আর্জেন্টিনা বনাম ইংল্যান্ড। ফুটবল বিশ্বের অন্যতম তীব্র ও আবেগঘন দ্বৈরথ। দুই দলের আরেকটি বিশ্বকাপ লড়াই সামনে আসতেই আবারও ফিরে আসছে অতীতের নানা স্মৃতি। তারই একটি, বর্তমান আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনি ও ইংল্যান্ড কিংবদন্তি ডেভিড বেকহ্যামের মাঠের উত্তপ্ত সংঘর্ষ।
আজ থেকে ২৪ বছর আগে, লা লিগার শিরোপা নির্ধারণী এক ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল রিয়াল মাদ্রিদ ও দেপোর্তিভো লা করুনিয়া। ম্যাচের শেষ দিকে রাউলের গোলে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায় রিয়াল, প্রায় নিশ্চিত হয়ে যায় শিরোপা।
সেই সময় মাঝমাঠে স্কালোনিকে পেছন থেকে ফাউল করেন বেকহ্যাম। দুজনই মাটিতে পড়ে যান। এমন গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ হাতছাড়া হওয়ার হতাশা আর ট্যাকলের উত্তাপ মিলিয়ে মুহূর্তেই ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন স্কালোনি। উঠে দাঁড়িয়ে সরাসরি বেকহ্যামের মুখোমুখি হন তিনি।
ইংলিশ তারকাও পিছু হটেননি। একপর্যায়ে ধাক্কাধাক্কি শুরু হয় দুজনের মধ্যে। পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে, রবার্তো কার্লোসসহ দুই দলের কয়েকজন খেলোয়াড় ছুটে এসে তাদের আলাদা করেন। শেষ পর্যন্ত রেফারি দুজনকেই হলুদ কার্ড দেখিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
বহু বছর পর সেই ঘটনার কথা স্মরণ করেছিলেন স্কালোনি। তার ভাষায়, সেটি ছিল শিরোপা হারানোর হতাশা থেকে তৈরি হওয়া প্রতিক্রিয়া।
‘আমরা তাদের মাঠে শিরোপার জন্য লড়ছিলাম। ম্যাচ শেষ হওয়ার কয়েক মিনিট আগে তারা এগিয়ে যায়। তখন আবেগ নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন ছিল,’ বলেছিলেন আর্জেন্টিনা কোচ।
মজার বিষয় হলো, এই ঘটনার মাত্র এক বছর আগে ২০০২ বিশ্বকাপে বেকহ্যামের পেনাল্টি গোলে আর্জেন্টিনাকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়েছিল ইংল্যান্ড। সেই পরাজয়ের পর গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিতে হয়েছিল আলবিসেলেস্তেদের।
দুই দশকেরও বেশি সময় পর আবারও বিশ্বমঞ্চে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে ফুটবলের দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী। তবে এবার স্কালোনি মাঠে নন, ডাগআউটে। আর আর্জেন্টিনাকে ইংল্যান্ডের বাধা পেরিয়ে ফাইনালের পথে এগিয়ে নেওয়ার দায়িত্ব তার কাঁধেই।
ফুটবলের ইতিহাসে আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড লড়াই এমনিতেই বিশেষ এক অধ্যায়। তার সঙ্গে স্কালোনি-বেকহ্যামের সেই পুরনো উত্তাপ যোগ হয়ে এবারের মহারণে বাড়তি রোমাঞ্চ যোগ করেছে আরও একবার।


