ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬
বিশ্বকাপের আকাশে বাতাসে গুঞ্জন আর্জেন্টিনা এখনও শক্ত কোন প্রতিপক্ষের সামনে পড়েনি যারা আর্জেন্টিনা ফুটবলের ভক্ত তারা হয়তো মন খারাপ করতে পারেন কিন্তু এই কথার মধ্যেই আর্জেন্টিনা যে বড় দল তার স্বীকৃতি পাওয়া যায়, কিভাবে? চলুন একটু সংক্ষেপে দেখা যাক, সুইজারল্যান্ড এখনো পর্যন্ত বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনাল বাঁধা পার হতে পারেনি একবারও অন্যদিকে আর্জেন্টিনা ৬ বার ফাইনাল খেলে তিনবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। তাহলে ব্যাপারটা কি দাঁড়ালো? আর্জেন্টিনার কাছে সুইজারল্যান্ড কোন বাধাই নয়, তাই নয় কি? ব্যাপারটা কিন্তু এমনই হওয়া উচিত তাই না? কিন্তু বাস্তবতা কি তাই? না মোটেও তা নয় কারণ একটাই তা হল ফুটবলে বিশেষ করে যারা বিশ্বকাপ খেলে সেই সমস্ত দেশ গুলোর মধ্যে পার্থক্যটা ক্রিকেটের মত ছোট বা বড় দলের মত বোঝা যায় না। তাই পরিসংখ্যানে আর্জেন্টিনা ও সুইজারল্যান্ড অনেক বড় পার্থক্য থাকলেও বাস্তবে মাঠে খেলায় বড় কোন পার্থক্য থাকবেনা। এই ম্যাচটি ঘিরে ফুটবল বিশ্লেষকদের ধারণা আর্জেন্টিনা–সুইজারল্যান্ড কোয়ার্টার মানসিক দৃঢ়তা ও দলগত শৃঙ্খলার লড়াই।
কেন মানসিক দৃঢ়তায় এগিয়ে আর্জেন্টিনা: বিশ্লেষকদের মতে, আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় শক্তি তাদের মানসিক দৃঢ়তা ও বড় ম্যাচের অভিজ্ঞতা আছে আর এই দৃঢ়তার কারণ হলো বিশ্বকাপে তাদের অতিতের অর্জন, দলে বিশ্বতারকার উপিস্থিতি, সাম্প্রতিক ধারাবাহিক পারফরম্যান্স ও ফুটবল ঐতিহ্য।

সুইজারল্যান্ডের দলীয় শৃঙ্খলা তাদের আত্নবিশ্বাসের কারণ: সুইজারল্যান্ডের শক্তি হলো শৃঙ্খলাবদ্ধ রক্ষণ, ফিটনেস এবং দলগত বোঝাপোড়া। তাই এই ম্যাচকে আর্জেন্টিনার তারকা বনাম সুইজারল্যান্ডের দলগত ফুটবলের এক আকর্ষণীয় লড়াইয়ের ম্যাচ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সুইস ফরোয়ার্ড জেকি আমদৌনি বলেছেন, তারা আর্জেন্টিনার খেলায় এমন কিছু দুর্বলতা খুঁজে পেয়েছেন যেখানে আঘাত করা সম্ভব। অর্থাৎ তারা শুধু রক্ষণাত্মক ফুটবল খেলতে মাঠে নামছে না, আর্জেন্টিনার দুর্বলতা খুঁজে প্রতি আক্রমন গুলোর সফল বাস্তবায়নের জন্য মরিয়া হবেন। সুইজারল্যান্ডের মিডফিল্ডার ডেনিস জাকারিয়া বলেছেন, মেসিকে থামানোর বিশেষ পরিকল্পনায় থাকবে ডাবল মার্কিং ও মাঝ মাঠে চাপ বাড়ানোর কৌশল।
বিশ্বকাপের সুইজারল্যান্ডের সফলতা:
