ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তায় অনুষ্ঠিত এশিয়ান গেমস বাছাইপর্বে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখিয়ে রানার্সআপ হয়েছে বাংলাদেশ নারী হকি দল। টুর্নামেন্টের ফাইনালে তারা শক্তিশালী চাইনিজ তাইপের কাছে হেরেছে ৩-১ গোলে। যদিও শিরোপা জেতা হয়নি, তবুও এই টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের মেয়েরা যে সাফল্য দেখিয়েছে, তা দেশের নারী হকির ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হয়ে থাকবে।
ফাইনাল ম্যাচের শুরুটা ছিল বাংলাদেশের জন্য স্বপ্নের মতো। ম্যাচের মাত্র ৮ মিনিটে অধিনায়ক অর্পিতা পাল পেনাল্টি কর্নার থেকে নিখুঁত শটে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন। প্রথম কোয়ার্টারে বাংলাদেশ এই লিড ধরে রাখতে সক্ষম হয় এবং প্রতিপক্ষকে কোনো সুযোগ দেয়নি। এতে করে ম্যাচের শুরুতে বাংলাদেশের আত্মবিশ্বাস অনেকটাই বেড়ে যায়।

তবে দ্বিতীয় কোয়ার্টারে ম্যাচের চিত্র পাল্টাতে শুরু করে। কোয়ার্টারের দ্বিতীয় মিনিটেই চাইনিজ তাইপের খেলোয়াড় ওয়াং চিউ একটি ফিল্ড গোল করে ম্যাচে সমতা ফেরান। এরপর উভয় দলই বেশ কয়েকটি আক্রমণ চালালেও আর কোনো গোল হয়নি। ফলে ১-১ সমতায় প্রথমার্ধ শেষ করে দুই দল ড্রেসিংরুমে ফিরে যায়।
তৃতীয় কোয়ার্টারে চাইনিজ তাইপে আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে। কোয়ার্টারের শুরুতেই তারা আরেকটি ফিল্ড গোল করে এগিয়ে যায়। বাংলাদেশের রক্ষণভাগ চেষ্টা করেও সেই আক্রমণ ঠেকাতে পারেনি। এর কিছুক্ষণ পর আবারও একটি গোল করে তারা ব্যবধান ৩-১ করে ফেলে। এতে করে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি তাদের কাছে চলে যায়।
চতুর্থ কোয়ার্টারে বাংলাদেশ ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা চালায়। এই সময় তারা একাধিক পেনাল্টি কর্নার আদায় করে। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে তারা সেই সুযোগগুলো কাজে লাগাতে পারেনি। শেষ পর্যন্ত আর কোনো গোল না হওয়ায় চাইনিজ তাইপে ৩-১ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে এবং শিরোপা উদযাপনে মেতে ওঠে।
টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের বড় অর্জন
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, গ্রুপ পর্বে এই একই প্রতিপক্ষের বিপক্ষে বাংলাদেশ ৫-৫ গোলে ড্র করেছিল। যদিও ফাইনালে সেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখা সম্ভব হয়নি। তবুও পুরো টুর্নামেন্ট জুড়ে বাংলাদেশের মেয়েদের পারফরম্যান্স ছিল প্রশংসনীয়।
সবচেয়ে বড় অর্জন হলো, এই টুর্নামেন্টের মাধ্যমে বাংলাদেশ নারী হকি দল প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অংশ নেয়। শুধু তাই নয় বাছাই পর্বের এই টুর্নামেন্টের মধ্য দিয়ে তারা এশিয়ান গেমসে খেলার যোগ্যতা অর্জন করে নেয়।
এর আগে দেশের নারী হকিতে কোনো জাতীয় দলই ছিল না। সেমিফাইনালে সিঙ্গাপুর-কে হারিয়ে ফাইনালে ওঠার মধ্য দিয়েই তারা নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দেয়।
সব মিলিয়ে, শিরোপা না জিতলেও এই টুর্নামেন্ট বাংলাদেশ নারী হকির জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে। এখন সামনে এশিয়ান গেমসের মতো বড় মঞ্চ। যেখানে আরও বড় চ্যালেঞ্জের জন্য প্রস্তুতি নেবে অর্পিতা পাল ও তার দল।
স্কোর কার্ড
বিশ্বকাপ ২০২৩



















