ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬
বিশ্বকাপে রেফারিং ও লাল কার্ড বিতর্ক যেন থামছেইনা। বিশেষ করে ট্রাম্পের ফোন কলের পর যখন ফিফা যুক্তরাষ্ট্রের বালোগানকে লাল থেকে মুক্তি দিয়ে খেলার সুযোগ করে দিলেন। শেষ ৩২-এ বসনিয়ার খেলোয়াড়ের গোড়ালিতে আঘাত করায় সরাসরি লাল কার্ড পেয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের বালোগান। ঘটনার শুরু ও শেষ অবশ্য সবারই জানা। ফিফার নিয়ম অনুযায়ী শেষ ষোলোর ম্যাচে তাঁর থাকার কথা মাঠের বাইরে। কিন্তু যুক্ত রাষ্ট্রের আপিলে সেই নিয়ম বদলে গেল ফিফার নির্দেশনায়। ফলে শেষ ষোলোতে বেলজিয়ামের বিপক্ষে খেলার সুযোগ পেয়েছিলেন বালোগান তাই বলাই যায় বিশ্বকাপে ফিফার লাল কার্ড নীতি প্রশ্নবিদ্ধ!
অপরদিকে একেবারেই যেন মুদ্রার উল্টো পিঠ দেখেছে ইংল্যান্ড। শেষ ষোলোর ম্যাচে মেক্সিকান খেলোয়াড়ের পা মাড়িয়ে দেওয়ায় লাল কার্ড দেখেছিলেন ডিফেন্ডার জ্যারেল কোয়ানসা। দুই খেলোয়াড়ের ঘটনা পুরোপুরি এক। প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়কে ফাউল করায় লাল কার্ড দেখেছেন দুজনেই। ভিএআর দীর্ঘ সময় ধরে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার পর এই সিদ্ধান্ত দেয়। মাঠে রেফারির নেওয়া সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করেছিল দুই দল। কোয়ানসার ক্ষেত্রে একই নিয়ম বিবেচনার আপিল করেছিল ইংল্যান্ড। কিন্তু ডিসিপ্লিনারি কমিটি থেকে সিদ্ধান্ত এসেছে, এক ম্যাচ নয়, তাঁকে বরখাস্ত করা হবে ২ ম্যাচের জন্য। অর্থাৎ একই জায়গা থেকে দুই খেলোয়াড়ের জন্য সিদ্ধান্ত এসেছে দুই রকম।

বালোগানের শাস্তি উঠিয়ে নেওয়ার জন্য ফিফা নিজেদের ২৭ নম্বর ধারাকে ব্যবহার করেছে। ফিফার ২৭ নম্বর ধারায় লেখা আছে, ‘কমিটির সবাই যদি একমত হয়, তবে যেকোনো শাস্তি এক বছরের জন্য স্থগিত করতে পারবে। আর এই সেই নিয়ম মেনে বালোগানের শাস্তি ১ বছরের জন্য স্থগিত করা হয়েছে। কিন্তু এর মধ্যেও যদি তিনি একই ধরনের কাজ করেন, অর্থাৎ লাল কার্ড দেখেন, তবে তাঁর জন্য অপেক্ষা করছে আরও বড় ধরনের শাস্তি। এই পরিবর্তনের বিষয়টি কি ফিফা স্বপ্রনোদিত হয়ে নিয়েছেন? উত্তর না। যার পেছনে যে শক্তি কাজ করেছে তা হল ফোন কল। ট্রাম্প ফোন করেন ফিফা সভাপতি ইনফান্তিনোর কাছে তখন তিনি ফিফা টেকক্যাল কমিটির কাছে বিষয়টি বললে কমিটি বিবেচনায় নিয়ে বালোগানকে খেলার সুযোগ করে দেয়, তাহলে নেপথ্যের ঘটনা কি দাঁড়াচ্ছে? অবশ্যই ট্রাম্পের ফোন কল শক্তি!
তবে কি এখন ডিফেন্ডার জ্যারেল কোয়ানসাকে খেলাতে ইংল্যান্ডের প্রধান মন্ত্রীকে ফোন করতে বললেন কোচ টমাস টুখেল? আর যদি ফোন করেই বসেন তখন কি ফিফা বিষয়টি ব্যালেন্স করার জন্য কোয়ানসাকে খেলার সুযোগ করে দিবেন কোয়ার্টার ফাইনালে নরওয়ের বিপক্ষ? সেটা অবশ্য ভিন্ন কথা আর ইংল্যান্ড তা করবেন কিনা তাদের ব্যাপার। কিন্তু কথা হচ্ছে একই ঘটনার জন্য একজন মাফ পাচ্ছেন অন্যজন নিষিদ্ধ হচ্ছেন ফিফার কেন এই দ্বৈত আচরণ?
তবে প্রশ্নটা কিন্তু থেকেই যাচ্ছে যে, একই দোষে দুজন খেলোযাড়ের দুই রকম শাস্তি হওয়াটা নিছকই কাকতালীয় কিছু? নাকি ফোন কল শক্তি?


