চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি হকিতে ভারতের বিপক্ষে বড় ব্যবধানে হারের পর ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেও জয় পায়নি বাংলাদেশ। ভারতের জলন্ধরে টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় ম্যাচে জাপানের কাছে ১-০ গোলে হেরেছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। তবে ম্যাচটি বাংলাদেশের সাবেক অধিনায়ক রাসেল মাহমুদ জিমির জন্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত ম্যাচে জাপানের সঙ্গে সমানতালে লড়াই করেছে বাংলাদেশ। প্রথম তিন কোয়ার্টারে দুই দলের কেউই গোলের দেখা পায়নি। রক্ষণ সামলে আক্রমণে যাওয়ার চেষ্টা করেছে উভয় দলই। তবে ম্যাচের শেষ কোয়ার্টারে জাপান একটি গোল করে এগিয়ে যায়।
শেষ সময়ে সমতায় ফেরার জন্য আক্রমণের গতি বাড়ায় বাংলাদেশ। কিন্তু জাপানের রক্ষণ ভেদ করে গোল আদায় করা সম্ভব হয়নি। শেষ পর্যন্ত এক গোলের ব্যবধানেই ম্যাচ শেষ হয়।
এর আগে টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচে শক্তিশালী ভারতের কাছে ১৩-০ গোলে হেরেছিল বাংলাদেশ। দ্বিতীয় ম্যাচে জাপানের বিপক্ষে ব্যবধান কমিয়ে লড়াই করতে পারলেও পয়েন্টের দেখা পায়নি দলটি।
জিমির ক্যারিয়ারে বিশেষ স্বীকৃতি
জাপানের বিপক্ষে ম্যাচটি বাংলাদেশের অভিজ্ঞ হকি খেলোয়াড় রাসেল মাহমুদ জিমির জন্য ছিল স্মরণীয়। আন্তর্জাতিক হকি ফেডারেশনের হিসাব অনুযায়ী, এ ম্যাচের মধ্য দিয়ে ১৫০তম আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার মাইলফলক স্পর্শ করেন বাংলাদেশের সাবেক অধিনায়ক।
এ উপলক্ষে টুর্নামেন্টের আয়োজক কমিটি জিমিকে স্মারক উপহার দিয়ে সম্মাননা জানায়। তবে জিমি ও বাংলাদেশ হকি ফেডারেশনের হিসাব অনুযায়ী, তাঁর আন্তর্জাতিক ম্যাচের সংখ্যা দুই শতাধিক।
দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের হকিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছেন জিমি। জাতীয় দলের হয়ে তাঁর পারফরম্যান্স ও অবদান তাঁকে দেশের হকির পরিচিত মুখগুলোর একজনে পরিণত করেছে। খেলোয়াড়ি জীবনে সাফল্যের পাশাপাশি বিভিন্ন সময় শৃঙ্খলাজনিত বিষয়েও তাঁকে সংবাদ শিরোনামে আসতে হয়েছে।
সামনে বাংলাদেশের আরও তিন ম্যাচ
চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে বাংলাদেশের সামনে এখনো তিনটি ম্যাচ বাকি। পাঁচ দলের এই প্রতিযোগিতায় লিগ পর্ব শেষে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষ চার দল সেমিফাইনালে খেলবে। বাকি দুই দল পঞ্চম স্থান নির্ধারণী ম্যাচে মুখোমুখি হবে।
পাকিস্তান ভারতে খেলতে অনাগ্রহী হওয়ায় বাংলাদেশ এই প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পেয়েছে। তবে প্রথম দুই ম্যাচে হারায় পরবর্তী ম্যাচগুলোতে ভালো ফল করা বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
ভারতের বিপক্ষে বড় পরাজয়ের পর জাপানের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ম্যাচ খেললেও গোলের অভাব ভুগিয়েছে বাংলাদেশকে। বাকি তিন ম্যাচে আক্রমণভাগের কার্যকারিতা বাড়িয়ে ঘুরে দাঁড়ানোই এখন দলের প্রধান লক্ষ্য।


