সকাল থেকেই নাগোয়ার আকাশে ছিল ঝলমলে রোদ। শনিবার ছুটির দিন হওয়ায় খেলা শুরুর আগেই নিশিন সিটির করোগি অ্যাথলেটিক পার্কে হাজির হন বাংলাদেশি প্রবাসীরা। ব্রোঞ্জ পদকের ম্যাচে টস হেরে আগে ফিল্ডিংয়ে নামে বাংলাদেশ। শুরুটা ভালো করলেও শেষ দিকে নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারেনি বাংলাদেশি বোলাররা। মোস্তাফিজুর রহমানের খরুচে বোলিংয়ের দিনে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৯ উইকেটে ১৬৫ রান করেছে শ্রীলঙ্কা। ফলে বাংলাদেশকে জিততে করতে হবে ১৬৬ রান।
টস জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া শ্রীলঙ্কার শুরুটা অবশ্য ভালো হয়নি। দুই প্রান্ত থেকে স্পিন আক্রমণ দিয়ে শুরু করে বাংলাদেশ। সেই ঘূর্ণিতে মাত্র চার ওভারের মধ্যেই ৪ উইকেট হারায় শ্রীলঙ্কা। পাকিস্তানের বিপক্ষে আগের ম্যাচে খেলার সুযোগ না পাওয়া রহস্যময় স্পিনার আলিস আল ইসলাম আজ প্রথম স্পেলেই দারুণ বোলিং করেছেন। ৩ ওভারে মাত্র ৭ রান দিয়ে নিয়েছেন ১ উইকেট। তাঁর করা ১৮ বলের ১২টিই ছিল ডট বল।
আগের ম্যাচে সাইফ হাসানকে বোলিংয়ে ব্যবহার করেননি অধিনায়ক লিটন দাস। আজ স্পিনবান্ধব উইকেটে সাইফের হাতে বল তুলে দেন তিনি। তবে প্রথম স্পেলে দুই ওভারে ১৮ রান দেন সাইফ। বাংলাদেশের সবচেয়ে সফল বোলার ছিলেন শেখ মেহেদী হাসান। ৪ ওভারে মাত্র ১৯ রান দিয়ে তিনি নিয়েছেন ২ উইকেট।
১৩ ওভার পর্যন্ত বেশ চাপে ছিল শ্রীলঙ্কা। বল কিছুটা পুরোনো হয়ে আসায় ১৪তম ওভারে অভিজ্ঞ মোস্তাফিজুর রহমানকে আক্রমণে আনেন লিটন। কিন্তু প্রথম ওভারেই ২৫ রান দিয়ে বসেন বাঁহাতি এই পেসার। প্রথম দুই বলেই চার মারেন শ্রীলঙ্কার দুই ব্যাটার। এরপর শাহিন আরচিয়েগে ও থারিন্দু রত্ননায়েকে হাত খুলে খেলতে শুরু করেন।
দুই ওভার বিরতি দিয়ে প্রান্ত বদলে আবার মোস্তাফিজকে আক্রমণে আনেন লিটন। নিজের দ্বিতীয় ওভারে ১১ রান দেন তিনি। রিশাদ হোসেনও শেষ ওভারে ২১ রান খরচ করেন। ফলে ১৩ থেকে ১৮ ওভারের মধ্যে ৮৩ রান তুলে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেয় শ্রীলঙ্কা।
১৮ ওভারে শ্রীলঙ্কার সংগ্রহ ছিল ৫ উইকেটে ১৪৭ রান। এরপর নিজের তৃতীয় ওভারে এসে কিছুটা ছন্দ ফিরে পান মোস্তাফিজ। ওভারের প্রথম বলেই ফিফটি করা থারিন্দু রত্ননায়েকেকে ফেরান তিনি। একই ওভারে আরও একটি উইকেট নিয়ে মাত্র ৭ রান দেন মোস্তাফিজ। শেষ ওভারে বল হাতে নেন সাইফ হাসান। ওই ওভারে ২ উইকেট তুলে নিয়ে শ্রীলঙ্কাকে ৯ উইকেটে ১৬৫ রানে থামান তিনি।




