২-১ গোলে জয় সেলেসসাওদের
জাপানকে হারিয়ে শেষ ১৬ তে ব্রাজিল ! হিউস্টনের এনআরজি স্টেডিয়ামে আজ যা ঘটল, তা ফুটবল ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর ‘রাউন্ড অব থার্টি টু’-এর মহা নাটকীয় ম্যাচে এশিয়ান পরাশক্তি জাপানকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে শেষ ১৬ (রাউন্ড অব সিক্সটিন) নিশ্চিত করল পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। প্রথমার্ধে পিছিয়ে পড়ার পর অভিজ্ঞ ক্যাসেমিরোর সমতাসূচক গোল এবং অন্তিম মুহূর্তে গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লির জাদুকরী ফিনিশিংয়ে মাঠ ছাড়ে সেলেসাওরা।
২৮ মিনিটে সানোর ধাক্কা এবং স্তব্ধ ব্রাজিল
ম্যাচের শুরু থেকেই লাতিন আমেরিকার নান্দনিক ফুটবলকে বোতলবন্দী করে ফেলে জাপানের নিখুঁত প্রেসিং ফুটবল। ম্যাচের ২৮তম মিনিটে এক দুর্দান্ত কাউন্টার-অ্যাটাক থেকে জাপানের মিডফিল্ডার কাইশু সানো নিখুঁত ও বুলেট গতির শটে বল ব্রাজিলের জালে জড়িয়ে দেন। অ্যালিসন বেকার ডানদিকে ঝাঁপিয়েও বলের নাগাল পাননি। ১-০ গোলে পিছিয়ে থেকে প্রথমার্ধ শেষ করায় ব্রাজিলের ডাগআউটে হতাশা আর শূন্যতা স্পষ্ট হয়ে উঠছিল।
৫৬ মিনিটে ত্রাতা ক্যাসেমিরো সমতায় ফিরল সেলেসাওরা
দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই গোল শোধে মরিয়া হয়ে ওঠে ব্রাজিল। অবশেষে ৫৬তম মিনিটে আসে সেই কাঙ্ক্ষিত মাহেন্দ্রক্ষণ। কর্নার থেকে উড়ে আসা বলে জাপানি ডিফেন্ডারদের পরাস্ত করে দুর্দান্ত এক হেডে বল জালে জড়ান ব্রাজিলের অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার ক্যাসেমিরো! এই গোলের মাধ্যমে ১-১ সমতায় ফেরে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা, আর গ্যালারিতে প্রাণ ফিরে পায় হলুদ সমর্থকরা।
মাঠের চিত্র: সমতায় ফেরার পর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে নেয় ব্রাজিল। তবে জাপানি ডিফেন্সের নিরেট দেয়াল এবং গোলরক্ষক জায়ন সুজুকির একের পর এক সেভে ৯০ মিনিট পর্যন্ত স্কোরলাইন ১-১ ই থাকে।
৯৫ মিনিটে মার্তিনেল্লির মহাকাব্যিক জয়সূচক গোল!
খেলার যখন অতিরিক্ত সময়ের দিকে গড়াচ্ছিল, ঠিক তখনই আসে ম্যাচের আসল টুইস্ট। যোগ করা সময়ের ৯৫তম মিনিটে (৯০+৫’) জাপানি ডিফেন্সের সামান্যতম ফাঁক গলে বল পান গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লি। চোখের পলকে জাপানি গোলরক্ষককে পরাস্ত করে বল জালে জড়াতেই পুরো হিউস্টন স্টেডিয়াম যেন এক জীবন্ত আগ্নেয়গিরিতে পরিণত হয়!
মার্তিনেল্লির গোলের পরপরই রেফারি শেষ বাঁশি বাজাতেই কান্নায় ভেঙে পড়েন জাপানের ফুটবলাররা। অন্যদিকে ডাগআউট থেকে ফুটবলার এবং কোচিং স্টাফরা মাঠে দৌড়ে এসে মেতে ওঠেন এক রূপকথার জয়ের উদযাপনে। নকআউটের এই অগ্নিপরীক্ষা পার করে কার্লো আনচেলত্তির দল এখন বুক চিতিয়ে পা রাখল বিশ্বকাপের শেষ ১৬-র মঞ্চে!
