পাকিস্তানের বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্টের প্রথম দিনে বৃষ্টির কারণে খেলা বাধাগ্রস্ত হলেও লড়াই করে দিন শেষ করেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। জাস্টিন গ্রিভসের অপরাজিত হাফ সেঞ্চুরি এবং রস্টন চেজের সঙ্গে তাঁর অবিচ্ছিন্ন ৬৬ রানের জুটিতে দিন শেষে স্বাগতিকদের সংগ্রহ দাঁড়িয়েছে ৫ উইকেটে ২৩৯ রান।
দিনের শেষ পর্যন্ত জাস্টিন গ্রিভস ৬৪ এবং অধিনায়ক রস্টন চেজ ৩৬ রানে অপরাজিত আছেন। পাকিস্তানের হয়ে মোহাম্মদ আলী নিয়েছেন দুটি উইকেট।
কুইন্স পার্ক ওভালে শুরু থেকেই ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটাররা দ্রুত রান তুলতে থাকেন। প্রথম ৯.৫ ওভারেই ৪৯ রান জমা করে স্বাগতিকরা। তবে এরপর বৃষ্টির কারণে আগেভাগেই মধ্যাহ্নভোজের বিরতিতে যেতে হয় দুই দলকে।
বিরতির ঠিক আগে মোহাম্মদ আলীর বলে তেগনারাইন চন্দরপল আউট হলে কিছুটা স্বস্তি পায় পাকিস্তান। খেলা পুনরায় শুরু হলে ম্যাচের চিত্রও বদলে যায়।
স্পিনবান্ধব উইকেটে পাকিস্তানের আলী উসমান ও সাজিদ খান একসঙ্গে আক্রমণে আসেন। তাঁদের বোলিংয়ে চাপে পড়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটিং। রিভিউ নিয়ে ব্র্যান্ডন কিংকে ফিরিয়ে টেস্ট ক্রিকেটে নিজের প্রথম উইকেট পান আলী উসমান।
এরপর সাজিদ খানের বলে কেভেম হজও ফিরে গেলে চাপে পড়ে যায় স্বাগতিকরা। তবে শাই হোপ ও আমির জাঙ্গু পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন। হোপের দারুণ একটি ছক্কায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ ফের আক্রমণাত্মক ব্যাটিং শুরু করে।
পাকিস্তান অধিনায়ক বাবর আজম এরপর আবারও পেস আক্রমণে ফেরেন। অভিষিক্ত উবায়েদ শাহকে আক্রমণে আনেন তিনি। নিজের প্রথম ওভারেই আমির জাঙ্গুর উইকেট পেলেও পরবর্তী সময়ে নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারেননি উবায়েদ।
এরপর জাস্টিন গ্রিভস ব্যাট হাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। ওভারপিচড বল পেলেই কভার দিয়ে সীমানা ছাড়া করতে থাকেন তিনি। গ্রিভসের সঙ্গে জুটি গড়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে এগিয়ে নেন শাই হোপ।
তবে শেষ সেশনের শুরুতে মোহাম্মদ আলীর বলে শাই হোপের ইনিংস শেষ হয়। তাঁর বিদায়ের পর উইকেটের খুব কাছে চলে আসে পাকিস্তান। কিন্তু অধিনায়ক রস্টন চেজ দৃঢ়তার সঙ্গে ব্যাটিং করে সেই সুযোগ আর দেননি।
অন্য প্রান্তে গ্রিভসও দারুণ ব্যাটিং চালিয়ে যান। পাকিস্তানের স্পিনাররা চেষ্টা চালিয়ে গেলেও সময় গড়ানোর সঙ্গে উইকেটের আচরণ কিছুটা সহজ হয়ে আসে। পেসার উবায়েদ শাহও নিজের অভিষেক টেস্টে কঠিন সময় পার করেন। গ্রিভস তাঁর বলেও একাধিক বাউন্ডারি হাঁকান।
শেষ পর্যন্ত আলো স্বল্পতার কারণে দিনের খেলা শেষ হলে ওয়েস্ট ইন্ডিজের স্কোর দাঁড়ায় ৫ উইকেটে ২৩৯ রান। গ্রিভস ৬৪ ও চেজ ৩৬ রানে অপরাজিত থেকে মাঠ ছাড়েন।
দিনের বড় সময় পাকিস্তানের বোলাররা নিয়ন্ত্রণে থাকলেও ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটাররা একের পর এক ছোট ছোট জুটি গড়ে ম্যাচের পরিস্থিতি নিজেদের দিকে ঘুরিয়ে নিয়েছেন। কোনো ব্যাটার বড় ইনিংস খেলতে না পারলেও কার্যকর অবদান রেখেছেন প্রায় সবাই। ফলে দিনের শেষ দিকে পাকিস্তানের ওপরই চাপ বাড়তে থাকে।
দ্বিতীয় দিনে গ্রিভস ও চেজের জুটি কতদূর এগোয়, সেটিই এখন ওয়েস্ট ইন্ডিজের ইনিংসের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। অন্যদিকে পাকিস্তান চাইবে দ্রুত এই জুটি ভেঙে স্বাগতিকদের ইনিংস গুটিয়ে নিতে। প্রথম দিনের শেষভাগে ওয়েস্ট ইন্ডিজ যে অবস্থানে পৌঁছেছে, তাতে আপাতত সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে স্বাগতিকরাই।
স্কোরকার্ড
ওয়েস্ট ইন্ডিজ: ২৩৯/৫
- জাস্টিন গ্রিভস — ৬৪*
- রস্টন চেজ — ৩৬*
- ব্র্যান্ডন কিং — ৪৬
- শাই হোপ — ৩৩
- কেভেম হজ — ২৪
- তেগনারাইন চন্দরপল — ২০
- আমির জাঙ্গু — ১৩
পাকিস্তানের বোলিং:
- মোহাম্মদ আলী — ২/৪৯
- আলী উসমান — ১ উইকেট
- সাজিদ খান — ১ উইকেট
- উবায়েদ শাহ — ১ উইকেট
উইকেট পতন: ৪৯, ৮১, ১২০, ১৭৩, ১৭৩


