নিকোলো ত্রেসোলদির দুর্দান্ত হ্যাটট্রিকে সাত গোলের রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে ইন্টার মিলানকে ৪-৩ গোলে হারিয়েছে ক্লাব ব্রুগা। এই হারে চ্যাম্পিয়নস লিগের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো টানা চার ম্যাচে পরাজয়ের তিক্ত অভিজ্ঞতা হলো ইতালিয়ান ক্লাবটির।
উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগে দুঃস্বপ্নের আরেকটি রাত কাটাল ইন্টার মিলান। বেলজিয়ান ক্লাব, ক্লাব ব্রুগার বিপক্ষে সাত গোলের উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচে ৪-৩ ব্যবধানে হেরেছে তারা। ম্যাচের মূল আকর্ষণ ছিলেন নিকোলো ত্রেসোলদি, যিনি একাই করেছেন তিনটি গোল। তাঁর দুর্দান্ত হ্যাটট্রিকেই ইন্টারের বিপক্ষে স্মরণীয় জয় তুলে নেয় ক্লাব ব্রুগা।
এই পরাজয়ের ফলে চ্যাম্পিয়নস লিগে টানা চার ম্যাচে হারল ইন্টার। ক্লাবটির ইতিহাসে ইউরোপের এই প্রতিযোগিতায় এমন টানা চার হারের ঘটনা আগে কখনো ঘটেনি।
ম্যাচের প্রথম গোলের জন্য অপেক্ষা করতে হয় প্রায় ৩০ মিনিট। এরপর রেফারি রোহিত সাগ্গি ক্লাব ব্রুগার পক্ষে পেনাল্টির সিদ্ধান্ত দেন। স্পটকিক থেকে দুর্দান্ত শটে বল জালে পাঠিয়ে দলকে এগিয়ে দেন ত্রেসোলদি।
গোলরক্ষকের নাগালের বাইরে বলকে জালের ওপরের ডান কোণে পাঠিয়ে নিজের প্রথম গোলটি করেন তিনি। শুরুতেই এগিয়ে গিয়ে ম্যাচে নিজেদের অবস্থান শক্ত করে নেয় স্বাগতিকরা।
তবে প্রথমার্ধের শেষ মুহূর্তে সমতায় ফেরে ইন্টার। অধিনায়ক লাউতারো মার্তিনেজ গোল করে স্কোরলাইন ১-১ করেন। ২০২৫ সালের নভেম্বরের পর চ্যাম্পিয়নস লিগে এটি ছিল তাঁর প্রথম গোল।
বিরতির ঠিক আগে সমতায় ফিরলেও দ্বিতীয়ার্ধে আবার পিছিয়ে পড়ে ইন্টার। এবার বড় ভুল করেন গোলরক্ষক হোসেপ মার্তিনেজ। গোলপোস্ট ছেড়ে সামনে এগিয়ে এলেও বলের নাগাল পাননি তিনি। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ফাঁকা জালে বল পাঠিয়ে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন ত্রেসোলদি।
এরপর ম্যাচের ১১ মিনিটের ব্যবধানে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন এই ফরোয়ার্ড। গোলরক্ষকের সেভ থেকে ফিরে আসা বল পেয়ে শক্তিশালী শটে জালে পাঠান তিনি। ফলে ৩-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায় ক্লাব ব্রুগা।
ত্রেসোলদির অসাধারণ পারফরম্যান্সে তখন চাপে পড়ে যায় ইন্টার মিলান। ম্যাচের শেষ ১০ মিনিটেরও কম সময় বাকি থাকতে ব্যবধান কমায় ইন্টার। বক্সের মধ্যে আলগা হয়ে যাওয়া বল পেয়ে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন লাউতারো মার্তিনেজ। স্কোরলাইন হয় ৩-২।
এই গোলের পর সমতায় ফেরার আশায় আক্রমণ বাড়ায় ইতালিয়ান ক্লাবটি। কিন্তু তাদের সেই প্রত্যাবর্তনের স্বপ্নে বড় ধাক্কা দেন ক্লাব ব্রুগার রোমিও ফেরমান্ট। ম্যাচ শেষ হওয়ার তিন মিনিট আগে গোল করে ব্রুগার ব্যবধান আবারও দুইয়ে নিয়ে যান তিনি। স্কোরলাইন দাঁড়ায় ৪-২। মনে হচ্ছিল, জয় নিশ্চিত করে ফেলেছে বেলজিয়ান ক্লাবটি।
৯৩তম মিনিটেও গোল, তবু হার এড়াতে পারল না ইন্টার
ম্যাচের নাটকীয়তা অবশ্য তখনো শেষ হয়নি। যোগ করা সময়ের ৯৩তম মিনিটে ইন্টারের হয়ে গোল করেন বদলি খেলোয়াড় আঞ্জে-ইয়োয়ান বনি। বাঁ প্রান্ত থেকে ভেতরে ঢুকে দারুণ ফিনিশিংয়ে বলকে দূরের পোস্ট দিয়ে জালে পাঠান তিনি। ব্যবধান কমে দাঁড়ায় ৪-৩। শেষ মুহূর্তে ম্যাচে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হলেও সমতা সূচক গোল আর পায়নি ইন্টার।
শেষ পর্যন্ত ৪-৩ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে ক্লাব ব্রুগা। অন্যদিকে সাত গোলের রোমাঞ্চকর লড়াইয়েও পরাজয়ের বৃত্ত থেকে বের হতে পারেনি ইন্টার মিলান। এই ম্যাচে ত্রেসোলদির হ্যাটট্রিক ছিল ক্লাব ব্রুগার জয়ের মূল ভিত্তি। পেনাল্টি থেকে প্রথম গোল করার পর প্রতিপক্ষ গোলরক্ষকের ভুল কাজে লাগিয়ে দ্বিতীয় গোল করেন তিনি। এরপর নিজের তৃতীয় গোল করে দলের ব্যবধান বাড়িয়ে দেন।
অন্যদিকে, লাউতারো মার্তিনেজের জোড়া গোলও ইন্টারকে পরাজয় থেকে বাঁচাতে পারেনি। রক্ষণভাগের ভুল এবং গোলরক্ষকের ব্যর্থতা শেষ পর্যন্ত বড় মূল্য দিতে বাধ্য করেছে ইতালিয়ান দলটিকে।
ম্যাচের সংক্ষিপ্ত বিবরণ
- ম্যাচ: ক্লাব ব্রুগা ৪-৩ ইন্টার মিলান
- ক্লাব ব্রুগার গোলদাতা: নিকোলো ত্রেসোলদি (হ্যাটট্রিক), রোমিও ফেরমান্ট
- ইন্টারের গোলদাতা: লাউতারো মার্তিনেজ (২), আঞ্জে-ইয়োয়ান বনি
- ম্যাচের সেরা আকর্ষণ: ত্রেসোলদির দুর্দান্ত হ্যাটট্রিক
- ইন্টারের রেকর্ড: চ্যাম্পিয়নস লিগে ইতিহাসে প্রথমবার টানা চার ম্যাচে পরাজয়




