বিশ্বকাপের মঞ্চ কখনও স্বপ্ন দেখায়, কখনও নির্মমভাবে সেই স্বপ্ন ভেঙেও দেয়। কয়েকদিন আগেও যে দলটি ফুটবল বিশ্বকে বিস্ময়ে স্তব্ধ করে দিয়েছিল, সেই ইকুয়েডরের চোখে এখন বিদায়ের ছায়া।
শেষ বত্রিশের লড়াইয়ে বিরতি পর্যন্ত মেক্সিকোর বিপক্ষে ২-০ গোলে পিছিয়ে রয়েছে ইকুয়েডর। প্রথমার্ধের ৪৫ মিনিট যেন তাদের জন্য এক দুঃস্বপ্ন- যেখানে আত্মবিশ্বাস, ছন্দ আর লড়াইয়ের আগুন সবকিছুই মেক্সিকোর দাপটে ম্লান হয়ে গেছে।
৯ মিনিটের ব্যবধানে দুই গোল
হাজার হাজার নিজ সমর্থকদের সামনে দলের স্বপ্নকে এগিয়ে নিতে মেক্সিকোকে খুব বেশি সময় অপেক্ষা করতে হয়নি। ইকুয়েডরের রক্ষণভাগকে ফাঁকি দিয়ে মেক্সিকো প্রথম গোল আদায় করে নেয় ২২ মিনিটে। হুলিয়ান কুইনোনেস করেন গোলটি। তার এ গোলের সঙ্গে সঙ্গে গ্যালারিতে মেক্সিকান ঢেউ ওঠে। সে ঢেউয়ে ভেসে যাওয়ার উপক্রম হয় ইকুয়েডরের। মাত্র ৯ মিনিটের ব্যবধান। আবার ইকুয়েডরের গোলরক্ষককে জাল থেকে বল কুড়িয়ে আনতে হয়। এবার গোল করেন রাউল জিমিনেজ।
খারাপ আবহাওয়ার কারণে মেক্সিকোর আজতেকা স্টেডিয়ামের এ ম্যাচটি নির্ধারিত সময়ে শুরু হতে পারেনি। শুরু হয়েছিল এক ঘন্টা পর। বৈরি আবহাওয়া ম্যাচ শুরুর পথে বাধা সৃষ্টি করেছে ঠিকই তবে ইকুয়েডরের সামনে কোনো সম্ভাবনা নিয়ে আসতে পারেনি। বরং সব বাধা অতিক্রম করে মেক্সিকো কাঙ্খিত লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।

রূপকথার ইতির ইঙ্গিত
গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে জার্মানিকে হারিয়ে ইকুয়েডর লিখেছিল অবিশ্বাস্য এক রূপকথা। সেই জয় ছিল সাহসের, শৃঙ্খলার, আর অসম্ভবকে সম্ভব করার গল্প। অনেকেই ভেবেছিলেন, এই দল হয়তো নকআউটেও নতুন বিস্ময় উপহার দেবে।
কিন্তু নকআউটের বাস্তবতা যে কত কঠিন, তা হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছে ইকুয়েডর। মেক্সিকো শুরু থেকেই খেলেছে তীব্র আক্রমণাত্মক ফুটবল। তাদের পাসিংয়ে ছিল ধার, আক্রমণে ছিল গতি, আর ফিনিশিংয়ে ছিল নিষ্ঠুর নিখুঁততা। ফলে বিরতির আগেই দুই গোলের ব্যবধান গড়ে তারা ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ প্রায় পুরোপুরি নিজেদের হাতে তুলে নিয়েছে।
ইকুয়েডরের ফুটবলারদের শরীরী ভাষাতেও স্পষ্ট হতাশার ছাপ। মাঝমাঠে বলের দখল হারানো, রক্ষণে সমন্বয়ের অভাব এবং আক্রমণে সৃজনশীলতার ঘাটতি- সব মিলিয়ে তারা নিজেদের চেনা ছন্দ খুঁজে পায়নি।
মেক্সিকো যেন শেষ ষোলোয় ওঠার দুয়ারে দাঁড়িয়ে। আর মাত্র ৪৫ মিনিট ধরে রাখতে পারলেই তারা নিশ্চিত করবে কাঙ্ক্ষিত অগ্রযাত্রা। পৌঁছে শেষ ষোলোয়।
স্কোর কার্ড
বিশ্বকাপ ২০২৩

















