বিশ্বকাপ ফুটবল ২০২৬
ফ্রান্সের বিপক্ষে বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের পর কিলিয়ান এমবাপ্পেকে নিয়ে বর্ণবাদী মন্তব্য করে আন্তর্জাতিক সমালোচনার মুখে পড়া প্যারাগুয়ের সিনেটর সেলেস্তে আমারিলা উল্টো ফরাসি তারকার বিরুদ্ধে মানহানি ও অপবাদের অভিযোগে আইনি ব্যবস্থা নেয়ার কথা বিবেচনা করছেন। তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ফ্রান্সে তার বিরুদ্ধে চলমান তদন্তের অগ্রগতির ওপর নির্ভর করবে বলে জানিয়েছেন তার আইনজীবী।
স্প্যানিশ দৈনিক ‘মার্কা’ এবং ফরাসি সংবাদমাধ্যম ‘লে প্যারিসিয়েন’এর তথ্য অনুযায়ী, সিনেটর আমারিলার আইনজীবী গুইলার্মো দুয়ার্তে কাকাবেলোস বলেছেন- এমবাপ্পে প্রকাশ্যে তার মক্কেলকে নিয়ে যে মন্তব্য করেছেন, সেটি প্যারাগুয়ের আইনে মানহানি ও অপবাদের অভিযোগ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে কি না, তা তারা খতিয়ে দেখছেন।
লে প্যারিসিয়েনকে দেয়া সাক্ষাৎকারে গুইলার্মো বলেন, প্যারাগুয়ের আদালত যদি অভিযোগ গ্রহণ করে, তাহলে এ ধরনের অপরাধে সর্বোচ্চ ৩ বছরের কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ফ্রান্স ও প্যারাগুয়ের মধ্যে বিদ্যমান প্রত্যর্পণ চুক্তির বিষয়টিও প্রাসঙ্গিক ভাবে হয়ে উঠতে পারে।
যে ভাবে বিতর্কের সূত্রপাত: ৪ জুলাই অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে ফ্রান্সের কাছে প্যারাগুয়ের পরাজয়ের পর ম্যাচ শেষে সিনেটর সেলেস্তে আমারিলা এমবাপ্পের জাতীয়তা, পরিচয় ও বংশপরিচয় নিয়ে একাধিক মন্তব্য করেন, যেগুলোকে ব্যাপকভাবে বর্ণবাদী ও বৈষম্যমূলক বলে সমালোচনা করা হয়। যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে শুরু করে রাজনৈতিক অঙ্গন সবখানেই তার বক্তব্যের নিন্দা জানানো হয়।
এম বাপ্পের জবাব: এমবাপ্পে সিনেটরকে ‘নিজের পদমর্যাদার অযোগ্য এক জঘন্য নারী’ বলে মন্তব্য করেছেন বলে দাবি করেছেন আমারিলার আইনজীবী। সেই বক্তব্যকেই সম্ভাব্য আইনি পদক্ষেপের ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করছেন আমারিলা।
এমবাপ্পের বিরুদ্ধে মামলা: আইনজীবি দুয়ার্তে কাকাবেলোস বলেন, ফ্রান্সে আমারিলার বিরুদ্ধে যে তদন্ত চলছে, তার ফলাফলের ওপর পরবর্তী সিদ্ধান্ত নির্ভর করছে তার মক্কেল প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেবেন কিনা।
ঘটনার তদন্তঃ ফরাসি কর্তৃপক্ষ বর্তমানে ঘটনার তদন্ত করছে, যদি সিনেটর আমারিলা তার বক্তব্যের মাধ্যমে কোনো ব্যক্তিকে তার প্রকৃত বা ধারণাকৃত জাতিগত পরিচয়, জাতীয়তা, বর্ণ কিংবা ধর্মের ভিত্তিতে প্রকাশ্যে গুরুতরভাবে অপমান করেছেন কি না তা নিয়ে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে আমারিলার এক বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং ৪৫ হাজার ইউরো জরিমানা হতে পারে।
এদিকে সমালোচনার মুখেও নিজের বক্তব্য থেকে সরে আসার কোনো ইচ্ছা নেই বলে জানিয়েছেন আমারিলা। তার আইনজীবী বলেন- মামলা এগোলে এমবাপ্পেকেও প্যারাগুয়ের কর্তৃপক্ষের সামনে সাক্ষ্য দেয়ার জন্য তলব করা হতে পারে।
যতদুর পর্যন্ত ছড়িয়েছে বিষয়টিঃ বিতর্কটি এখন শুধু ক্রীড়াঙ্গনেই সীমাবদ্ধ নেই দু’দেশের রাজনৈতিক নেতৃত্বও এ নিয়ে অবস্থান জানিয়েছে। ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাক্রোঁ প্রকাশ্যে বর্ণবাদী আক্রমণের শিকার হওয়া এমবাপ্পের প্রতি সমর্থন জানান। অন্যদিকে প্যারাগুয়ের প্রেসিডেন্ট সান্তিয়াগো পেনা স্পষ্ট করে বলেন, সিনেটর আমারিলার বক্তব্য প্যারাগুয়ের রাষ্ট্র বা জনগণের মূল্যবোধের প্রতিনিধিত্ব করে না।
আমারিলার অভিযোগঃ তিনি বলেন বিশ্বকাপে ফ্রান্সের জয়ের পর এমবাপ্পে অহংকারী ও অসম্মানজনক আচরণ করেছেন। ম্যাচ শেষে প্যারাগুয়ের গোলরক্ষক অরল্যান্ডো গিলের সঙ্গে করমর্দন করতেও অস্বীকৃতি জানান ফরাসি তারকা।
নতুন এই অভিযোগ ও সম্ভাব্য পাল্টা মামলার ইঙ্গিতে আমারিলা ও কিলিয়ান এমবাপ্পেকে ঘিরে শুরু হওয়া বিতর্ক আন্তর্জাতিক পর্যায়ে জটিল ও আলোচিত হয়ে উঠেছে।


