ব্রাজিলের জার্সিতে নেইমার অধ্যায়ের সমাপ্তি এবার আনুষ্ঠানিকভাবেই নিশ্চিত হয়ে গেল। বিশ্বকাপের পরই জাতীয় দলে আর না ফেরার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন ব্রাজিলের সবচেয়ে বড় তারকাদের একজন। এবার ব্রাজিলের কোচ কার্লো আনচেলত্তিও জানিয়ে দিলেন, নেইমার নিজেই জাতীয় দল থেকে সরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিশ্চিত করেছেন। ফলে নেইমারকে ছাড়াই এখন নতুন প্রজন্মকে সামনে রেখে ব্রাজিলকে ঢেলে সাজানোর পরিকল্পনা করছেন ইতালিয়ান এই কোচ।
সিএনএন এস্পোর্তেসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আনচেলত্তি বলেন, নেইমারের মান ও প্রতিভার কারণে বিশ্বকাপে তাঁর থাকা উচিত ছিল। তবে জাতীয় দলে ফেরার বিষয়ে নেইমার নিজেই আর আগ্রহী নন। একই সঙ্গে আনচেলত্তি স্বীকার করেছেন, নেইমারের মতো একজন খেলোয়াড়ের সরাসরি বিকল্প খুঁজে পাওয়া সম্ভব নয়। তাঁর ভাষায়, নেইমার ‘এক অসাধারণ ও অনন্য প্রতিভা’।
নেইমারকে হারানোর শূন্যতা যে সহজে পূরণ হওয়ার নয়, সেটি জানেন আনচেলত্তি। তবে সেই শূন্যতার দিকে তাকিয়ে না থেকে ভবিষ্যতের ব্রাজিল গড়তেই এখন তাঁর মনোযোগ। লক্ষ্য ২০৩০ বিশ্বকাপ। সে জন্য ২০০৪, ২০০৫ ও ২০০৬ সালে জন্ম নেওয়া তরুণদের জাতীয় দলের ভবিষ্যৎ হিসেবে গড়ে তুলতে চান তিনি। এমনকি ২০০৮ সালে জন্ম নেওয়া কয়েকজন প্রতিভাবান খেলোয়াড়কেও ভবিষ্যতে জাতীয় দলে জায়গা করে দেওয়ার কথা ভাবছেন।
আনচেলত্তির পরিকল্পনায় বয়সের চেয়ে ভবিষ্যৎ সম্ভাবনাই বড় বিষয়। তিনি মনে করেন, ৩৬ বা ৩৭ বছর বয়সেও কোনো খেলোয়াড় ভালো ফুটবল খেলতে পারেন। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে তরুণদের অগ্রাধিকার দেওয়ার সময় এসেছে। অর্থাৎ ব্রাজিলের পরবর্তী দলটি গড়ে উঠবে অভিজ্ঞ কয়েকজনের সঙ্গে নতুন প্রজন্মের সমন্বয়ে।

শুধু খেলোয়াড় পরিবর্তন নয়, ব্রাজিলের ফুটবল-সংস্কৃতিতেও পরিবর্তন আনতে চান আনচেলত্তি। ব্যক্তিগত নৈপুণ্যের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতার বদলে দলীয় ফুটবলকে গুরুত্ব দিতে চান তিনি। তাঁর মতে, আধুনিক ফুটবলে ব্যক্তিগত প্রতিভা অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু সাফল্যের ভিত্তি হচ্ছে দলগত কাজ।
আনচেলত্তির এই পরিকল্পনায় তাই নেইমারের বিকল্প হিসেবে একজন নির্দিষ্ট তারকা খোঁজার চেয়ে পুরো দলকে শক্তিশালী করার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। তাঁর লক্ষ্য এমন একটি প্রজন্ম তৈরি করা, যারা আধুনিক ফুটবলের সঙ্গে মানিয়ে নিয়ে একসঙ্গে লড়তে পারবে।
নেইমারের যুগ শেষ হলেও ব্রাজিলের স্বপ্ন শেষ হচ্ছে না। বরং পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা এখন নতুন পরিচয়ে নিজেদের গড়ার পথে। ২০৩০ বিশ্বকাপে সেই নতুন ব্রাজিল কতটা সফল হয়, তার উত্তর মিলবে ভবিষ্যতেই। তবে একটি বিষয় পরিষ্কার-নেইমারকে কেন্দ্র করে নয়, এবার দলগত শক্তিকেই ব্রাজিলের নতুন যুগের ভিত্তি করতে চান আনচেলত্তি।




