কিলিয়ান এমবাপ্পের গোলবন্যা আর মাইকেল অলিসের জাদুকরী অ্যাসিস্টে সুইডেনকে উড়িয়ে দিয়েছে ফ্রান্স। ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের ‘রাউন্ড অব ৩২’ এর হাইভোল্টেজ ম্যাচে সুইডেনকে উড়িয়ে শেষ ১৬তে ফ্রান্স । সুইডেনকে ৩-০ গোলে হারিয়ে দাপটের সাথে শেষ ১৬ তে পা রাখলো টানা দুই আসরের ফাইনালিস্ট ও ২০১৮ এর চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স। নিউ ইয়র্ক নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে ফরাসিদের এই বড় জয়ের নায়ক অধিনায়ক এমবাপ্পে, যিনি করেছেন জোড়া গোল। অন্য গোলটি আসে ব্রাডলি বারকোলার পা থেকে।
প্রথমার্ধের দাপট ও অলিসের অবিশ্বাস্য কিক
ম্যাচের শুরু থেকেই সুইডিশ রক্ষণের ওপর চড়াও হয়ে খেলতে থাকে ফ্রান্স। প্রথমার্ধেই দারুণ এক ফিনিশিংয়ে দলকে ১-০ গোলে এগিয়ে নেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। তবে প্রথমার্ধের সবচেয়ে রোমাঞ্চকর মুহূর্তটি উপহার দেন ফরাসি উইঙ্গার মাইকেল অলিস। বক্সের ভেতর থেকে নেওয়া তার একটি চোখধাঁধানো বাইসাইকেল কিক পোস্টে লেগে ফিরে আসলে নিশ্চিত গোল থেকে বঞ্চিত হয় ফ্রান্স। ফিরতি বলে উসমান দেম্বেলে শট নিলেও তা জালের দেখা পায়নি। ফ্রান্সের একের পর এক আক্রমণে কোণঠাসা সুইডেনকে প্রথমার্ধে দু-দুবার রক্ষা করে গোলপোস্ট।
দ্বিতীয়ার্ধে এমবাপ্পে-অলিস জুটির জাদু
১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে দ্বিতীয়ার্ধে মাঠে নামে ফ্রান্স। ব্যবধান বাড়াতে বেশি সময়ে নেয়নি তারা। ৫৩তম মিনিটে অলিস বক্সের বাইরে বলের নিয়ন্ত্রণ নেন এবং বারকোলাকে লক্ষ্য করে থ্রু পাস বাড়ান; আর কোনো ভুল না করে বারকোলা বুলেট গতিতে বল জালে জড়িয়ে দেন।
৬৮ মিনিটে দেয়া দ্বিতীয় ‘হাইড্রেশন ব্রেক’ (পানি পানের বিরতি) এর পর ফরাসিরা যেন মাঠে আক্রমণের সৌরভ ছড়াতে থাকে।বিরতির পর আরও ভয়ঙ্কর রূপে হাজির হয় ফরাসি আক্রমণভাগ।
ম্যাচের ৭৪তম মিনিটে অলিসের পাস থেকে আসে এমবাপ্পের দ্বিতীয় ও ফ্রান্সের তৃতীয় গোল। মাঝমাঠ থেকে অলিসের বাড়িয়ে দেওয়া থ্রু বল ধরে গতিতে সুইডিশ ডিফেন্ডারদের পরাস্ত করেন এমবাপ্পে। এরপর দারুণ এক কোণাকুণি শটে বল জালে জড়ান তিনি।
এই অ্যাসিস্টের মাধ্যমে ব্রাজিলের ব্রুনো গিমারায়েসের সাথে যৌথভাবে চলতি বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ অ্যাসিস্টকারী বনে যান অলিস। ম্যাচে নিজেদের জয় নিশ্চিত করার পর একে একে দেম্বেলে ও এমবাপ্পেকে তুলে নেন ফ্রান্সের কোচ।
মেসির রেকর্ডের একদম কাছে এমবাপ্পে
সুইডেনের বিপক্ষে এই জোড়া গোলের পর মাত্র ২৭ বছর বয়সী এমবাপ্পের বিশ্বকাপ গোল সংখ্যা গিয়ে দাঁড়াল ১৮-তে। তিনি এখন বিশ্বকাপ ইতিহাসের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গোলদাতা। আর মাত্র ১টি গোল করলেই তিনি ছুঁয়ে ফেলবেন কিংবদন্তি লিওনেল মেসিকে (২৯ ম্যাচে ১৯ গোল)। মাত্র ১৮ ম্যাচে ১৮ গোল করে এমবাপ্পের ম্যাচ প্রতি গোলের গড় এখন অবিশ্বাস্য রকমের বেশি।
সুইডিশ গোলরক্ষকের লড়াই
ম্যাচে ফ্রান্সের ব্যবধান আরও বাড়তে পারতো, যদি না সুইডেনের গোলরক্ষক জেটারস্ট্রম দেয়াল হয়ে দাঁড়াতেন। ম্যাচের শেষদিকের এক আক্রমণে ফরাসি উইঙ্গার বারকোলা দুর্দান্ত ড্রিবলিংয়ে বক্সে ঢুকে নিচু শট নিলেও ডানদিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে তা রুখে দেন জেটারস্ট্রম। পুরো ম্যাচ জুড়েই বেশ কয়েকটি চমৎকার সেভ করে সুইডেনের বড় পরাজয়ের ব্যবধান কিছুটা হলেও কমিয়েছেন তিনি।
| পরিসংখ্যান | ফ্রান্স | সুইডেন |
|---|---|---|
| ফলাফল | 3 | 0 |
| বল দখল | 58% | 42% |
| শট (অন টার্গেট) | 14 (7) | 5 (1) |
| ম্যাচসেরা | কিলিয়ান এমবাপ্পে | |
এই দাপুটে জয়ের পর কোয়ার্টার ফাইনালের মঞ্চে পা রাখল ফ্রান্স। যেভাবে এমবাপ্পে এবং অলিস জুটি ফর্মে রয়েছে, তাতে প্রতিপক্ষ দলগুলোর জন্য আগামী ম্যাচগুলোতে ফ্রান্সকে আটকানো যে বেশ কঠিন হবে, তা বলাই বাহুল্য।
স্কোর কার্ড
বিশ্বকাপ ২০২৩



















