ফাইনালে বার্সার একাডেমী লড়াই
৭০২ সালে বার্সা নগরীতে নির্মিত ফার্মহাউস ভবনটি শুধু একটি ভবনই নয় এটি একটি ইতিহাস একটি ফটবল গল্পের অপর নাম। যে ভবনকে কেন্দ্র করেই ফুটবল বিশ্ব এখন তোলপাড় কারণ ১৯৭৯ সালে এই ভবনটিকে বার্সার যুব খেলোয়াড়রা আবাসন ও প্রশিক্ষন কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার শুরু করে এবং সেখান থেকেই “লা মাসিয়া” একাডেমির পরিচিতি শুরু হয় বিশ্বময়। উল্লেখ্যে ১৯৭৯ সালের ২০ অক্টোবর ‘লা মাসিয়া; ফুটবল একাডেমী প্রতিষ্ঠিত হয়। স্প্যানিশ ভাষায় ‘লা মাসিয়া’ শব্দের বাংলা অর্থ ফার্মহাউস বাংলায় যাকে বলে খামার। আপনারা হয়তো বুঝতে পেরেছেন কোন খামারের কথা বলা হচ্ছে। পৃথিবীতে অনেক ফুটবল–খামার আছে তবে বার্সেলোনার মতো এত বিখ্যাত ও সাফল্য মণ্ডিত মনে হয় আর আনেই। এবারের বিশ্বকাপ ফাইনালে আর্জেন্টিনা-স্পেন মিলে মোট ৯ জন‘ লা মাসিয়া’ একাডেমীর ফুটবলার খেলবেন এই অর্থে বলা যায় ‘বিশ্বকাপ জিতবে লা মাসিয়া’।

বিশ্বকাপ ফাইনালের আগে আলোচনায় তাই এই ‘লা মাসিয়া’ ‘ফুটবল-খামার’। অবশ্য ফাইনালকে ‘লা মাসিয়া ডার্বি বললেও ভূল বলা হবেনা কারণ ‘স্পেন ৮-১ আর্জেন্টিনা’ এই স্কোরলাইন দেখুন, কি ভাবছেন এটা ফাইনাল ম্যাচের গোল স্কোর? না না গোল স্কোর নয়! এই স্কোর হল বিশ্বকাপ ফাইনালে বার্সার ফুটবল–খামার ‘লা মাসিয়া’র কয়জন খেলোয়াড় খেলছেন, সেটার হিসাব মাত্র।
এবার বিশ্বকাপ ফাইনালে স্পেন দলে খেলবেন লা মাসিয়া থেকে উঠে আসা খেলোয়াড় ৮ জন-লামিনে ইয়ামাল, ভিক্টর মুনিয়োজ, পাউ কুবারসি, গাভি, দানি ওলমো, এরিক গার্সিয়া, অ্যালেক্স গ্রিমালদো ও মার্ক কুকুরেয়া। আর আর্জেন্টিনা দলে মাত্র ১ জন সবেধন নিলমনি লিওনেল মেসি।
স্পেন ২০১০ বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেন যখন চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল তখন দলে লা মাসিয়ার গ্র্যাজুয়েট ছিলেন ৯ জন-ভিক্টর ভালদেজ, কার্লোস পুয়োল, জেরার্ড পিকে, সের্হিও বুসকেতস, জাভি, আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা, সেস্ক ফ্যাব্রেগাস, পেদ্রো ও পেপে রেইনা।
তবে বিশ্বকাপে এবারের প্রেক্ষাপট একটু ভিন্ন কারণ লা মাসিয়া খামারের ইতিহাসে সেরা ফুটবলার মেসি যে খেলবেন স্পেনের বিপক্ষে। তাতে কি! লা মাসিয়ার তো ঘরেই যাচ্ছে বিশ্বকাপ জয়ের পদক তাইনা? ফাইনালে আর্জেন্টিনা–স্পেনের মধ্যে যে দলই বিশ্বকাপ জিতুক-অন্তত একটি পদক লা মাসিয়ার সন্তানের গলায় শোভা পাবেই। সেটা হোক মেসি কিংবা স্পেন দলের বাকি ৮ জন। ব্যাপারটা সত্যিই লা মাসিয়ার জন্য রোমাঞ্চকর! এ কারনেই লা মাসিয়ার খ্যাতি বিশ্বজুড়ে। আবার এই ফাইনাল লড়াই ‘লা মাসিয়ার’ অতীতের সঙ্গে বর্তমানেরও বটে কারণ লিওনেল মেসি লা মাসিয়ার অতীত আর বর্তমান হলেন লামিনে ইয়ামাল!

মেসি ১৩ বছর বয়সে লা মাসিয়ায় ঢুকে ১৭ বছর বয়সে বের হয়েছিলেন মেসি। এরপর কোচ পেপ গার্দিওলার অধীনে মেসি, জাভি, ইনিয়েস্তারা মিলে সর্বজয়ী বার্সা হয়ে উঠেছিলেন। ২০২১ সালে বার্সা ছেড়ে যাওয়া মেসি তারপর এ নিয়ে দুটি বিশ্বকাপের ফাইনালে খেলবেন। মেসি যদি হন লা মাসিয়ার সোনালি অতীত, ইয়ামাল তাহলে বর্তমান ও ভবিষ্যত।
নিউ জার্সির ফাইনাল যখন শেষ হবে তখন সেখান থেকে হাজার মাইল দূরে থাকবে এক নীরব বিজয়ী। তা হল ‘লা মাসিয়া’ নামক বার্সেলোনার ফুটবল খামার। লা মাসিয়ার কোন জীবন নেই আছে শুধু ধূসর রঙের একটি ভবন, সামনে কিছু গাছগাছালি ও সবুজ মাঠ। বার্সার সমর্থকরা বলেন, আসলে সেটা ভবনও নয়, সেটা আসলে একটা স্বপ্ন। যে স্বপ্ন বাস্তবে রূপ দিয়েছেন মেসি, ইয়ামালরা। নাম তার লা মাসিয়া। এমন একটি বিশ্বকাপ ফাইনাল ম্যাচের জন্য ‘লা মাসিয়া তো গর্ব করতেই পারে তাই না?


