আচরণবিধি ভঙ্গের দায়ে আফগানিস্তানের ব্যাটার আফসার জাজাইকে আনুষ্ঠানিকভাবে তিরস্কার করেছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে বাংলাদেশের বিপক্ষে সদ্য সমাপ্ত একমাত্র টেস্ট ম্যাচে এই আচরণবিধি লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটে।
আইসিসির খেলোয়াড় ও খেলোয়াড়-সহায়ক কর্মকর্তাদের আচরণবিধির ২.৪ ধারা ভঙ্গ করেছেন জাজাই। এই ধারায় আন্তর্জাতিক ম্যাচে আম্পায়ারের নির্দেশ অমান্য করার বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে। শাস্তি হিসেবে তাঁকে আনুষ্ঠানিক তিরস্কারের পাশাপাশি একটি ডিমেরিট পয়েন্ট দেওয়া হয়েছে। গত ২৪ মাসের মধ্যে এটিই ছিল তাঁর প্রথম অপরাধ।
ম্যাচটিতে দ্বাদশ খেলোয়াড়ের দায়িত্ব পালন করছিলেন জাজাই। এ সময় মাঠে প্রবেশ না করতে এবং সময় নষ্ট করা বন্ধ করতে মাঠের আম্পায়াররা তাঁকে একাধিকবার নির্দেশ দেন। কিন্তু তিনি সেই নির্দেশ অমান্য করেন। এরপর ইনিংসের ১৩৯তম ওভারে আম্পায়ারদের অনুমতি ছাড়াই আবারও মাঠে প্রবেশ করেন তিনি।
নিজের অপরাধ স্বীকার করে নিয়েছেন জাজাই। ম্যাচ রেফারিদের এমিরেটস আইসিসি আন্তর্জাতিক প্যানেলের ডেভ গিলবার্টের প্রস্তাবিত শাস্তিও মেনে নেন তিনি। ফলে এ ঘটনায় আনুষ্ঠানিক শুনানির প্রয়োজন হয়নি।
ঘটনাটির অভিযোগ আনেন মাঠের দুই আম্পায়ার আহসান রাজা ও আলাউদ্দিন পালেকার, তৃতীয় আম্পায়ার আসিফ ইয়াকুব এবং চতুর্থ আম্পায়ার ইজতুল্লাহ সাফি।
আইসিসির আচরণবিধির প্রথম স্তরের অপরাধের জন্য সর্বনিম্ন শাস্তি আনুষ্ঠানিক তিরস্কার। সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে খেলোয়াড়ের ম্যাচ ফির ৫০ শতাংশ পর্যন্ত জরিমানা এবং এক বা দুটি ডিমেরিট পয়েন্ট দেওয়া যেতে পারে।
ডিমেরিট পয়েন্টের নিয়ম
আইসিসির নিয়ম অনুযায়ী, কোনো খেলোয়াড় বা খেলোয়াড়-সহায়ক কর্মকর্তা ২৪ মাসের মধ্যে চার বা তার বেশি ডিমেরিট পয়েন্ট পেলে সেগুলো সাসপেনশন পয়েন্টে রূপান্তরিত হয় এবং নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তে পারেন। দুটি সাসপেনশন পয়েন্টের শাস্তি হিসেবে একটি টেস্ট অথবা দুটি ওয়ানডে অথবা দুটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচে নিষিদ্ধ হতে হয়। এই ক্ষেত্রে যে ফর্মেটের শাস্তি আগে প্রযোজ্য হবে সেটি কার্যকর হবে। ডিমেরিট পয়েন্ট আরোপের তারিখ থেকে ২৪ মাস পর্যন্ত শৃঙ্খলাজনিত রেকর্ডে বহাল থাকে। এরপর তা মুছে ফেলা হয়।


