বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে শক্তিশালী ফ্রান্সের মুখোমুখি হওয়ার আগে প্রতিপক্ষের গতিময় ফুটবল নিয়ে সতর্ক স্পেনের কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে। তবে কৌশলে বড় কোনো পরিবর্তন না এনে নিজেদের স্বাভাবিক ছন্দের ফুটবলেই আস্থা রাখছেন তিনি। অতীতের দুই দেখায় ফ্রান্সকে হারানোর আত্মবিশ্বাসও যোগাচ্ছে স্প্যানিশ শিবিরকে।
এবারের বিশ্বকাপে দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছে ফ্রান্স। গ্রুপ পর্বে শতভাগ জয় নিয়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর নকআউটের প্রতিটি ম্যাচ নির্ধারিত সময়েই জিতে সেমিফাইনালে উঠেছে তারা। কিলিয়ান এমবাপে, উসমান দেম্বেলে ও মাইকেল ওলিসের গতিনির্ভর আক্রমণ প্রতিপক্ষের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে।
অন্যদিকে, স্পেন শুরুটা করেছিল কিছুটা ধীরগতিতে। গ্রুপ পর্বের প্রথম ম্যাচে কেইপ ভার্ডের সঙ্গে গোলশূন্য ড্র করলেও পরে সৌদি আরব ও উরুগুয়েকে হারিয়ে গ্রুপসেরা হয় তারা। নকআউট পর্বেও অতিরিক্ত সময়ের প্রয়োজন হয়নি স্প্যানিশদের।
আগামী ১৪ জুলাই বাংলাদেশ সময় রাত ১টায় ডালাসে অনুষ্ঠিত হবে দুই ইউরোপীয় পরাশক্তির সেমিফাইনাল। গত তিন বছরের মধ্যে এটি হবে দুই দলের তৃতীয় লড়াই। ২০২৪ সালের ইউরো এবং ২০২৫ সালের নেশন্স লিগের সেমিফাইনালে জয় পেয়েছিল স্পেন।
তবে অতীতের সেই সাফল্যকে বর্তমানের সঙ্গে মেলাতে রাজি নন দে লা ফুয়েন্তে। তাঁর মতে, আগের তুলনায় ফ্রান্স এখন ভিন্ন এক দল।
স্পেন কোচ বলেন, ‘বিশ্বকাপের এই পর্যায়ে ফ্রান্স সব সময়ই শিরোপার অন্যতম দাবিদার। দুই বছর আগের দলের সঙ্গে বর্তমান ফ্রান্সের অনেক পার্থক্য রয়েছে। খেলার ধরন ও কৌশলে পরিবর্তন এসেছে। আমার বিশ্বাস, দুই দলই আগের চেয়ে আরও উন্নতি করেছে।’
দে লা ফুয়েন্তের মতে, দুই দলের ফুটবল দর্শন একেবারেই আলাদা। ফ্রান্স যেখানে গতির ওপর নির্ভরশীল, সেখানে স্পেনের শক্তি বলের দখল ও ছন্দময় আক্রমণে। তাই প্রতিপক্ষের শক্তি সম্পর্কে সচেতন থাকলেও নিজেদের পরিকল্পনা থেকে সরে আসতে চান না তিনি।
স্পেন কোচের ভাষায়, ‘ফ্রান্সের শক্তি আমরা জানি। তবে নিজেদের খেলার ধরন বজায় রাখাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। প্রয়োজন হলে ম্যাচের পরিস্থিতি অনুযায়ী পরিবর্তন আনব। কিন্তু নিজেদের ফুটবল খেলেই সবশেষ দুই ম্যাচে তাদের হারিয়েছি, এবারও সেই বিশ্বাস নিয়েই মাঠে নামব।’


