ব্যাটিং ব্যর্থতায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে প্রথম টেস্টে জয় তুলে নিতে পারল না বাংলাদেশ। চতুর্থ ইনিংসে ১৭০ রানের সহজ লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে অনায়াস জয় পেয়েছে সফরকারীরা। শনিবার মিরপুরের শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শেষ হওয়া ম্যাচে বাংলাদেশকে ৮ উইকেটে হারিয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। মাত্র ৩৫.১ ওভারেই জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় ক্যারিবীয়রা।
ম্যাচের প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ ২৭২ রানে অলআউট হওয়ার পর ওয়েস্ট ইন্ডিজ থামে ২৪৫ রানে। ফলে ২৭ রানের লিড পায় স্বাগতিকরা। তবে দ্বিতীয় ইনিংসে সেই লিড কাজে লাগাতে পারেনি বাংলাদেশ। ব্যাটিং বিপর্যয়ে মাত্র ১৪২ রানে গুটিয়ে যায় দল। এতে জয়ের জন্য ওয়েস্ট ইন্ডিজের সামনে লক্ষ্য দাঁড়ায় ১৭০ রান, যা সহজেই পেরিয়ে যায় তারা।
এই হারে ঘরের মাঠে বাংলাদেশের টানা পাঁচ টেস্ট জয়ের ধারাও থেমে গেল। এর আগে জিম্বাবুয়ে, আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে দুটি এবং পাকিস্তানের বিপক্ষে দুটি টেস্টে জয় পেয়েছিল টাইগাররা। পরাজয়ের ফলে আইসিসি বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে খেলার স্বপ্নও কঠিন সমীকরণে পড়ে গেল বাংলাদেশের। বাকি পাঁচ ম্যাচের অন্তত চারটিতে জয়ের পাশাপাশি অন্য ম্যাচটি ড্র করতে হবে তাদের।
১৭০ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ছিলেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের দুই ওপেনার ব্র্যান্ডন কিং ও জন ক্যাম্পবেল। মাত্র ১১ ওভারেই দলের সংগ্রহ পঞ্চাশ ছাড়িয়ে নেন তারা। এরপরও একই গতিতে রান তুলতে থাকেন দুজন। ১৯ ওভারেই দলীয় স্কোর পৌঁছে যায় একশতে।
অবশেষে শরিফুল ইসলাম ভাঙেন উদ্বোধনী জুটি। ৫৫ বলে ৬ চার ও এক ছক্কায় ৪৯ রান করে বোল্ড হন ক্যাম্পবেল। এরপর তিন নম্বরে নামা তেজনারাইন চন্দরপলকে ফিরিয়ে কিছুটা স্বস্তি এনে দেন হাসান মাহমুদ।
তবে একপ্রান্ত আগলে রেখে দলকে জয়ের পথে এগিয়ে নেন ব্র্যান্ডন কিং। ১০ চার ও এক ছক্কায় ৮১ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন তিনি। অন্যদিকে কাভেম হজ ২৭ বলে ৪ চার ও এক ছক্কায় করেন ৩১ রান।
এই ইনিংসে নিজেদের দুর্ভাগা ভাবার যথেষ্ট কারণ রয়েছে বাংলাদেশের। ফিল্ডিংয়ে একাধিক ভুলে জীবন পেয়েছেন কিং। পাশাপাশি আম্পায়ার্স কলের কারণে চারবার আউটের সিদ্ধান্ত থেকে বেঁচে যায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটাররা। প্রতিবারই আম্পায়ারের নটআউট সিদ্ধান্তের বিপক্ষে রিভিউ নিয়েছিল বাংলাদেশ। তবে প্রতিবারই আম্পায়ার্স কল থাকায় সিদ্ধান্ত বদলায়নি। আম্পায়ার আউট দিলে চারবারই উইকেট হারাতে পারত ক্যারিবীয়রা।
এর আগে শনিবার সকালে আগের দিনের ৬ উইকেটে ৭৯ রান নিয়ে ব্যাটিং শুরু করে বাংলাদেশ। দিনের প্রথম ওভারেই সাজঘরে ফেরেন জাকের আলি। এরপর শেষ তিন ব্যাটারকে নিয়ে দলের সংগ্রহে আরও ৫৮ রান যোগ করেন নাঈম হাসান। এর মধ্যে তার একার অবদান ৩৩ রান।
হাসান মাহমুদ ৮, তাইজুল ইসলাম ৮ ও শরিফুল ইসলাম ৭ রান করে দলের স্কোরে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। আগের দিন ইতিবাচক ব্যাটিংয়ের আভাস দেওয়া নাঈম শনিবারও নিজের ছন্দ ধরে রাখেন। ক্যারিবীয় স্পিনারদের বিপক্ষে সুইপ শটের দারুণ ব্যবহার করে রান তুলতে থাকেন তিনি।
মূলত নাঈমের ব্যাটিংয়েই নতুন দিনে শেষ চার উইকেটে ৬৩ রান যোগ করতে সক্ষম হয় বাংলাদেশ। ১৯.৪ ওভার ব্যাটিং করে দলকে কিছুটা লড়াইয়ের পুঁজি এনে দেন তিনি।
বাংলাদেশের ব্যাটিং বিপর্যয়ের চিত্র ফুটে উঠেছে প্রথম পাঁচ ব্যাটারের স্কোরেই। তারা সম্মিলিতভাবে করেছেন মাত্র ২৭ রান। বিপরীতে নাঈম একাই করেছেন তাদের প্রায় দ্বিগুণ।
বাংলাদেশকে দেড়শর আগেই থামানোর পথে বল হাতে দুর্দান্ত ছিলেন রস্টন চেইস। ৩৬ রানে ৫ উইকেট নিয়ে ক্যারিয়ারে পঞ্চমবারের মতো পাঁচ উইকেট শিকারের কীর্তি গড়েন তিনি। এছাড়া জোমেল ওয়ারিক্যান ৬৩ রানে নেন ৪ উইকেট।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
- বাংলাদেশ প্রথম ইনিংস: ২৭২ রান
- ওয়েস্ট ইন্ডিজ প্রথম ইনিংস: ২৪৫ রান
- বাংলাদেশ দ্বিতীয় ইনিংস: ১৪২ রান
- ওয়েস্ট ইন্ডিজ দ্বিতীয় ইনিংস: ৩৫.১ ওভারে ১৭০/২ (লক্ষ্য: ১৭০ রান)


