জমে উঠেছে বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া দ্বিতীয় টেস্ট। ১৮ উইকেট পতনের দিনে শরিফুল ইসলামের নৈপুণে লড়ছে বাংলাদেশ। ম্যাকাই টেস্টের প্রথম দিন শেষে অবশ্য বেশ পিছিয়ে আছে নাজমুল হোসেন শান্তর দল। শনিবার টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে স্রেফ ৬৪ রানে গুটিয়ে যায় বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস। দুর্দান্ত বোলিংয়ে ছয় উইকেট নেন মিচেল স্টার্ক।
৪০ ওভারে ৮ উইকেটে ১৬৫ রানে প্রথম দিন শেষ করেছে অস্ট্রেলিয়া। ৮১ বলে আট চারে ৫১ রানে ব্যাট করছেন ক্যামেরন গ্রিন। ২৮ বলে দুই চারে ১০ রানে খেলছেন ন্যাথান লায়ন।
স্বাগতিকরা এখন ১০১ রানে এগিয়ে। আরও বড় লিডের সম্ভাবনা জাগিয়েছিল অস্ট্রেলিয়া। তবে ক্যারিয়ার সেরা বোলিংয়ে তাদের দ্রুত গুটিয়ে দেওয়ার সম্ভাবনা জাগিয়েছেন শরিফুল। চোট কাটিয়ে ফেরার ম্যাচে ৩৫ রানে ৬ উইকেট নিয়েছেন শরিফুল। এর আগে ১১ নম্বরে নেমে তিনিই করেছেন দলের সর্বোচ্চ রান।
টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমেই বিপর্যয়ে পড়ে বাংলাদেশ। প্রথম ওভারেই সাদমান ইসলামকে ক্যামেরন গ্রিনের ক্যাচ বানান স্টার্ক। পরের ওভারে টানা দুই বলে তানজিদ হাসান তামিম ও নাজমুল হোসেন শান্তকে ফিরিয়ে দেন এই বাঁহাতি পেসার। তিন ব্যাটারই ফেরেন কোনো রান না করে।
এরপর মুমিনুল হককে ৯ রানে ফেরান স্টার্ক। লিটন দাসও ৫ বল খেলে রানের খাতা খুলতে পারেননি। মাত্র ৬.৪ ওভারে ১২ রানে ৫ উইকেট হারায় বাংলাদেশ। নিজের প্রথম ২২ বলেই ৫ উইকেট নিয়ে ইনিংসের ভিত নড়িয়ে দেন স্টার্ক। ৪ ওভারে ৩ মেডেনসহ মাত্র ৪ রান দিয়ে পান ফাইফার।
২১ রানে ষষ্ঠ উইকেট হারানোর পর কিছুটা প্রতিরোধ গড়েন মেহেদী হাসান মিরাজ ও হাসান মাহমুদ। তাঁদের জুটিতে প্রথম সেশন পার করে বাংলাদেশ। লাঞ্চে যাওয়ার সময় ২৩ ওভারে ৬ উইকেটে বাংলাদেশের রান ছিল ৩৫। মিরাজ ১১ ও হাসান ৮ রানে অপরাজিত ছিলেন।
দ্বিতীয় সেশনে অবশ্য সেই প্রতিরোধও বেশিক্ষণ টেকেনি। জুটি ভাঙেন অধিনায়ক প্যাট কামিন্স। তৃতীয় স্লিপে বেউ ওয়েবস্টারের ক্যাচে ১১ রানে ফেরেন মিরাজ। পরের ওভারে জশ হ্যাজেলউডের বলে নাথান লায়নের ক্যাচ হন হাসান মাহমুদ, করেন ১০ রান।
এরপর তাসকিন আহমেদকে ১ রানে ফিরিয়ে নিজের তৃতীয় উইকেট নেন কামিন্স। ৩৯ রানে নবম উইকেট হারানোর পর বাংলাদেশের সামনে নিজেদের টেস্ট ইতিহাসের সর্বনিম্ন ৪৩ রানের স্কোরে গুটিয়ে যাওয়ার শঙ্কা দেখা দেয়।
সেই শঙ্কা দূর করেন তাইজুল ইসলাম। ৩০তম ওভারের শেষ বলে হ্যাজেলউডকে চার মেরে দলকে ৪৩ রানের ওপরে নিয়ে যান তিনি। শেষ পর্যন্ত শরিফুল ইসলাম ১১ নম্বরে নেমে দলের সর্বোচ্চ ১৪ রান করেন। তাইজুলের সঙ্গে তাঁর ৩৫ বলে ২৫ রানের জুটিই ছিল বাংলাদেশের ইনিংসের সর্বোচ্চ।
শরিফুলকে ফিরিয়ে বাংলাদেশের ইনিংস শেষ করেন স্টার্ক। তাইজুল ১১ রানে অপরাজিত থাকেন। ১০ ওভারে ১২ রান দিয়ে ৬ উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের ব্যাটিং ধসের মূল কারিগর এই অস্ট্রেলিয়ান পেসার।
জ্যামাইকায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ১৫ বলে ৫ উইকেট নেওয়ার পর আবারও টেস্ট ক্রিকেটে ভয়ংকর রূপ দেখালেন স্টার্ক। তাঁর তোপে ৬৪ রানেই শেষ বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
বাংলাদেশ ১ম ইনিংস: ৬৪
অস্ট্রেলিয়া ১ম ইনিংস: ৪০ ওভারে ১৬৫/৮


