তুরস্কের ঝড় ঠেকিয়ে অস্ট্রেলিয়ার জয়। অনেকেই হয়তো ভেবেছিলো অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সহজ জয় পাবে তুরস্ক। কিন্তু না! ভ্যানকুভারে ‘ডি’ গ্রুপের ম্যাচে, বাংলাদেশ সময় রোববার সকালে আর্দা গিলেরের দলকে ২-০ গোলে হারিয়েছে অস্ট্রেলিয়া
পুরো ম্যাচেও আধিপত্য ছিল তাদেরই। তবে সকলকে হতবাক করে তুরস্কের একের পর এক আক্রমণ ঠেকিয়ে দারুণ এক জয় তুলে নিয়েছে সকারুসরা। অজিদের হয়ে গোল করেছেন নেস্টোরি ইরানকুন্ডা এবং কনর মেটকাল্ফ। পুরো ম্যাচে ৭২ শতাংশ বল দখলের পাশাপাশি প্রতিপক্ষের গোল পোস্টে ৩০টি শট নেয় তুরস্ক। তবুও গোলের দেখা পাননি গুলের-ইলদিজরা।
ম্যাচের দুই হাফে দুইটি গোল করে অস্ট্রেলিয়া। ২৭তম মিনিটে কাউন্টার অ্যাটাকে অস্ট্রেলিয়াকে প্রথমবার এগিয়ে দেন ইরানকুন্ডা। তবে ২৬তম মিনিটে দুই দল মিলিয়ে লক্ষ্যে প্রথম শট নেয় তুরস্ক। সতীর্থের কাছ থেকে ডি-বক্সে বল পেয়ে কাজে লাগাতে পারেননি আর্দা গিলের। তার শট সরাসরি যায় গোলরক্ষকের হাতে।
সেখান থেকেই পাল্টা আক্রমণে গোল করে অস্ট্রেলিয়া। নিজেদের অর্ধ থেকে উড়িয়ে বল বাড়ান পল ওকন। নিয়ন্ত্রণে নিয়ে একজনকে পেছনে ফেলে, আরও দুই ডিফেন্ডারের মাঝে দিয়ে বক্সে ঢুকে গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন ইরানকুন্ডা। উল্লাসে মাতে অস্ট্রেলিয়া।
বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়ার জার্সিতে গোল করা সর্বকনিষ্ঠ ফুটবলার ২০ বছর বয়সী ইরানকুন্ডা। জাতীয় দলের হয়ে ষষ্ঠ গোল করলেন শরণার্থী শিবিরে জন্ম নেওয়া এই উইঙ্গার। দুই মিনিট পর সমতা প্রায় ফিরিয়েই ফেলেছিল তুরস্ক। কিন্তু ভাগ্য সহায় হয়নি তাদের। বক্সের বাইরে থেকে জোরাল শট নেন আবুদলকারিম বারদাকচি। অস্ট্রেলিয়ার গোলরক্ষক প্যাট্রিক বিচের হাতের হালকা ছোঁয়ায় পাল্টে যায় বলের দিক। বল আঘাত হানে পোস্টে।
এরপর আরও কয়েকটি আক্রমণ শাণায় তুরস্ক। কিন্তু কাজে লাগাতে পারেনি। অস্ট্রেলিয়াও প্রতি-আক্রমণে দুয়েকবার ভীতি ছড়ায় প্রতিপক্ষ শিবিরে। গোল শোধ করতে মরিয়া হয়ে ওঠা তুরস্ক দ্বিতীয়ার্ধে আরও গোছানো ফুটবল খেলে। প্রতিপক্ষের আঙিনায় একের পর এক হানা দিতে থাকে তারা। কিন্তু বারবার তাদের হতাশ করে দেন অস্ট্রেলিয়ার ডিফেন্ডাররা।
সুযোগ সন্ধানী অস্ট্রেলিয়া কর্নার থেকে গোল করার দারুণ একটি সুযোগ পায়। কিন্তু হ্যারি সুটারের হেড ঠেকিয়ে দেন তুরস্কের গোলরক্ষক। অস্ট্রেলিয়া শিবিরে আক্রমণ চালিয়ে যাওয়া তুরস্ক ৫৬তম মিনিটে ফ্রি কিক পায়। প্রায় ২৫ গজ দূর থেকে নেওয়া গিলেরের শট ডানদিকে ঝাঁপিয়ে থামিয়ে দেন বিচ।
বারবার আক্রমণে উঠলেও শেষটা ভালো হচ্ছিল না তুরস্কের। বলা ভালো, তাদেরকে সেই সুযোগই দিচ্ছিলেন না অস্ট্রেলিয়ার ডিফেন্ডাররা ও গোলরক্ষক। তুরস্কের একের পর এক শট প্রতিহত হয় প্রতিপক্ষের রক্ষণে।
খেলার ধারার বিপরীতে ৭৫তম মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করে অস্ট্রেলিয়া। বক্সের বাইরে থেকে জোরাল শটে বাঁ পাশের নিচের কোণা দিয়ে বল জালে পাঠান ম্যাটক্যাফ অস্ট্রেলিয়ার হয়ে সিনিয়র ফুটবলে দ্বিতীয় গোল করলেন ২৬ বছর বয়সী এই মিডফিল্ডার।
স্কোর কার্ড
বিশ্বকাপ ২০২৩



















