ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬
সুইজারল্যান্ড ফুটবল কোচ মুরাত ইয়াকিন বলেছেন এমবোলোর লাল কার্ডই খেলার মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে। সিদ্ধান্তটা যেন এখনো মেনে নিতে পারছে না সুইজারল্যান্ড। আর্জেন্টিনার বিপক্ষে বিশ্বকাপের শেষ আটে ৩-১ গোলে হারের পর সংবাদ সম্মেলনে ক্ষোভ ঝেড়েছেন সুইস অধিনায়ক গ্রানিত জাকা ও কোচ মুরাত ইয়াকিন।

যেভাবে ঘটনার শুরু: ম্যাচের ৭২ মিনিটের সময় আর্জেন্টিনার লিয়ান্দ্রো পারেদেস ফাউলের জন্য হলুদ কার্ড দেখেন কিন্তু ভিডিও রিভিউয়ের পর পারেদেসের হলুদ কার্ড সরিয়ে এমবোলোকে ‘ডাইভ’ বা ফাউল আদায়ের জন্য ইচ্ছাকৃতভাবে পড়ে যাওয়ার অভিযোগে (অভিনয়) দোষী সাব্যস্ত করা হয়। কারণ ইচ্ছাকৃত কোন ফাউল আদায় বা প্রতারনা করলে তার জন্যও হলুদ কার্ডের বিধান রয়েছে।
ভিডিওতে দেখা যায় যে, পারেদেসের সংস্পর্শে আসার আগেই এমবোলো পড়ে যাচ্ছিলেন। এমবোলো ম্যাচের প্রথমার্ধে একটি হলুদ কার্ড দেখেছিলেন তাই দ্বিতীয় হলুদ কার্ডের কারণে তাঁকে লাল কার্ড পেতে হয়েছে। এই কারণে ১-১ সমতায় থাকা বাকি ম্যাচ ১০ জন নিয়ে খেলতে হয়েছে সুইজারল্যান্ডকে। আর্জেন্টিনার মত বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দলের বিপক্ষ ১০ জন নিয়ে এতটা সময় খেলা অসম্ভব ফলে যা হওয়ার তাই হয়েছে।
নিকো এলভেদি সুইস ডিফেন্ডার: সুইজারল্যান্ডের ড্যান এনদয়ে সমতা সূচক গোল করার কিছুক্ষণ পর কার্ড দেখানোতে বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন- আমি সত্যিই বুঝতে পারছি না, ভিএআর কীভাবে এমন সিদ্ধান্ত নিতে পারে।
‘ভুল খেলোয়াড়কে কার্ড দেখানো ’সংক্রান্ত নিয়ম ব্যবহার করে কোনো খেলোয়াড়ের হলুদ কার্ড পরিবর্তন করা হয়েছে এটি বিশ্বকাপের দ্বিতীয় ঘটনাা। নিয়ম অনুযায়ী, কোনো খেলোয়াড়কে ভুলভাবে হলুদ বা লাল কার্ড দেখানো হলে ভিএআর হস্তক্ষেপ করতে পারে।
মুরাত ইয়াকিন: কোচ ম্যাচ শেষে লাল কার্ড নিয়ে নিজের হতাশা প্রখাশ করে বলেন- ‘আমরাই ম্যাচে আধিপত্য বিস্তার করছিলাম। আমরা খেলাটা নিয়ন্ত্রণ করছিলাম। কিন্তু লাল কার্ডের কারণে আমাদের এমন একটি নিয়মের শাস্তি পেতে হলো, যেটা আমার কাছে বোধগম্য নয়। অবশ্যই এভাবে বিদায় নেওয়া ভীষণ কষ্টের। আজকের ম্যাচে এমন ফল প্রাপ্য ছিল না।’
কোচ ইয়াকিন আরো বলেন, ‘এর আগেও কয়েকবার হলুদ কার্ড দেখানোর মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। কিন্তু এমন একটি ঘটনায় হলুদ কার্ড দেওয়া হলো, যেটা আমার কাছে খুবই সাধারণ একটা ফাউল মনে হয়েছে, এমনকি এটা ফাউল ছিল কি না, সেটাও প্রশ্নের বিষয়। ফিফা তাদের রেফারিকে রক্ষা করার জন্য এই নিয়ম ব্যবহার করল, যেটা আজ আমাদের ম্যাচটাই নষ্ট করে দিল। এটা ভীষণ কষ্টের। আমার মতে, আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়কে হলুদ কার্ড দেখানোর কোনো কারণই ছিল না। রেফারির উচিত ছিল খেলা চালিয়ে যাওয়া। তিনি নিজের ভুল সংশোধন করতে গিয়ে আমাদের বিপদে ফেলেছেন যা সবাই দেখেছে এরপর বাকি সময় একজন কম নিয়ে আমাদের খেলতে হয়েছে।’


