ত্রিদেশীয় ক্রিকেট সিরিজ
সিকান্দার রাজার ৬৮ রানের লড়াকু ইনিংস, তবুও আফগানিস্তানের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে ধসে পড়ল জিম্বাবুয়ে। নবী, ফারুকি ও বিলাল সামি নিয়েছেন দুটি করে উইকেট। ১৬৯ রান (সিকান্দার রাজা ৬৮, রশিদ খান ৩/৪১, মোহাম্মদ নবী ২/২৫, বিলাল সামি ২/২৭) করে আফগানিস্তানকে ১৭০ রানের টার্গেট দিয়েছে জিম্বাবুয়ে।
শারজাতে ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে দুর্দান্ত ফিল্ডিং ও নিখুঁত বোলিংয়ের সমন্বয়ে জিম্বাবুয়েকে মাত্র ১৬৯ রানে অলআউট করেছে আফগানিস্তান। টুর্নামেন্টজুড়ে আফগানিস্তানের ব্যাটিংয়ের দুর্দান্ত ফর্ম বিবেচনায় এই লক্ষ্য সহজেই তাড়া করে ম্যাচ জেতার প্রত্যাশা করছে দলটি। আফগানিস্তানের হয়ে বল হাতে উজ্জ্বল ছিলেন রশিদ খান, ৪১ রান দিয়ে নিয়েছেন ৩ উইকেট। তবে প্রথম ছয়টি উইকেট তুলে নেওয়ার পেছনে বড় ভূমিকা ছিল দলের পেসারদের ও অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার মোহাম্মদ নবীর। রশিদ নিজের প্রথম উইকেট পাওয়ার আগেই নবী, ফজল হক ফারুকি ও বিলাল সামি প্রতিপক্ষের ব্যাটিং লাইনআপে ধস নামান। নবী, ফারুকি ও সামি প্রত্যেকে দুটি করে উইকেট শিকার করেন।
জিম্বাবুয়ের হয়ে একাই লড়াই করেছেন অধিনায়ক সিকান্দার রাজা। ৮৩ বলের ইনিংসে ৬৮ রান করেন তিনি, যেখানে ছিল ৩টি ছক্কা ও ৩টি চার। এই ইনিংসের মাধ্যমে রাজা গড়েছেন অনন্য এক রেকর্ড। ৪০ বছর বা তার বেশি বয়সে ওয়ানডে টুর্নামেন্টের ফাইনালে অর্ধশতক করা প্রথম ব্যাটার হয়েছেন তিনি।
শারজাহর প্রচণ্ড গরম ও আর্দ্রতা দুই দলের খেলোয়াড়দেরই ভোগান্তিতে ফেলেছে। প্রথম স্পেলের শেষ ওভারটি করতে ফারুকির দীর্ঘ সময় লেগেছে। রাজা, নবীসহ আরও কয়েকজন খেলোয়াড়কেও বিভিন্ন সময় চিকিৎসা সেবা নিতে হয়েছে। তবে ম্যাচের চিত্রনাট্য অনেকটাই ছিল প্রত্যাশিত। প্রথমে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েও সিরিজে টানা তৃতীয়বারের মতো বাজে শুরু করে জিম্বাবুয়ে। সপ্তম ওভারের মধ্যেই ২৬ রানে ৩ উইকেট হারায় তারা। অর্থাৎ ত্রিদেশীয় সিরিজের তিনটি ম্যাচেই পাওয়ারপ্লেতে তিনটি করে উইকেট হারানোর বিব্রতকর ধারাবাহিকতা বজায় রাখল দলটি।
ফজল হক ফারুকির ভেতরের দিকে ঢুকে আসা দুর্দান্ত বলে ব্যাট ও প্যাডের মাঝে বড় ফাঁক রেখে উইকেট হারান তাদিওয়ানাশে মারুমানি। এরপর একের পর এক অসাধারণ ক্যাচ নিয়ে ম্যাচে নিজেদের আধিপত্য আরও বাড়ায় আফগানিস্তান।
ষষ্ঠ ওভারে আজমতউল্লাহ ওমরজাই এক হাতে দুর্দান্ত ক্যাচ নিয়ে ব্রায়ান বেনেটকে ফিরিয়ে দেন। পরের ওভারেই এএম গাজানফার শর্ট স্কয়ার লেগে ডান দিকে ঝাঁপিয়ে এক হাতে অসাধারণ ক্যাচ ধরেন। তার দুর্দান্ত প্রচেষ্টায় ৪ রান করে সাজঘরে ফেরেন তাফাদজওয়া সিগা।
আফগানিস্তানের দুর্দান্ত বোলিং ও চোখধাঁধানো ফিল্ডিংয়ের সামনে শেষ পর্যন্ত ১৬৯ রানেই থেমে যায় জিম্বাবুয়ের ইনিংস। এখন ফাইনালে জয়ের জন্য আফগানিস্তানের সামনে লক্ষ্য ১৭০ রান।




