বিশ্বকাপের শিরোপা জিততে পারেনি নরওয়ে। পৌঁছাতে পারেনি ফাইনাল বা সেমিফাইনালে। তবু উত্তর ইউরোপের দেশটির ফুটবল ইতিহাসে এবারের আসরটি চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। সেই ইতিহাসের নায়কদের বরণ করে নিতে সোমবার রাজধানী অসলোয় নেমেছিল জনতার ঢল। হাজার হাজার উচ্ছ্বসিত সমর্থকের ভালোবাসা আর রাজপরিবারের উপস্থিতিতে স্মরণীয় হয়ে উঠেছে নরওয়ে দলের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন।
২৮ বছর পর বিশ্বকাপের মূল পর্বে ফিরে অসাধারণ পারফরম্যান্স উপহার দেয় নরওয়ে। প্রথমবারের মতো তারা পৌঁছে যায় পুরুষদের বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে। শেষ ষোলোতে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলকে হারিয়ে তারা রচনা করে অন্যতম বড় অঘটন। যদিও শেষ আটে ইংল্যান্ডের কাছে অতিরিক্ত সময়ে হেরে শেষ হয়ে যায় তাদের স্বপ্নযাত্রা।
বিশ্বকাপজুড়ে দলের সবচেয়ে বড় তারকা ছিলেন আর্লিং হালান্ড। সাত গোল করে তিনি নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন টুর্নামেন্টের অন্যতম সেরা ফরোয়ার্ড হিসেবে। বিশ্বমঞ্চে তার জনপ্রিয়তাও পৌঁছে যায় নতুন উচ্চতায়।
ওয়াটার স্যালুট
দেশে ফেরার পথে নরওয়ে দলের বিমানকে সামরিক যুদ্ধবিমান দিয়ে এসকর্ট করা হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, বিমানের জানালার পাশে ভিড় করে দাঁড়িয়ে খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফ সেই বিরল দৃশ্য উপভোগ করছেন।
অসলো বিমানবন্দরে অবতরণের পরও ছিল চমকের শেষ নেই। হালান্ডকে দেখা যায় হাতে একটি ট্যাক্সিডার্মি করা র্যাকুন এবং একটি খালি বোতল নিয়ে বিমানের সিঁড়ি দিয়ে নামতে। তার এই ব্যতিক্রমী উপস্থিতি উপস্থিত সবার মধ্যে হাস্যরসের জন্ম দেয়।

দলকে স্বাগত জানাতে হাজির ছিলেন নরওয়ের রাজপরিবারের সদস্যরাও। ক্রাউন প্রিন্স হাকোন নিজেই সমর্থকদের সঙ্গে যোগ দেন বিশ্বকাপে জনপ্রিয় হয়ে ওঠা ‘ভাইকিং রো’ উদ্যাপনে। ড্রাম বাজিয়ে তিনি নেতৃত্ব দেন সেই ঐতিহ্যবাহী উল্লাসে, যেটি বিশ্বকাপে নরওয়ের প্রতিটি জয়ের পর অধিনায়ক মার্টিন ওডেগার্ড ও হালান্ডের নেতৃত্বে আলোচনায় এসেছিল।
ছাদখোলা বাসে শহর প্রদক্ষিণ
এরপর খোলা ছাদের বাসে শহর প্রদক্ষিণ করেন ফুটবলাররা। রাস্তাজুড়ে অপেক্ষমাণ সমর্থকদের শুভেচ্ছা ও করতালির জবাবে হাত নেড়ে কৃতজ্ঞতা জানান খেলোয়াড়রা। সমর্থক ও দলের এই পারস্পরিক ভালোবাসা যেন এক অবিস্মরণীয় ফুটবল গ্রীষ্মের সমাপ্তিকে আরও আবেগঘন করে তোলে।
যদিও মায়ামিতে কোয়ার্টার ফাইনালে জুড বেলিংহামের অতিরিক্ত সময়ের গোলে ইংল্যান্ডের কাছে হেরে বিশ্বকাপ অভিযান থেমে যায় নরওয়ের, তবু এবারের আসর তাদের ফুটবল ইতিহাসে নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা করেছে। বিশ্বকাপ না জিতেও দেশের মানুষের হৃদয় জয় করে ফিরেছে হালান্ড-ওডেগার্ডরা। নরওয়ের ফুটবলপ্রেমীদের কাছে এই দলটি বহুদিন ধরে সাহস, স্বপ্ন আর সম্ভাবনার প্রতীক হয়ে থাকবে।


