অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট দলে লাবুশেন, চমক কনোলি

সবশেষ ১০ ইনিংসে নেই কোনো ফিফটি। তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে নেই সেঞ্চুরি। বাংলাদেশের বিপক্ষে সর্বশেষ সিরিজেও তিন ইনিংসে করেছেন মাত্র ১, ৩১ ও ৪ রান। এতটা বাজে ফর্মের পরও দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের টেস্ট দলে জায়গা ধরে রেখেছেন মার্নাস লাবুশেন।

লাবুশেনের সঙ্গে স্কোয়াডে রাখা হয়েছে সম্ভাব্য বিকল্পও। তবে সেই নামটি কিছুটা চমকই জাগিয়েছে-কুপার কনোলি। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে যার অভিজ্ঞতা মাত্র ১৩ ম্যাচের, সেই তরুণকেই আবারও টেস্ট দলের বিবেচনায় এনেছে অস্ট্রেলিয়ার নির্বাচকেরা।

অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটে কনোলিকে অন্যতম সম্ভাবনাময় তরুণ হিসেবে দেখা হয়। যদিও প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে এখনো সেঞ্চুরি করতে পারেননি তিনি। তিন নম্বরে ব্যাট করেছেন মাত্র একবার, চার নম্বরে চারবার। এমনকি গত মৌসুমে ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ার দল থেকেও বাদ পড়েছিলেন।

তারপরও সীমিত ওভারের ক্রিকেটে নিয়মিতই অস্ট্রেলিয়ার স্কোয়াডে জায়গা পান কনোলি। গত বছর শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টেস্ট অভিষেকও হয় তাঁর। সেই ম্যাচের একমাত্র ইনিংসে অবশ্য ভালো করতে পারেননি। তবে প্রতিভার ওপর আস্থা রেখে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের দলে তাঁকে রাখা হয়েছে।

লাবুশেনের দলে টিকে যাওয়াটাই অবশ্য সবচেয়ে বেশি আলোচনার জন্ম দিয়েছে। দীর্ঘদিন ধরেই তাঁর ফর্ম নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। গত অ্যাশেজের ব্রিসবেন টেস্টের পর আর ফিফটির দেখা পাননি এই ব্যাটসম্যান। সর্বশেষ সেঞ্চুরি করেছিলেন ২০২৩ সালের জুলাইয়ে। এরপর কেটে গেছে ৪৩ ইনিংস।

এই সময়ে তাঁর ব্যাটিং গড় মাত্র ২৪.৬৯। টানা এতটা বাজে ফর্মের পরও অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট দলে জায়গা ধরে রাখা তাই বেশ বিরল ঘটনা।

বাংলাদেশের বিপক্ষে সর্বশেষ সিরিজ চলাকালে সাবেক অস্ট্রেলিয়ান অধিনায়ক রিকি পন্টিং ধারাভাষ্যে সরাসরিই বলেছিলেন, লাবুশেনকে অনেক আগেই বাদ দেওয়া উচিত ছিল। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজের আগে ওয়ানডে দল থেকেও বাদ পড়েছেন তিনি। তবে টেস্টে আরেকবার সুযোগ দিলেন নির্বাচকেরা।

প্রধান নির্বাচক জর্জ বেইলির বিশ্বাস, এখনো দলের হয়ে ইতিবাচক অবদান রাখার সামর্থ্য আছে লাবুশেনের।

বেইলি বলেছেন, ‘এই সত্যটা আমরা অস্বীকার করছি না যে, মার্নের কাছ থেকে আরও কিছু রান চাই আমরা। এটা স্পষ্ট। তবে আমরা এ ব্যাপারেও আত্মবিশ্বাসী যে, সে এখনো স্কোয়াডে একটি ইতিবাচক অবদান রাখতে পারবে।’

লাবুশেনের প্রস্তুতি নিয়েও আশাবাদী বেইলি। তাঁর মতে, ওয়ানডে সিরিজের দলে না থাকায় লাবুশেন এবার পুরোপুরি লাল বলের ক্রিকেটে মনোযোগ দেওয়ার সুযোগ পাবেন। সেটি তাঁর জন্য সুবিধাও হতে পারে।

স্পিন বিভাগেও রয়েছে কিছুটা চমক। নাথান লায়নের সঙ্গে দ্বিতীয় স্পিনার হিসেবে জায়গা পেয়েছেন বাঁহাতি স্পিনার ম্যাথু কুনেমান। গত অ্যাশেজে লায়ন চোটে ছিটকে যাওয়ার পর তাঁর জায়গায় সুযোগ পেয়েছিলেন টড মার্ফি। এবার মার্ফির বদলে দলে ফিরেছেন কুনেমান।

পেস আক্রমণেও ফিরেছেন মাইকেল নিসার। গত অ্যাশেজে দারুণ বোলিং করা এই পেসার আবারও টেস্ট স্কোয়াডে জায়গা পেয়েছেন। বাংলাদেশের বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্টে দলে ফেরা ম্যাট রেনশও ধরে রেখেছেন জায়গা। দ্বিতীয় উইকেটকিপার-ব্যাটার হিসেবে আছেন জশ ইংলিস।

দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে অস্ট্রেলিয়ার তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজ শুরু হবে আগামী ৯ অক্টোবর। ২০১৮ সালের বল টেম্পারিং বিতর্কের সেই সিরিজের পর এবারই প্রথম দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে যাচ্ছে অস্ট্রেলিয়া।
অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট স্কোয়াড: প্যাট কামিন্স (অধিনায়ক), স্কট বোল্যান্ড, অ্যালেক্স কেয়ারি, কুপার কনোলি, ক্যামেরন গ্রিন, জশ হেইজেলউড, ট্রাভিস হেড, জশ ইংলিস, ম্যাথু কুনেমান, মার্নাস লাবুশেন, ন্যাথান লায়ন, মাইকেল নিসার, ম্যাট রেনশ, স্টিভেন স্মিথ, মিচেল স্টার্ক, বাউ ওয়েবস্টার।

spot_imgspot_img
spot_img

Hot Topics

Related Articles