ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজের শুরুটা হতাশায় রাঙাল বাংলাদেশ। ব্যাটিং বিপর্যয়ে জিম্বাবুয়ের কাছে ৯৯ রানের বড় ব্যবধানে হেরেছে তাওহীদ হৃদয়ের দল। শনিবার রাতে আবুধাবিতে জিম্বাবুয়ের দেওয়া ২৭২ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ৩৩.৪ ওভারে মাত্র ১৭২ রানেই গুটিয়ে যায় বাংলাদেশ।
বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ ৪৬ রান করেন ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম। চার নম্বরে ব্যাট করতে নেমে সাইফ হাসান করেন ২৬ রান। এ ছাড়া সৌম্য সরকার ৯, নাজমুল হোসেন শান্ত ৪, অধিনায়ক তাওহীদ হৃদয় ১৩, মোসাদ্দেক হোসেন ১১ ও নুরুল হাসান সোহান করেন ৫ রান। জিম্বাবুয়ের বোলারদের সামনে কার্যত দাঁড়াতেই পারেননি বাংলাদেশের ব্যাটাররা।
দলীয় ১২৯ রানের মধ্যে ৮ উইকেট হারিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে পড়ে বাংলাদেশ। এরপর রিশাদ হোসেন ও তাসকিন আহমেদ কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেন। রিশাদ ৩৩ বলে ২৩ রান করে আউট হন। মোস্তাফিজুর রহমান করেন ৬ রান। ১৬ রান নিয়ে অপরাজিত থাকেন তাসকিন।
এর আগে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে তাসকিন আহমেদের বোলিং তোপে শুরুতেই বিপাকে পড়ে জিম্বাবুয়ে। ইনিংসের প্রথম ওভারেই ব্রায়ান বেনেটকে এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলেন তাসকিন। শূন্য রানেই প্রথম উইকেট হারায় সফরকারীরা। নিজের তৃতীয় ওভারে বেন কারানকে ফিরিয়ে দ্বিতীয় সাফল্য পান বাংলাদেশের এই পেসার। ১১ বলে ৬ রান করেন কারান।
এরপর অভিষিক্ত টাফাডজোয়া সিগারকেও ফেরান তাসকিন। ১৫ বলে তিন চারে ১৬ রান করে আউট হন তিনি। শুরুতে তিন উইকেট হারিয়ে চাপে পড়লেও পরে ঘুরে দাঁড়ায় জিম্বাবুয়ে। অভিজ্ঞ ব্রেন্ডন টেইলর ও ক্রেইগ আরভাইনের ব্যাটে বড় সংগ্রহের ভিত পায় দলটি।
চতুর্থ উইকেটে টেইলর ও আরভাইনের ১৫০ রানের জুটি বাংলাদেশের বোলারদের ম্যাচে ফেরার পথ কঠিন করে তোলে। ১০১ বলে ১০ চারে ৮১ রান করে টেইলরকে ফিরিয়ে এই জুটি ভাঙেন সাইফ হাসান। এরপর নিজের দ্বিতীয় ওভারে সিকান্দার রাজাকেও সাজঘরে ফেরান তিনি। ৫ বলে ৪ রান করেন রাজা।
৪০ ওভারে ৫ উইকেটে ২০১ রান তুলে নেয় জিম্বাবুয়ে। পরে ওয়েসলি মাধেভেরেকে ফিরিয়ে দেন রিশাদ হোসেন। ১৫ বলে ১৫ রান করেন তিনি। শেষ দিকে পরপর দুই উইকেট তুলে নেন শরিফুল ইসলাম। ১০৬ বলে ৯ বাউন্ডারিতে ৯৩ রান করে আউট হন ক্রেইগ আরভাইন। ব্র্যাড ইভানস করেন ৫ রান।
শেষ দিকে ওয়েলিংটন মাসাকাদজা ও নিউম্যান নিয়ামুরি অপরাজিত থেকে দলের সংগ্রহ ২৭১ রানে নিয়ে যান। দুজনই করেন ২১ রান করে। বাংলাদেশের হয়ে তাসকিন তিনটি উইকেট নেন। শরিফুল ও সাইফ হাসানের শিকার দুটি করে উইকেট।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
জিম্বাবুয়ে: ৫০ ওভারে ২৭১/৮
বাংলাদেশ: ৩৩.৪ ওভারে ১৭২/১০
ফল: জিম্বাবুয়ে ৯৯ রানে জয়ী।