১৯৩৪ (ইতালি বিশ্বকাপ)- প্রথমবার কোয়ার্টার ফাইনাল। ১৯৩৮ (ফ্রান্স বিশ্বকাপ)-টানা দ্বিতীয়বার শেষ আটে। ১৯৫৪ (সুইজারল্যান্ড বিশ্বকাপ)-স্বাগতিক হিসেবে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠে অস্ট্রিয়ার কাছে ঐতিহাসিক ৭-৫ ব্যবধানে হারে। এটি এখনও বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলের ম্যাচ (১২ গোল) । ১৯৫৪ সালের পর এই প্রথম বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে খেলছে সুইজারল্যান্ড। তাই তাদের কাছে এটি শুধু একটি ম্যাচ নয়, নতুন ইতিহাস লেখার দিন।
সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার সতর্কতা:
নকআউট পর্বে কেপ ভার্দে ও মিসরের বিপক্ষে কিছুটা বিতর্ক থাকলেও নিজেদের দুর্বলতা নিজেরাই উপলব্ধি করতে পেরেছে আর এটাই হচ্ছে বড় দলগুলো একটা বড় শক্তি যে, কোথায় কি দুর্বলতা আছে তা নিজেরাই বের করা। তাই ইউরোপের অন্যতম সংগঠিত দল সুইজারল্যান্ডকে মোকাবেলা করার জন্য বেশ ভাল ভাবেই প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে স্কালোনির দল।
বিশ্বকাপে দু-দলের মুখোমুখি লড়াই:
বিশ্বকাপে এর আগে দুই দল ২বার লড়েছে যার মধ্যে দুইবারই আর্জেন্টিনা জিতেছে। প্রথম ১৯৬৬ বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বে ২-০ গোলে আর সর্বশেষ ২০১৪ বিশ্বকাপে শেষ ষোলতে ১-০ গোলে, ১১৮তম মিনিটে অ্যাঞ্জেল দি মারিয়া গোলটি করেছিলেন। এছাড়া আরো ৫টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছে উভয় দল যার মধ্যে আর্জেন্টিনা ৩টি জয় লাভ করে বাকি ২টি ড্র হয়, সুইজারল্যান্ডের কোন জয় নেই।
ম্যাচের প্রধান চরিত্র: ৪র্থ কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচের প্রধান চরিত্র হতে পারেন লিওনেল মেসি। দুর্দান্ত ফর্মে থাকা মেসি এবার ৮ গোল করে এম বাপ্পের সাথে যৌথভাবে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে শীর্ষে রয়েছেন। আর্জেন্টিনার জন্য সুখবর হতে পারে অন্যান্য খেলোয়াড়দের গোল পাওয়া। বিশ্বকাপ শুরুর দেকে মেসি নির্ভর হয়ে পড়েছিল আর্জেন্টিনা সময়ের সাথে সাথে তা এখন অনেকটাই কাটিয়ে উঠতে পেরেছে।
সুইজারল্যান্ডের কৌশল: এই ম্যাচকে অনেক বিশেষজ্ঞ ২০২৬ বিশ্বকাপের সবচেয়ে কৌশলগত কোয়ার্টার ফাইনালগুলোর একটি হিসেবে দেখছেন, কারণ এখানে আর্জেন্টিনার আক্রমণাত্মক শক্তির বিপরীতে সুইজারল্যান্ডের দৃঢ় রক্ষণ মুখোমুখি হবে। তারা চাইবে ম্যাচটাকে যতদুর নেওয়া যায় যদি বুঝে ভেলে যে গোল আসছেনা তখন তারা টাইব্রেকারে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করবে। ১৯৫৪ সালের পর থেকে সুইজারল্যান্ড আর কখনও কোয়ার্টার ফাইনালে উঠতে পারেনি, তাই দীর্ঘ ৭২ বছরের প্রতিক্ষার অবসান এত সহজে নষ্ট করতে চাইবেনা। আগামীকাল ১১ জুলাই সকাল ৭ টায় শুরু হবে শেষ কোয়ার্টার ফাইনাল।


