২০২৬ বিশ্বকাপের শিরোপা উঁচিয়ে ধরেছে স্পেন, আর ফিফার আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি হিসেবে ট্রফির পাশাপাশি বিশ্বসেরার ‘গোল্ডেন বল’ উঠেছে স্প্যানিশ অধিনায়ক রদ্রির হাতে। কিন্তু টুর্নামেন্ট পর্দা নামার পরও সেরা খেলোয়াড়ের মুকুট নিয়ে শুরু হয়েছে নতুন জোর আলোচনা। আন্তর্জাতিক ফুটবল ইতিহাস ও পরিসংখ্যান সংস্থা (IFFHS) তাদের নিজস্ব পর্যালোচনায় ২০২৬ বিশ্বকাপের সেরা ফুটবলার হিসেবে বেছে নিয়েছে আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি লিওনেল মেসিকে।
কেন ফিফার সিদ্ধান্তের বিপরীতে আইএফএফএইচএস?
IFFHS স্পষ্ট জানিয়েছে, ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা বা কোনো আবেগীয় কারণে নয়, বরং সম্পূর্ণ গাণিতিক হিসাব ও পারফরম্যান্স ইনডেক্স বিশ্লেষণ করে মেসিকে এই স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। তাদের মূল্যায়ন পদ্ধতিতে বিবেচনা করা হয়েছে:
- ম্যাচভিত্তিক পারফরম্যান্স রেটিং
- গোল ও অ্যাসিস্টের সংখ্যা
- নকআউট পর্বে দলের ওপর খেলোয়াড়ের একক প্রভাব
পরিসংখ্যানের পাতায় ৩৯ বছরের মেসির দাপট
টুর্নামেন্টজুড়ে আর্জেন্টিনার জার্সিতে মেসির উপস্থিতি ছিল দৃশ্যমান। পুরো বিশ্বকাপে মোট ৮টি ম্যাচ খেলে তিনি করেন ৮টি গোল এবং সতীর্থদের দিয়ে করান আরও ৪টি গোল। গড়ে ৮.৩৩ ম্যাচ রেটিং নিয়ে ৩৯ বছর বয়সেও মাঠের পারফরম্যান্সে সেরাদের কাতারে ছিলেন এই মহাতারকা।
আইএফএফএইচএস-এর বিচারে নকআউট পর্বের গুরুত্ব
সংস্থাটির কারিগরি প্যানেলের মতে, গ্রুপ পর্বের চেয়ে নকআউট পর্বের চরম চাপের মুখে দলের হাল ধরাই একজন খেলোয়াড়ের প্রকৃত সামর্থ্য প্রকাশ করে। আর্জেন্টিনা ফাইনাল পর্যন্ত পৌঁছানোর পথে প্রতিটি বাঁচা-মরার লড়াইয়ে মেসির কার্যকারিতা ছিল চোখে পড়ার মতো। চাপ সামলে দলকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেওয়ার এই প্রভাবকেই সবচেয়ে বেশি পয়েন্ট দিয়েছে আইএফএফএইচএস।
সেরার মুকুট আসলে কার?
বিশ্বকাপ শেষে এখন স্বাভাবিকভাবেই দুটি ভিন্ন মত তৈরি হয়েছে:
- ফিফার অফিসিয়াল স্বীকৃতি: রদ্রি (স্পেন)
- ডেটা ও পরিসংখ্যানভিত্তিক মূল্যায়ন: লিওনেল মেসি (আর্জেন্টিনা)
শিরোপা কিংবা অফিসিয়াল গোল্ডেন বল না পেলেও, ডেটা ও পরিসংখ্যানের বিচারে ২০২৬ ফুটবল মহাযজ্ঞে সবচেয়ে বড় প্রভাব ফেলা খেলোয়াড় হিসেবে মেসির নামই শীর্ষে রাখছে আইএফএফএইচএস। আর এর ফলেই বিশ্বমঞ্চের সেরা খেলোয়াড় নির্বাচন নিয়ে ফুটবলপ্রেমীদের মাঝে আলোচনা গড়িয়েছে বহুদূর।


