এএফসি অনূর্ধ্ব-১৭ নারী এশিয়ান কাপের বাছাইপর্বে নিজেদের প্রথম ম্যাচে স্বাগতিক উজবেকিস্তানের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। বৃহস্পতিবার তাশখন্দের দোস্তলিক স্টেডিয়াম ট্রেনিং গ্রাউন্ডে গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচে মাঠে নামবে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। ম্যাচটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় বিকাল ৫টায়। দীর্ঘ প্রস্তুতি, একাধিক অনুশীলন সেশন এবং দুটি প্রস্তুতি ম্যাচের পর আত্মবিশ্বাস নিয়েই বাছাইপর্বের মিশন শুরু করতে চায় বাংলাদেশের কিশোরীরা।
এবারের বাছাইপর্বে বাংলাদেশের লক্ষ্য একটাই, ১২ দলের চূড়ান্ত পর্বে জায়গা করে নেওয়া। এর আগে ২০১৭ ও ২০১৯ সালে এএফসি অনূর্ধ্ব-১৭ নারী এশিয়ান কাপের মূল পর্বে খেলেছিল বাংলাদেশ। তবে সর্বশেষ দুই আসরে আর সেই সাফল্যের পুনরাবৃত্তি করতে পারেনি দলটি। এবার সেই আক্ষেপ ঘোচানোর লক্ষ্যেই শুরু হচ্ছে নতুন অভিযান।

বাছাইপর্বের প্রস্তুতির জন্য দীর্ঘ সময় ধরে ক্যাম্প করেছে বাংলাদেশ। দেশে অনুশীলনের পাশাপাশি জর্ডানের বিপক্ষে দুটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলেছে দলটি। এরপর মূল প্রতিযোগিতার পাঁচ দিন আগেই উজবেকিস্তানে পৌঁছে যায় বাংলাদেশ। ফলে স্থানীয় আবহাওয়া ও পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি পর্যাপ্ত অনুশীলনের সুযোগও পেয়েছে মেয়েরা। তাশখন্দে পৌঁছানোর পর ইতোমধ্যে পাঁচটি অনুশীলন সেশন সম্পন্ন করেছে দল।
বাংলাদেশের প্রধান কোচ ও টেকনিক্যাল ডিরেক্টর একেএম সাইফুল বারী টিটু মনে করেন, ম্যাচের আগে এই প্রস্তুতি দলের জন্য বেশ কাজে এসেছে। তিনি বলেন, “এখানে আসার পর পাঁচটি অনুশীলন সেশন আমাদের জন্য খুবই ভালো হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচের জন্য আমরা নিজেদের সর্বোচ্চ প্রস্তুত করার চেষ্টা করেছি। সামগ্রিকভাবে মেয়েরা প্রস্তুত।”
বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ উজবেকিস্তান অবশ্য নিজেদের প্রথম ম্যাচেই বড় ধাক্কা খেয়েছে। গ্রুপের অন্যতম শক্তিশালী দল ফিলিপাইনের কাছে ৪-০ গোলে হেরেছে স্বাগতিকরা। সেই ম্যাচটি পর্যবেক্ষণ করেছেন টিটু। বড় ব্যবধানে হারলেও উজবেকিস্তানের খেলায় কিছু ইতিবাচক দিক খুঁজে পেয়েছেন বাংলাদেশের কোচ। বিশেষ করে প্রথমার্ধে স্বাগতিকদের মানসিক দৃঢ়তা তাঁর নজর কেড়েছে।

উজবেকিস্তানের বিপক্ষে তাই শুরু থেকেই নিজেদের পরিকল্পনা অনুযায়ী খেলতে চান টিটু। প্রতিপক্ষকে অতিরিক্ত সমীহ না করে নিজেদের খেলায় মনোযোগী থাকার পাশাপাশি বলের দখল ধরে রাখার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। সুযোগ পেলেই আক্রমণে গিয়ে সেট-পিস থেকে গোলের সুযোগ কাজে লাগানোর পরিকল্পনাও রয়েছে বাংলাদেশের।
টিটু বলেন, “আমাদের আরও উদ্যমী ও প্রাণবন্ত হতে হবে। আমাদের পরিকল্পনা হলো শান্ত থেকে বলের দখল ধরে রাখা এবং সুযোগ কাজে লাগানো। বিশেষ করে সেট-পিস থেকে পাওয়া সুযোগগুলো কাজে লাগাতে হবে।”
বাংলাদেশের জন্য স্বস্তির আরেকটি বিষয় হতে পারে ম্যাচের সময়কার আবহাওয়া। স্থানীয় সময় বিকেল সাড়ে ৪টায় শুরু হবে ম্যাচটি। তাশখন্দের বর্তমান আবহাওয়া বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের শারীরিক সক্ষমতা ও সহনশীলতার জন্য সহায়ক হবে বলে মনে করছেন টিটু। দীর্ঘ সময় ধরে মাঠে উচ্চ মাত্রার শারীরিক লড়াই চালিয়ে যাওয়ার জন্য মেয়েরা প্রস্তুত বলেও জানিয়েছেন তিনি।
“আবহাওয়া খুবই ভালো, যা মেয়েদের শারীরিক সক্ষমতা, সহনশীলতা ও স্ট্যামিনার ক্ষেত্রে সাহায্য করবে। আমরা চাই তারা পুরো ৯০ মিনিটেরও বেশি সময় লড়াই করতে পারে,” বলেন বাংলাদেশের কোচ।
উজবেকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচটি বাংলাদেশের জন্য শুধু বাছাইপর্বের প্রথম ম্যাচ নয়, বরং এশিয়ার মূল মঞ্চে ফেরার স্বপ্নপূরণের পথে প্রথম বড় পরীক্ষা। দীর্ঘ প্রস্তুতির পর এখন মাঠের পারফরম্যান্সে তার প্রতিফলন ঘটাতে হবে মেয়েদের। নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী খেলতে পারলে স্বাগতিকদের বিপক্ষে ভালো ফল পাওয়া সম্ভব—এমন বিশ্বাস নিয়েই মাঠে নামবে বাংলাদেশ।
গত দুই আসরে মূল পর্বে জায়গা না পাওয়ার হতাশা এবার পেছনে ফেলে নতুন করে পথচলা শুরু করতে চায় লাল-সবুজের কিশোরীরা। কোচ টিটুর কণ্ঠেও সেই আত্মবিশ্বাস স্পষ্ট—“মেয়েরা প্রস্তুত।” এখন সেই প্রস্তুতিকে মাঠের লড়াইয়ে রূপ দেওয়ার পালা।


