সর্বশেষ খবর

চার গোলের ধাক্কায় লিডসের কাছে বিধ্বস্ত নিউক্যাসল

নতুন মৌসুমে অবশেষে হারের স্বাদ পেল নিউক্যাসল ইউনাইটেড। সোমবার রাতে প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচে লিডস ইউনাইটেডের কাছে ৪-১ গোলে বিধ্বস্ত হয়েছে ম্যাথিয়াস ইয়াইসলের দল। এল্যান্ড রোডে স্বাগতিকদের দাপুটে পারফরম্যান্সে শেষ হয়েছে নিউক্যাসলের ২০২৬-২৭ মৌসুমের অপরাজিত যাত্রা।

এই জয়ে প্রিমিয়ার লিগের পয়েন্ট টেবিলে তৃতীয় স্থানে উঠে এসেছে লিডস। অন্যদিকে নিউক্যাসলের জন্য রাতটি ছিল হতাশার। পুরো ম্যাচে নিজেদের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সের ধারেকাছেও যেতে পারেনি তারা। ম্যাচের শুরু থেকেই লিডসের আক্রমণ সামলাতে বেশ বেগ পেতে হয়েছে সফরকারীদের।

ম্যাচের প্রথম ২০ মিনিটেই নিউক্যাসলকে বড় ধাক্কা খেতে হয়। মুখে আঘাত পাওয়ায় মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন নিকো গনসালেজ। তার জায়গায় মাঠে নামেন শন স্টেউর। এর আগে ম্যাচের শুরুতেই লিডস একাধিকবার নিউক্যাসলের রক্ষণে চাপ তৈরি করে। জেমস জাস্টিন ও জেডেন বোগলের প্রচেষ্টায় গোলের কাছাকাছি গিয়েছিল স্বাগতিকরা। তবে নিউক্যাসলের গোলরক্ষক লুকাশ হর্নিচেক কয়েকটি দারুণ সেভে দলকে রক্ষা করেন।

তবে ম্যাচের ৩২ মিনিটে আর রক্ষা হয়নি নিউক্যাসলের। আউ টানাকার শট নিউক্যাসলের দুই খেলোয়াড় শন স্টেউর ও লুইস মাইলির গায়ে লেগে দিক পরিবর্তন করে জালে জড়ায়। আত্মঘাতী ধাক্কার পর ম্যাচে এগিয়ে যায় লিডস।

এর কিছুক্ষণ পরই (৩৪ মিনিট) ব্যবধান দ্বিগুণ করেন ডমিনিক কালভার্ট-লেউইন। নিজেদের অর্ধে বলের নিয়ন্ত্রণ হারানোর সুযোগ কাজে লাগিয়ে আক্রমণে ওঠে লিডস। ডান দিক থেকে জেমস জাস্টিনের ক্রস পেয়ে নিখুঁত হেডে নিউক্যাসলের জালে বল পাঠান কালভার্ট-লেউইন।

প্রথমার্ধের শেষ মুহূর্তে (৪৫+১) আবারও গোল করে নিউক্যাসলের বিপদ আরও বাড়িয়ে দেন ইংলিশ ফরোয়ার্ড ডমিনিক কালভার্ট-লেউইন। স্বাগতিকদের আক্রমণ থেকে বল পেয়ে বক্সে ঢুকে রক্ষণভাগের বাধা কাটিয়ে শট নেন কালভার্ট-লেউইন। তার শট মালিক থিয়াওয়ের গায়ে লেগে দিক পরিবর্তন করে জালে ঢুকে যায়। ফলে বিরতিতে ৩-০ গোলে পিছিয়ে থাকে নিউক্যাসল।

দ্বিতীয়ার্ধে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে সফরকারীরা। লুইস হলের শট ঠেকিয়ে দেন লিডস গোলরক্ষক জেমস ট্রাফোর্ড। তবে নিউক্যাসলের আক্রমণে ধার ছিল না। বরং নিজেদের ভুলেই আরও বিপদ ডেকে আনে তারা।

৫৫ মিনিটে বল হারিয়ে আবারও লিডসকে আক্রমণের সুযোগ দেয় নিউক্যাসল। অ্যান্টন স্টাখ অবশ্য সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি। কিন্তু ম্যাচের প্রায় এক ঘণ্টা পূর্ণ হওয়ার আগেই (৫৯ মিনিটে) চতুর্থ গোল পেয়ে যায় লিডস। পোস্টের ভেতরের অংশে লেগে নোয়া ওকাফোরের শট জালে জড়ায়। ততক্ষণে নিউক্যাসলের ম্যাচে ফেরার আশা প্রায় শেষ।

এরপর কোচ ইয়াইসল একসঙ্গে তিন খেলোয়াড় পরিবর্তন করে ম্যাচের চিত্র বদলানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু লিডসের নিয়ন্ত্রণ আর ভাঙতে পারেনি নিউক্যাসল। শেষদিকে হার্ভি বার্নস বক্সে ফাউলের শিকার হলেও নিউক্যাসল পেনাল্টি পায়নি।

ম্যাচের ৮৯ মিনিটে অবশেষে নিউক্যাসলের হয়ে একটি গোল শোধ করেন বদলি খেলোয়াড় বাজুমানা তুরে। এটিই ক্লাবটির হয়ে তার প্রথম গোল। তবে তার গোল শুধু ব্যবধানই কমাতে পেরেছে, ম্যাচের ফল বদলাতে পারেনি।

শেষ পর্যন্ত ৪-১ গোলের বড় জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে লিডস ইউনাইটেড। আর নতুন মৌসুমে প্রথমবারের মতো হারের তিক্ত স্বাদ নিয়ে ফিরতে হয় নিউক্যাসলকে। কোচ ইয়াইসলের জন্য এটি ছিল কঠিন এক শিক্ষা, বিশেষ করে নিজেদের অর্ধে বল হারানো এবং রক্ষণভাগের ভুলের বড় মূল্য দিতে হয়েছে তাদের।

spot_imgspot_img
spot_img

Hot Topics

Related Articles