বিশ্বকাপের বাঁচা মরার লড়াইয়ে কানাডা ও দ.আফ্রিকা। রোমাঞ্চ আর উত্তেজনার মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে ফিফা বিশ্বকাপের প্রথম পর্ব। এবার শুরু বাঁচা মরার লড়াই। যেখানে একটিমাত্র ভুলই বিদায়ের কারণ হতে পারে। সেই লড়াই রোববার রাত ১টায় লস অ্যাঞ্জেলসে মুখোমুখি হবে দক্ষিণ আফ্রিকা-কানাডা।
৪৮ বলের বিশ্বকাপ থেকে বাদ পড়েছে ১৬ দল। এবার বিশ্বকাপে দ্বিতীয় রাউন্ডের অংশ নেমে ৩২টি দল। যেখানে শেষ ষোলোর টিকিটের প্রথম যুদ্ধে মুখোমুখি দক্ষিণ আফ্রিকা-কানাডা। এই ম্যাচে দুই দলই নিজেদের সর্বোচ্চটা উজাড় করে দিতে প্রস্তুত। গ্রুপ পর্বে দুই দলই দারুণ লড়াই করে নকআউটে জায়গা করে নিয়েছে। গ্রুপ এ থেকে দক্ষিণ আফ্রিকা প্রথম পর্বে তিন ম্যাচের একটি করে জয়,ড্র ও হারে ৪ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় রাউন্ডের উঠেলে রানার্সআপ হয়েছে।
অন্যদিকে গ্রুপ বি থেকে কানাডা একটি করে জয়,ড্র ও হার নিয়ে দ্বিতীয় রাউন্ডে জায়গা করে নিয়েছে রানার্সআপ হয়ে। তবে এই লড়াই শক্তি, সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সে কানাডাকে কিছুটা এগিয়ে রাখছেন ফুটবল বিশ্লেষকরা।
ইউরোপের বিভিন্ন লিগে খেলা একাধিক অভিজ্ঞ ফুটবলার নিয়ে গড়া কানাডার দলটি গতি, শারীরিক সক্ষমতা এবং দ্রুত পাল্টা আক্রমণে বেশ কার্যকর। অন্যদিকে দক্ষিণ আফ্রিকার মূল শক্তি দলগত। দলীয় সুযোগ কাজে লাগানোর দক্ষতা।
দুই দলের মুখোমুখি লড়াইয়ের ইতিহাস খুব বেশি দীর্ঘ নয়। আন্তর্জাতিক ফুটবলে তাদের দেখা হয়েছে হাতে গোনা কয়েকবার। সেসব ম্যাচে কানাডার জয় বেশি হলেও দক্ষিণ আফ্রিকাও একাধিকবার কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলেছে। ফলে পরিসংখ্যান কানাডার পক্ষে থাকলেও মাঠের লড়াই যে সমানে সমান হতে যাচ্ছে, সেটি বলাই যায়।
ফিফা র্যাঙ্কিংয়েও কানাডা দক্ষিণ আফ্রিকার চেয়ে এগিয়ে রয়েছে। সাম্প্রতিক কয়েক বছরে ধারাবাহিক উন্নতি করেছে উত্তর আমেরিকার দলটি। বিশ্বকাপের আগে প্রস্তুতি ম্যাচগুলোতেও তারা ইতিবাচক ফল পেয়েছে। অন্যদিকে দক্ষিণ আফ্রিকা আফ্রিকান অঞ্চলের বাছাইপর্বে দৃঢ় পারফরম্যান্স দেখিয়ে বিশ্বকাপে জায়গা করে নেয় এবং গ্রুপ পর্বেও আত্মবিশ্বাসী ফুটবল উপহার দিয়েছে।
ম্যাচের বড় পার্থক্য গড়ে দিতে পারে মধ্যমাঠের নিয়ন্ত্রণ। কানাডা শুরু থেকেই বলের দখল ধরে রেখে আক্রমণে যেতে চাইবে। দক্ষিণ আফ্রিকা অপেক্ষা করবে প্রতিপক্ষের ভুলের জন্য এবং দ্রুত কাউন্টার অ্যাটাকে গোলের সুযোগ তৈরি করার চেষ্টা করবে।
কাগজে-কলমে কানাডা কিছুটা ফেবারিট হলেও নকআউট ফুটবলে অতীতের পরিসংখ্যান কিংবা র্যাঙ্কিংয়ের খুব বেশি মূল্য থাকে না। ৯০ মিনিটের লড়াইয়ে যে দল স্নায়ুর চাপ সামলে নিজেদের পরিকল্পনা সফলভাবে বাস্তবায়ন করতে পারবে, তারাই শেষ ষোলোর টিকিট নিশ্চিত করবে।
স্কোর কার্ড
বিশ্বকাপ ২০২৩



















