নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে এবার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে হেরে বিদায় নেয় ফর্মের তুঙ্গে থাকা দক্ষিণ আফ্রিকা। সেই হারের প্রতিশোধ নিয়েছে তারা মাউন্ট মঙ্গানুইয়ের বে ওভালে। পাঁচ ম্যাচের টি-২০ সিরিজের প্রথমটিতে আজ স্বাগতিক কিউইদের ৭ উইকেটে হারিয়েছে প্রোটিয়ারা।
নিউজিল্যান্ডের মাটিতে তাদেরকেই ৭ উইকেটের বড় ব্যবধানে হারিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা। কিন্তু এতে করে বিশ্বকাপে হারের জ্বালাটা ভুলতে পারেনি প্রোটিয়ারা। কারণ, কিউইদের কাছে হেরে সেমিফাইনাল থেকে বিদায় ঘটে দক্ষিণ আফ্রিকার।
টি-২০ বিশ্বকাপের পরেই এই সিরিজে মুখোমুখি হয়েছে নিউজিল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকা। সে কারণে ম্যাচে অভিষেক হয়েছে পাঁচ ক্রিকেটারের। এর মধ্যে প্রোটিয়ারা অভিষেক ক্যাপ দিয়েছে চারজনকে। তাছাড়া দুই দলই অনিয়মিত বেশ কয়েকজনকে সুযোগ দিয়েছে এই সিরিজে।

দক্ষিণ আফ্রিকার বোলিংয়ে কিউই ব্যাটিং বিপর্যয়
টস জিতে বিশ্বকাপ রানার্সআপ নিউজিল্যান্ড আগে ব্যাটিংয়ে নামে। কিন্তু প্রথম থেকেই জেরাল্ড কোয়েটজি ও ওটনিল বার্টম্যানের পেস তোপে বিপর্যস্ত হন কিউই ব্যাটাররা। এক সময় মাত্র ৫৪ রানেই ৬ উইকেট হারায় তারা। সপ্তম উইকেটে মিচেল স্যান্টনার ও জেমস নিশাম কিছুটা প্রতিরোধ গড়েছেন।
কিন্তু ২৬ রানেই জুটিটি ভেঙেছে। শেষ পর্যন্ত ১৪.৩ ওভারে মাত্র ৯১ রানেই গুটিয়ে যায় নিউজিল্যান্ডের ইনিংস। নিশাম ২১ বলে দুটি চার ও একটি ছয়ে সর্বোচ্চ ২৬, স্যান্টনার ১৯ বলে দুটি চারে ১৫ ও কোল ম্যাকঙ্কি ১১ বলে একটি চারে ১৫ রান করেন।
দক্ষিণ আফ্রিকার অভিষিক্ত পেসার এনকোবানি মোকোয়েনা ৩.৩ ওভারে ২৬ রান দিয়ে ৩টি উইকেট নেন। এ ছাড়া জেরাল্ড কোয়েটজি, বার্টম্যান ও কেশব মহারাজ ২টি করে উইকেট নেন। কোয়েটজি তিন ওভারে মাত্র ১৪ রান খরচা করেন।

জবাব দিতে নেমে দক্ষিণ আফ্রিকার নিয়মিত ক্রিকেটাররা না থাকায় তাদেরও রান তুলতে সংগ্রাম করতে হয়েছে। নিয়মিত অধিনায়ক এইডেন মার্করাম নেই, মহারাজের নেতৃত্বে নামা প্রোটিয়ারা ৫৫ রানেই তিন উইকেট হারায়। এছাড়া রান তোলার গতিও ছিল শ্লথ। শেষদিকে তাই জয়ের জন্য প্রয়োজনীয় রান ও বলের সংখ্যা প্রায় কাছাকাছি চলে আসে।
নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রোটিয়াদের প্রতিশোধ
অবশ্য অভিষেক হওয়া ওপেনার কনোর এস্টারহুইজেন একাই লড়াই করছিলেন বে ওভালের কঠিন পরিবেশে। শেষ পর্যন্ত তার ব্যাটেই দক্ষিণ আফ্রিকা স্বস্তির জয় তুলে নেয় ২০ বল হাতে রেখেই। ১৬.৪ ওভারে তিন উইকেটে ৯৩ রান তুলে জিতেছে তারা।

এস্টারহুইজেন ৪৮ বলে দুটি করে চার-ছক্কা হাঁকিয়ে ৪৫ রানে অপরাজিত থাকেন। আরেক অভিষিক্ত ডিয়ান ফরেস্টার ২৫ বলে এক বাউন্ডারিতে করেন হার না মানা ১৬ রান। চার ওভারে মাত্র ৮ রান দিয়ে একটি উইকেট নেন স্যান্টনার।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
নিউজিল্যান্ড- ৯১/১০; ১৪.৩ ওভার (নিশাম ২৬, ম্যাকঙ্কি ১৫*, স্যান্টনার ১৫, জ্যাকবস ১০; মোকোয়েনা ৩/২৬, কোয়েটজি ২/১৪, বার্টম্যান ২/২২, মহারাজ ২/২৫)।
দক্ষিণ আফ্রিকা- ৯৩/৩; ১৬.৪ ওভার (এস্টারহুইজেন ৪৫*, ফরেস্টার ১৬*, স্মিথ ১০; স্যান্টনার ১/৮, ফোকস ১/৮, জেমিসন ১/২৮)।
ফল : দক্ষিণ আফ্রিকা ৭ উইকেটে জয়ী।
ম্যাচসেরা : এনকোবানি মোকোয়েনা।
সিরিজ : ৫ ম্যাচ সিরিজে দক্ষিণ আফ্রিকা ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে।
স্কোর কার্ড
বিশ্বকাপ ২০২৩














