লাহোরে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে অবিশ্বাস্য এক জয় পেয়েছে স্বাগতিক পাকিস্তান। ৯ উইকেট হারিয়ে যখন পরাজয় প্রায় নিশ্চিত, তখন শাদাব খানের দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে ঘুরে দাঁড়ায় দলটি। দশম উইকেটে রেকর্ড ৮৯ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়ে পাকিস্তানকে এক উইকেটের জয় এনে দেন শাদাব ও হারিস রউফ। তাতে ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজের ফাইনালও নিশ্চিত হয়েছে পাকিস্তানের। অন্যদিকে টানা তিন হারে ইংল্যান্ডের ফাইনালে ওঠার পথ কঠিন হয়ে পড়েছে।
শনিবার লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে প্রথমে ব্যাট করে ২৪১ রান করে ইংল্যান্ড। জবাবে পাকিস্তানের লক্ষ্য ছিল ২৪২। কিন্তু ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে একসময় ১৫৪ রানে ৯ উইকেট হারায় স্বাগতিকেরা। সেখান থেকে জয় তুলে নেওয়াটা ছিল প্রায় অসম্ভব। তবে শাদাবের হার না মানা ব্যাটিং সেই অসম্ভবকেই সম্ভব করে তোলে। ৯৭ রানে থাকা অবস্থায় একবার এলবিডব্লিউয়ের ফাঁদে পড়লেও রিভিউয়ে বেঁচে যান তিনি। এরপর পূর্ণ করেন ওয়ানডেতে নিজের প্রথম শতক।
শাদাবের সঙ্গে লড়াইয়ে রউফ
শাদাবের সঙ্গে শেষ উইকেটে দারুণ লড়াই করেন হারিস রউফ। ১৯ বলে অপরাজিত ৭ রান করে দলের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি। শেষ দিকে গাস অ্যাটকিনসনের বলে শাদাবের ছক্কা পাকিস্তানকে জয়ের আরও কাছে নিয়ে যায়। এরপর অভিষিক্ত হেনরি ক্রোকম্বের বলে রউফের ব্যাট ছুঁয়ে বল সীমানার দিকে ছুটে গেলে নিশ্চিত হয় পাকিস্তানের রোমাঞ্চকর জয়। সফল ওয়ানডে রান তাড়ায় দশম উইকেটে ৮৯ রানের এই জুটি নতুন রেকর্ড গড়েছে।

ইংল্যান্ডের ইনিংসে আলো ছড়ান ডাকেট
এর আগে ইংল্যান্ডের ইনিংসে আলো ছড়ান বেন ডাকেট। তার দুর্দান্ত শতকে বড় সংগ্রহের ভিত্তি পায় দলটি। শুরুতে শাহিন শাহ আফ্রিদির বোলিংয়ে ইংল্যান্ডের টপ অর্ডার বিপর্যস্ত হলেও ডাকেট ও স্যাম কারানের ব্যাটিংয়ে ঘুরে দাঁড়ায় তারা। ডাকেটের শতকের পাশাপাশি শেষ দিকে গাস অ্যাটকিনসনও ৪০ রান যোগ করেন।
তবে শেষ পর্যন্ত ইংল্যান্ডের সেই লড়াই ম্লান হয়ে যায় শাদাবের অবিশ্বাস্য বীরত্বে। টানা তিন জয়ে পাকিস্তান ফাইনালে উঠেছে। অন্যদিকে তিন ম্যাচেই হেরে তলানিতে থাকা ইংল্যান্ডের ফাইনালে খেলার আশা এখন অনিশ্চিত।
তিন ম্যাচ থেকে ৬ পয়েন্ট নিয়ে পাকিস্তান সবার উপরে। শ্রীলঙ্কার ২ ম্যাচ থেকে পয়েন্ট ২। আর ইংল্যান্ড ৩ ম্যাচ খেলে এখনো পয়েন্টর খাতা খুলতে পারেনি। তাদের আরও একটা ম্যাচ বাকি রয়েছে। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সে ম্যাচে জয় পেলে তাদের ফাইনালে খেলার স্বপ্ন টিকে থাকবে। সে সময় তাদের ভাগ্য নির্ভর করবে পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার ম্যাচের ওপর।




