ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজে খেলা অনিশ্চিত
বাংলাদেশের পেসার নাহিদ রানার ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে আসন্ন টেস্ট সিরিজে খেলা নিয়ে শঙ্কা বাড়ছে। তবে এখনই তাঁকে সিরিজ থেকে ছিটকে দেননি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) কর্মকর্তারা। পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার মধ্যে নতুন করে পিঠের ব্যথায় ভোগায় বিষয়টি খতিয়ে দেখছে বোর্ড।
পাশের মাংসপেশির চোটের কারণে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ, পরবর্তী এশিয়ান গেমস এবং আফগানিস্তানের বিপক্ষে চলমান টেস্টে খেলতে পারেননি নাহিদ। সম্প্রতি বোলিংয়ের তীব্রতা বাড়িয়ে মাঠে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন এই পেসার। এর মধ্যেই কয়েক দিন আগে পিঠের ব্যথার কথা জানান তিনি।
বিসিবির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে বিষয়টি নিয়ে গুরুতর উদ্বেগের কারণ পাওয়া যায়নি। ব্যথার কারণ অনুসন্ধানে নাহিদকে এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে তাঁর বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়েছে। স্ক্যানের প্রতিবেদন পর্যালোচনা করছেন চিকিৎসক ও বোর্ডের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
বিসিবির এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বিষয়টি তদন্তের অংশ হিসেবেই নাহিদকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল। এখন পর্যন্ত গুরুতর কোনো উদ্বেগের কারণ পাওয়া যায়নি।
এর আগে জিম্বাবুয়ে সফরে পার্শ্বদেশের মাংসপেশিতে চোট পাওয়ার আগে নাহিদের শিনবোন (টিবিয়া) মচকানোর সমস্যা হয়েছিল। চোট কাটিয়ে ফেরার প্রস্তুতির অংশ হিসেবে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে তিনি ক্রমেই জোরে বোলিং করছিলেন। তবে নতুন করে পিঠে ব্যথা দেখা দেওয়ায় আপাতত তাঁকে বোলিং বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে।
এদিকে, প্রয়োজন হলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে তাঁকে বিদেশে পাঠানোর বিষয়টিও বিবেচনা করছে বিসিবি।
রোববার প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার সুমনের বক্তব্যেও নাহিদের খেলা নিয়ে অনিশ্চয়তার ইঙ্গিত মিলেছে। তিনি জানান, ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজ থেকে নাহিদকে পুরোপুরি বাদ দেওয়া হয়নি। ধাপে ধাপে তাঁর পরিস্থিতি মূল্যায়ন করা হচ্ছে। তবে পরিকল্পনা অনুযায়ী ত্রিদেশীয় সিরিজে খেলা হচ্ছে না এই পেসারের।
হাবিবুল বাশার আরও জানান, নাহিদের স্ক্যান করা হচ্ছে এবং প্রয়োজন হলে তাঁকে দেশের বাইরে পাঠানো হতে পারে। দ্রুত মাঠে ফেরানোর চেষ্টা চলছে, তবে এই মুহূর্তে তাঁর ফেরার নির্দিষ্ট সময়সীমা জানানো সম্ভব নয়।
আগামী ২৮ অক্টোবর থেকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ শুরু হওয়ার কথা। তার আগে নাহিদ পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠতে পারবেন কি না, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করছে তাঁর শারীরিক অবস্থা ও পরীক্ষার প্রতিবেদনের ওপর।


