উইন্ডিজ বাধা পেরোতে চায় বাংলাদেশ! বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে ওঠার স্বপ্ন দেখছে বাংলাদেশ। সেই লক্ষ্যে প্রতিটি টেস্টই গুরুত্বপূর্ণ। তবে বড় অর্জনের হাতছানি থাকলেও বাড়তি চাপ নিতে নারাজ অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। বরং টেস্ট ক্রিকেটে নিজেদের আরও এগিয়ে নেওয়ার সুযোগকেই অনুপ্রেরণা হিসেবে দেখছেন তিনি।
বুধবার মিরপুরের শের-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজের প্রথমটিতে মাঠে নামবে বাংলাদেশ। ম্যাচটি শুরু হবে সকাল সাড়ে ৯টায়।
বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের চলমান চক্রের পয়েন্ট তালিকায় বর্তমানে চতুর্থ স্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। শেষ পর্যন্ত সেরা দুইয়ে থেকে ফাইনালে জায়গা করে নেওয়ার সম্ভাবনা এখনো রয়েছে দলের সামনে। সেই সমীকরণ মেলাতে ঘরের মাঠে বাকি চারটি টেস্টেই ভালো ফল করা জরুরি। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দুই টেস্টের পর ইংল্যান্ডের বিপক্ষেও দেশের মাটিতে আরও দুটি টেস্ট খেলবে বাংলাদেশ।
লক্ষ্য বড়, তাই প্রত্যাশাও কম নয়। কিন্তু এই পরিস্থিতিকে চাপ হিসেবে দেখছেন না শান্ত। মঙ্গলবার মিরপুরে প্রথম টেস্টের আগে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে বাংলাদেশ অধিনায়ক বলেন, আমি এটাকে চাপ হিসেবে দেখি না, বরং অনুপ্রেরণা হিসেবে দেখি। এই মুহূর্তে টেস্ট ক্রিকেটে অনেক কিছু অর্জনের সুযোগ আছে। বিষয়টি আমাকে অনুপ্রাণিত করে।
বড় লক্ষ্য সামনে থাকলেও সাফল্য পেতে নিজেদের স্বাভাবিক পরিকল্পনা থেকে সরে আসতে চান না তিনি। বরং অতীতের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে নিজেদের প্রক্রিয়া ঠিক রেখে মাঠে সেরাটা দেওয়ার ওপর জোর দিচ্ছেন শান্ত।
তার ভাষায়, এই সিরিজের প্রস্তুতি ও আলোচনা শুরুর সময় আমরা গত কয়েকটি সিরিজ এবং কয়েক বছরে নিজেদের পারফরম্যান্স পর্যালোচনা করেছি। আমরা বাড়তি কিছু করতে চাই না। নিজেদের প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে চাই এবং যে কাজগুলো আমরা ভালোভাবে করতে জানি, সেগুলোতে শতভাগ দিতে চাই।
গুরুত্বপূর্ণ এই সিরিজে পরিকল্পনায় অপ্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনার পক্ষপাতী নন বাংলাদেশ অধিনায়ক। তার বিশ্বাস, নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী খেলতে পারলে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া সম্ভব।
ঘরের মাঠে সর্বশেষ পাঁচ টেস্টে অপরাজিত রয়েছে বাংলাদেশ। গত আগস্টে ডারউইনে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ঐতিহাসিক জয়ও পেয়েছে দল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে সব সংস্করণ মিলিয়ে প্রত্যাশা অনুযায়ী পারফর্ম করতে পারেনি টাইগাররা। এশিয়ান গেমসে পদক জেতা হয়নি, আফগানিস্তানের বিপক্ষে জয়ের সম্ভাবনা তৈরি করেও টেস্ট ড্র করতে হয়েছে। এরপর সংযুক্ত আরব আমিরাতে ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজের দুই ম্যাচেই হারতে হয়েছে বাংলাদেশকে।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যাশা শান্তর
এ অবস্থায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজটি ঘুরে দাঁড়ানোর গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। সেই সঙ্গে দলের হারানো ধারাবাহিকতা ফিরে পাওয়াও বড় চ্যালেঞ্জ। শান্ত মনে করেন, নিজেদের খেলায় উন্নতি আনতে পারলেই পরিস্থিতির পরিবর্তন সম্ভব। বাংলাদেশ অধিনায়ক বলেন, আমাদের ধারাবাহিকতা দরকার। গত দুই-তিনটি টেস্টে আমরা আগে যেভাবে ভালো ক্রিকেট খেলেছি, সেভাবে খেলতে পারিনি। কীভাবে উন্নতি করা যায়, তা নিয়ে আমরা আলোচনা করছি, নানা পরিকল্পনাও করছি। আশা করি, বর্তমান অবস্থান থেকে এই দল আরও ২০ থেকে ৩০ শতাংশ উন্নতি করতে পারবে।
দেশে টেস্ট ক্রিকেট নিয়ে দর্শকদের আগ্রহ বাড়ছে , বিষয়টিকে ইতিবাচক হিসেবেই দেখছেন শান্ত। তার মতে, এই সংস্করণ ঘিরে মানুষের আগ্রহ ও অপেক্ষা ক্রিকেটারদের জন্য বাড়তি প্রেরণা জোগাচ্ছে।
তিনি বলেন, মানুষ এখন টেস্ট ক্রিকেটের জন্য অপেক্ষা করছে, ম্যাচ দেখছে, এই সংস্করণ নিয়ে কথা বলছে—এটা আমাদের জন্য অনেক আনন্দের। আমার মনে হয়, এটি আমাদের জন্য বড় অনুপ্রেরণা।
ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজের পর দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে দুটি টেস্ট খেলবে বাংলাদেশ। প্রতিপক্ষের মাঠে ভিন্ন কন্ডিশনে কঠিন পরীক্ষার মুখে পড়তে হবে দলকে। সে কারণে ঘরের মাঠে আসন্ন দুই টেস্টের গুরুত্বও বেড়েছে। তবে ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ নিয়ে এখনই ভাবতে চান না শান্ত। তার পূর্ণ মনোযোগ প্রথম টেস্টে।
এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এই মুহূর্তে আমি শুধু এই টেস্ট ম্যাচ নিয়েই ভাবছি, পুরো সিরিজ নিয়েও নয়। এ ধরনের ম্যাচ জিততে পারলে আমাদের লক্ষ্যগুলো এমনিতেই অর্জন করা সম্ভব হবে।
নিজেদের পারফরম্যান্সে ধারাবাহিক উন্নতি আনতে পারলে বাংলাদেশ আরও ভালো অবস্থানে পৌঁছাবে বলে আশাবাদী অধিনায়ক। সেই উন্নতির মাধ্যমে জাতীয় দল ও দেশের ক্রিকেটের জন্য ইতিবাচক অর্জন বয়ে আনার প্রত্যাশাও তার।
শান্তর কথায়, আমরা যদি আরও উন্নতি করতে পারি, তাহলে বাংলাদেশ আরও ভালো অবস্থানে যাবে। দেশ ও জাতীয় দলের জন্য ইতিবাচক কিছু অর্জন করতে পারব, ইনশা আল্লাহ।




