৬০ বছর পর বিশ্বকাপের মঞ্চে এক অনন্য কীর্তি গড়লেন কানাডার ফরোয়ার্ড জোনাথন ডেভিড। ১৯৬৬ সালের বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের জিওফ হার্স্টের পর প্রথম স্বাগতিক ফুটবলার হিসেবে বিশ্বমঞ্চে হ্যাটট্রিক করার গৌরব অর্জন করলেন তিনি। তাঁর এই ঐতিহাসিক পারফরম্যান্সে ভর করে ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর ‘বি’ গ্রুপের ম্যাচে এশিয়ান চ্যাম্পিয়ন কাতারকে ৬-০ গোলের বিশাল ব্যবধানে বিধ্বস্ত করেছে সহ-আয়োজক কানাডা।
ভ্যাঙ্কুভারে ঘরের মাঠে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে শুরু থেকেই কাতারের ওপর স্টিমরোলার চালায় কানাডিয়ানরা। ম্যাচের অধিকাংশ সময় ৯ জন নিয়ে খেলা কাতারের রক্ষণভাগকে খড়কুটোর মতো উড়িয়ে দিয়ে নকআউট পর্বের টিকিট কাটার দৌড়ে বেশ এগিয়ে গেল জেসি মার্শের দল।
প্রথমার্ধেই চালকের আসনে স্বাগতিকরা
অতীতে ১৯৮৬ ও ২০২২ সালের বিশ্বকাপে অংশ নিলেও কোনো ম্যাচ জিততে পারেনি কানাডা। তবে এবার ঘরের মাঠে নিজেদের চেনা আঙ্গিনায় শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল উপহার দেয় তারা।
- ১৬ মিনিট: জোনাথন ডেভিডের একটি জোরালো শট কাতার গোলরক্ষক ঠিকমতো গ্লাভসবন্দী করতে না পারলে, ফিরতি বলে আলতো টোকায় কানাডাকে এগিয়ে নেন কাইল ল্যারিন।
- ২৯ মিনিট: তাজন বিউক্যানানের শট ডি-বক্সের মুখে ডেভিডের গায়ে বাধা পেলে, চমৎকার এক ভলিতে ব্যবধান ২-০ করেন এই ইউভেন্তুস তারকা।
লাল কার্ডের ধাক্কা ও কাতার শিবিরের বিপর্যয়
দুই গোল হজমের পরপরই ম্যাচ থেকে পুরোপুরি ছিটকে পড়ে কাতার। পাল্টা আক্রমণে এগিয়ে যাওয়া বিউক্যানানকে ডি-বক্সের ঠিক বাইরে ফাউল করেন কাতারের ডিফেন্ডার হোমাম এল আমিন। শুরুতে রেফারি পেনাল্টি ও হলুদ কার্ডের সিদ্ধান্ত দিলেও, ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (VAR)-এর সহায়তায় ফাউলের তীব্রতা দেখে এল আমিনকে সরাসরি লাল কার্ড দেখিয়ে মাঠছাড়া করেন।
১০ জনের কাতারের ওপর চাপ বজায় রেখে প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে ল্যারিনের শট গোলরক্ষক আটকে দিলে, রিবাউন্ড থেকে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন ডেভিড (৩-০)।
কোনের গুরুতর চোট ও মাদিবোর লাল কার্ড
দ্বিতীয়ার্ধের ৫৩ মিনিটে মাঝমাঠের একটি ঘটনা বিসি প্লেস স্টেডিয়ামকে স্তব্ধ করে দেয়। কাতারের আসিম মাদিবোর এক ভয়াবহ ট্যাকলে পা ভেঙে যায় কানাডার মিডফিল্ডার ইসমায়েল কোনের। গুরুতর আহত কোনেকে স্ট্রেচারে করে মাঠের বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়। এই বিপজ্জনক ফাউলের অপরাধে মাদিবোকে রেফারি সরাসরি লাল কার্ড দেখালে কাতার পরিণত হয় ৯ জনের দলে।
গোলের মহড়া ও ডেভিডের হ্যাটট্রিক রেকর্ড
৯ জনের দল নিয়ে কানাডার আক্রমণভাগকে ঠেকানো কাতারের পক্ষে অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায়।
- ৬০ মিনিট: কোনের পরিবর্তে মাঠে নামা ন্যাথান সালিবা দুর্দান্ত এক বাঁকানো ফ্রি-কিকে বল জালে জড়ান। চলতি বিশ্বকাপে সরাসরি ফ্রি-কিক থেকে এটিই প্রথম গোল।
- ৭০ মিনিট: জেকব শাফলবার্গের শট ক্লিয়ার করতে গিয়ে নিজেদের জালেই বল জড়িয়ে বসেন কাতারের মোহামেদ মানাই (আত্মঘাতী গোল)।
- ৯০+২ মিনিট: ম্যাচের শেষ মুহূর্তে স্যালিবার শট নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নিচু শটে কাতার গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন জোনাথন ডেভিড। এই গোলের মাধ্যমে জাতীয় দলের হয়ে নিজের ৪২তম গোলটি করার পাশাপাশি বিশ্বকাপে ঐতিহাসিক হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন তিনি।
পুরো ম্যাচের ৭৫ শতাংশের বেশি সময় বল দখলে রেখে কাতার গোলপোস্টে ৩৩টি শট নেয় কানাডা, যার মধ্যে ১০টি ছিল অন-টার্গেট। বিপরীতে কাতার পুরো ম্যাচে মাত্র ২টি শট নিলেও তার একটিও কানাডার গোলপোস্টের উদ্দেশ্যে ছিল না। বিশ্বমঞ্চে নিজেদের প্রথম জয়টি স্মরণীয় এক গোল উৎসবের মাধ্যমেই উদযাপন করলো কানাডা।
গ্রুপ পর্বের সমীকরণ
এই জয়ের পর ২ ম্যাচ শেষে ১ জয় ও ১ ড্রয়ে ৪ পয়েন্ট নিয়ে ‘বি’ গ্রুপের শীর্ষস্থান মজবুত করলো কানাডা। সমান ৪ পয়েন্ট নিয়ে গোল ব্যবধানে পিছিয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে সুইজারল্যান্ড। অন্যদিকে বসনিয়া ও কাতারের পয়েন্ট ১ করে।
স্কোর কার্ড
বিশ্বকাপ ২০২৩















