ম্যাকাইতে দ্বিতীয় টেস্টের প্রথম দিনেই পড়েছিল ১৮ উইকেট। পিচে অতিরিক্ত মুভমেন্ট ও বাউন্স নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে ম্যাচের পর থেকেই। এবার সেই বিতর্কে যোগ দিলেন ইংল্যান্ডের সাবেক পেসার স্টুয়ার্ট ব্রড। তাঁর মতে, বাংলাদেশ টস জিতে প্রথমে বোলিং করলে অস্ট্রেলিয়াকে বড় বিপদে পড়তে হতো। এমনকি স্বাগতিকদের ৬০ রানের মধ্যেই অলআউট করে দেওয়ার সম্ভাবনাও দেখছেন তিনি।
নিজের পডকাস্ট ‘ফর দ্য লাভ অব ক্রিকেট’-এ ব্রড বলেন, ‘বাংলাদেশ যদি টস জিতে বোলিং করত, তাহলে তারা অস্ট্রেলিয়াকে ৬০ রানে গুটিয়ে দিতে পারত। তখন আপনি বড় ধরনের বিপদে পড়ে যেতেন। পিচে বল যতটা নড়াচড়া করেছে, সেটি বেশ ঝুঁকিপূর্ণ মনে হয়েছে।’
ম্যাকাইতে টস জিতে প্রথমে বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল অস্ট্রেলিয়া। শুরুতেই সেই সিদ্ধান্তের সুফল পান মিচেল স্টার্ক। পিচের অতিরিক্ত মুভমেন্ট ও বাউন্স কাজে লাগিয়ে বাঁহাতি এই পেসার মাত্র ১২ রান খরচায় নেন ৬ উইকেট। তাঁর বিধ্বংসী বোলিংয়ের সামনে বাংলাদেশ গুটিয়ে যায় মাত্র ৬৪ রানে।
তবে বাংলাদেশের ইনিংস দ্রুত শেষ হলেও অস্ট্রেলিয়ার জন্য প্রথম দিনটা খুব একটা স্বস্তির ছিল না। দিনের শেষেই স্বাগতিকদের ৮ উইকেট পড়ে যায়। দ্বিতীয় দিনে অস্ট্রেলিয়া শেষ পর্যন্ত অলআউট হয় ২১০ রানে। বাংলাদেশের হয়ে ক্যারিয়ারসেরা বোলিং করেন শরীফুল ইসলাম। ৪৮ রানে ৭ উইকেট নিয়ে তিনি অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং লাইনআপে বড় ধাক্কা দেন।
তবে ম্যাচের ফল নির্ধারণে আবারও বড় ভূমিকা রাখেন স্টার্ক। দ্বিতীয় ইনিংসে আরও ৪ উইকেট নিয়ে ম্যাচে তাঁর মোট শিকার দাঁড়ায় ১০টি। শেষ পর্যন্ত ইনিংস ও ৫১ রানে জয় পায় অস্ট্রেলিয়া। তাতে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ ১-১ সমতায় শেষ হয়।
ম্যাচের ফল অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে গেলেও পিচ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ব্রড। তাঁর মতে, কোনো দল যদি খেলোয়াড়ে-খেলায় নিজেদের প্রতিপক্ষের চেয়ে এগিয়ে থাকে, তাহলে এমন পিচ বানানো উচিত নয়, যেখানে কন্ডিশন ম্যাচের ভারসাম্যে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
ব্রড বলেন, ‘অস্ট্রেলিয়া বাংলাদেশকে ইনিংস ব্যবধানে হারিয়ে সিরিজ ১-১ সমতায় শেষ করেছে। কিন্তু তাদের নিয়ে এখনো কিছু প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।’ এরপর নিজের যুক্তি তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আমার কাছে মনে হয়, আপনি যদি মনে করেন যে খেলোয়াড়ে-খেলায় আপনি প্রতিপক্ষের চেয়ে ভালো দল, তাহলে আপনার ফ্ল্যাট পিচে খেলা উচিত।’
অর্থাৎ ব্রডের মতে, নিজেদের শক্তির ওপর আস্থা থাকলে অস্ট্রেলিয়ার এমন একটি ব্যাটিংবান্ধব উইকেট তৈরি করা উচিত ছিল, যেখানে দুই দলের ব্যাটিং সামর্থ্যের পার্থক্য কাজে লাগিয়ে তারা ম্যাচ জিততে পারত। অতিরিক্ত বাউন্স ও মুভমেন্টে ভরা পিচের ওপর নির্ভর করার প্রয়োজন হতো না।
ম্যাকাইয়ের গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ অ্যারেনার পিচ নিয়ে বিতর্কের মূল কারণও এখানেই। ম্যাচে মাত্র দুই দিনেই পড়ে ৩০ উইকেট। প্রথম দিনেই দুই দলের ১৮ ব্যাটারকে সাজঘরে ফিরতে হয়।
এরপরও অস্ট্রেলিয়ার সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, পিচটি সর্বোচ্চ ‘খুব ভালো’ রেটিং পেতে যাচ্ছে। ফলে পিচের মূল্যায়ন নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
ম্যাচ শেষে বাংলাদেশের অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তও পিচ নিয়ে দ্বৈত মানদণ্ডের প্রশ্ন তুলেছিলেন। তাঁর মতে, উপমহাদেশে একই ধরনের উইকেটে এক দিনে ১৮টি উইকেট পড়লে পিচ নিয়ে আরও বেশি সমালোচনা হতো।
শান্তর সেই বক্তব্যের সঙ্গে অনেকটাই সুর মিলিয়েছেন ব্রড। অস্ট্রেলিয়া শেষ পর্যন্ত দাপুটে জয় তুলে নিয়ে সিরিজ সমতায় শেষ করলেও ম্যাকাইয়ের পিচ ও ম্যাচের ধরন নিয়ে বিতর্ক যে এখনো শেষ হয়নি, ব্রডের মন্তব্যে সেটিই আবার সামনে এসেছে।


