়ে সেই জুটি ভাঙার পর আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি আফগানরা।

এক প্রান্ত আগলে রেখে টেস্টে নিজের শতক পূর্ণ করেন রহমত শাহ। অধিনায়ক হিসেবে নিজের প্রথম টেস্টে অপরাজিত ১০৫ রান করেন তিনি। কিন্তু অন্য প্রান্তে একের পর এক উইকেট হারানোয় আফগানিস্তান থামে ২৪০ রানে। প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের চেয়ে ১০৬ রান পিছিয়ে থাকে তারা।

মুশফিক-শান্তর জুটি

বোলারদের দাপটের পর ব্যাট হাতে দলের অবস্থান আরও মজবুত করেন মুশফিকুর রহিম ও নাজমুল হোসেন শান্ত। চতুর্থ উইকেটে ১৫৯ রানের জুটিতে আফগানিস্তানের ম্যাচে ফেরার সম্ভাবনা অনেকটাই কমিয়ে দেন দু’জন।

মুশফিক ৮১ রান করে এবং শান্ত ৮২ রান করে আউট হন। দুজনকেই ফিরিয়ে কিছুটা স্বস্তি পায় আফগানিস্তান। দিনের শেষ সাত ওভারের মধ্যে এই দুই ব্যাটারের পাশাপাশি হাসান মাহমুদকেও হারায় বাংলাদেশ। তিনজনই স্পিনারদের শিকার হন।

তবে ততক্ষণে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ অনেকটাই বাংলাদেশের হাতে। তৃতীয় দিন শেষে ৬ উইকেটে ২২৩ রান নিয়ে মাঠ ছাড়ে দল। সব মিলিয়ে ৩২৯ রানের লিড বাংলাদেশের। চতুর্থ দিনে বাকি চার উইকেট নিয়ে লিড আরও বাড়িয়ে আফগানিস্তানকে চাপে ফেলার সুযোগ থাকবে বাংলাদেশের সামনে।

spot_imgspot_img
spot_img

Related Articles