টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠার দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে ফ্রান্স। তবে স্পেনের বিপক্ষে সেমিফাইনালের আগে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে কৌশল বা একাদশ নয়, বরং এনগোলো কান্তে।
ফরাসি গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, ক্লোজড-ডোর অনুশীলনে দারুণ পারফরম্যান্স দেখিয়েছেন এই অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার। এরপর থেকেই সমর্থকদের একাংশের দাবি, স্পেনের মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে কান্তেকে অন্তত সুযোগ দেওয়া উচিত।
চলতি বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত ফ্রান্সের ছয় ম্যাচের একটিতেও মাঠে নামেননি কান্তে। কোচ দিদিয়ে দেশম মাঝমাঠে আস্থা রেখেছেন কুয়াদিও কোনে ও আদ্রিয়েন রাবিওর ওপর। এই জুটিকে নিয়েই অনায়াসে সেমিফাইনালে পৌঁছে গেছে লে ব্লুরা।
তবু বড় ম্যাচে কান্তের মতো অভিজ্ঞ ফুটবলারের গুরুত্ব আলাদা বলেই মনে করছেন অনেকে। আগের মতো পুরো মাঠজুড়ে ছুটে না বেড়ালেও ম্যাচের গতি নিয়ন্ত্রণ, সঠিক সময়ে বল পুনরুদ্ধার এবং গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা এখনও তার বড় শক্তি।
বিশেষ করে স্পেনের বিপক্ষে এই গুণগুলো আরও বেশি প্রয়োজন হতে পারে। বলের দখল ধরে রেখে দ্রুত পাসিং এবং মাঝমাঠ নিয়ন্ত্রণে লা রোহাদের জুড়ি নেই। এমন প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে কান্তের ট্যাকল, ইন্টারসেপশন এবং ট্রানজিশন ফুটবল ফ্রান্সের জন্য বাড়তি অস্ত্র হয়ে উঠতে পারে।
ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, নকআউট ম্যাচে কখনও কখনও একটি ট্যাকল কিংবা একটি সঠিক সিদ্ধান্তই পুরো ম্যাচের গতিপথ বদলে দিতে পারে। আর ঠিক এমন মুহূর্ত তৈরির ক্ষমতার জন্যই দীর্ঘদিন ধরে পরিচিত কান্তে।
বর্তমানে তুরস্কের ক্লাব ফেনারবাচেতে খেললেও তার অর্জনের তালিকা এখনও সমৃদ্ধ। বিশ্বকাপ, চ্যাম্পিয়নস লিগ ও প্রিমিয়ার লিগসহ ফুটবলের প্রায় সব বড় ট্রফিই রয়েছে তার ঝুলিতে।
এখন দেখার বিষয়, স্পেনের বিপক্ষে মহাগুরুত্বপূর্ণ সেমিফাইনালে দেশম কি শেষ পর্যন্ত অভিজ্ঞ কান্তের ওপর ভরসা রাখেন, নাকি আগের মতোই অপরিবর্তিত মাঝমাঠ নিয়েই মাঠে নামবে ফ্রান্স।


