১০৬ রানের লিড নিয়েও মিরপুর টেস্টে চাপে বাংলাদেশ

ঢাকা টেস্টের তৃতীয় দিনে দারুণ অবস্থান থেকে হঠাৎই ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়েছে বাংলাদেশ। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে প্রথম ইনিংসে ২৭ রানের লিড পাওয়ার পর দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে মাত্র ৭৯ রানেই ৬ উইকেট হারিয়েছে স্বাগতিকরা। ফলে সব মিলিয়ে বাংলাদেশের লিড দাঁড়িয়েছে ১০৬ রানে। তবে হাতে মাত্র চার উইকেট থাকায় ম্যাচে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে টাইগাররা।

শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) মিরপুরে দিনের খেলা নির্ধারিত সময়ের এক ঘণ্টা আগেই শেষ হয়। দিনের শেষ পর্যন্ত ১৮ রান নিয়ে অপরাজিত রয়েছেন জাকের আলী। তার সঙ্গে ১৮ রানে অপরাজিত আছেন নাঈম হাসান।

বাংলাদেশের দ্বিতীয় ইনিংসে ধস নামানোর মূল কারিগর ছিলেন ওয়েস্ট ইন্ডিজ অধিনায়ক রোস্টন চেজ ও জোমেল ওয়ারিক্যান। চেজ মাত্র ১০ বলের মধ্যে তিনটি উইকেট তুলে নিয়ে বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইনআপে বড় ধাক্কা দেন। অন্যদিকে ওয়ারিক্যান শিকার করেন দুটি উইকেট।

চাপে বাংলাদেশ

দ্বিতীয় ইনিংসে শুরু থেকেই বিপাকে পড়ে বাংলাদেশ। শামার জোসেফের বলে দ্বিতীয় স্লিপে চেজের হাতে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফেরেন তানজিদ হাসান। দুই ইনিংস মিলিয়ে হতাশাজনক পারফরম্যান্স করেছেন এই ওপেনার। প্রথম ইনিংসে ৭ রানের পর দ্বিতীয় ইনিংসে কোনো রান না করেই ফেরেন তিনি।

এরপর ১৩ রান করা শাদমান ইসলামকে বোল্ড করেন চেজ। দুই বল পর তাওহীদ হৃদয় মিড-অনে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন। এরপর নাজমুল হোসেন শান্তকে এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলেন ক্যারিবীয় অধিনায়ক। মাত্র ১০ বলের মধ্যে তিন উইকেট তুলে নিয়ে বাংলাদেশকে চরম বিপর্যয়ে ঠেলে দেন তিনি।

চা-বিরতিতে যাওয়ার আগে বাংলাদেশের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৩৪ রানে ৪ উইকেট। এরপরও বিপর্যয় কাটিয়ে উঠতে পারেনি স্বাগতিকরা।

চা-বিরতির পর জোমেল ওয়ারিক্যানের ঘূর্ণিতে আরও বিপাকে পড়ে বাংলাদেশ। লিটন দাসকে ৪ রানে এলবিডব্লিউ করেন তিনি। এরপর মেহেদী হাসান মিরাজকে বোল্ড করে নিজের দ্বিতীয় উইকেট তুলে নেন এই বাঁহাতি স্পিনার। মাত্র ৫৩ রানেই ৬ উইকেট হারিয়ে বড় বিপর্যয়ে পড়ে বাংলাদেশ।

শেষ দিকে জাকের আলী ও নাঈম হাসান অবিচ্ছিন্ন ২৬ রানের জুটি গড়ে দিন শেষ করেন। তাদের ব্যাটে ভর করেই দ্বিতীয় ইনিংসে ৭৯ রান পর্যন্ত পৌঁছায় বাংলাদেশ।

স্পিনার নাইম হাসানের নিয়ন্ত্রিত বোলিং

এর আগে দিনের শুরুতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রথম ইনিংস গুটিয়ে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন নাঈম হাসান। তার দুর্দান্ত বোলিংয়ে ২৪৫ রানে অলআউট হয় ক্যারিবীয়রা। ফলে প্রথম ইনিংসে ২৭ রানের লিড পায় বাংলাদেশ।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে সর্বোচ্চ ৫৬ রান করেন ত্যাগনারায়ণ চন্দরপল। ১৮৪ বলের ধৈর্যশীল ইনিংসে তিনি বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ রান যোগ করেন। দিনের শুরুতে তাইজুল ইসলামের বলে ছক্কা হাঁকিয়ে নিজের অর্ধশতক পূর্ণ করেন তিনি। পরে শরিফুল ইসলামের বলে দ্বিতীয় স্লিপে ক্যাচ দিয়ে বিদায় নেন এই ওপেনার।

এ ছাড়া জন ক্যাম্পবেল করেন ৫৪ রান এবং জাস্টিন গ্রিভসের ব্যাট থেকে আসে ৪৬ রান। গ্রিভস ও চেজ ষষ্ঠ উইকেটে ৫১ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়েন। তবে নাঈম হাসান এলবিডব্লিউ করে গ্রিভসের ইনিংস থামান।

মধ্যাহ্নভোজের পর মেহেদী হাসান মিরাজ জশুয়া বিশপকে স্টাম্পিংয়ের ফাঁদে ফেলেন। এরপর নাঈম হাসান এক ওভারেই শামার জোসেফ ও জোমেল ওয়ারিক্যানকে ফিরিয়ে দেন। শেষ পর্যন্ত জেডেন সিলসকে মিড-অফে ক্যাচ বানিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ইনিংসের সমাপ্তি ঘটান তিনি।

বাংলাদেশের হয়ে প্রথম ইনিংসে দুর্দান্ত বোলিং করে ৩৩ রানে ৪ উইকেট নেন নাঈম হাসান। তার সঙ্গে মেহেদী হাসান ও অন্য বোলাররাও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন।

দিন শেষে স্কোরবোর্ডে এগিয়ে থাকলেও দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিং বিপর্যয় বাংলাদেশের জন্য বড় দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। হাতে মাত্র চার উইকেট নিয়ে চতুর্থ দিনে যতটা সম্ভব লিড বাড়ানোর লক্ষ্য থাকবে স্বাগতিকদের। অন্যদিকে দ্রুত বাংলাদেশকে অলআউট করে জয়ের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নামতে চাইবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

তৃতীয় দিনের সংক্ষিপ্ত স্কোর:

  • বাংলাদেশ: ২৭২ ও ৭৯/৬
  • ওয়েস্ট ইন্ডিজ: ২৪৫
  • বাংলাদেশের মোট লিড: ১০৬ রান

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বোলিং: রোস্টন চেজ ৩/২৫, জোমেল ওয়ারিক্যান ২/১৯।

বাংলাদেশের বোলিং: নাঈম হাসান ৪/৩৩।

spot_imgspot_img
spot_img

Related Articles