যুক্তরাষ্ট্রের বস্টনে অবস্থিত জিলেট স্টেডিয়ামে এক টানটান উত্তেজনার ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল ইংল্যান্ড এবং ঘানা। তবে দুই দলের আক্রমণভাগের ব্যর্থতা এবং রক্ষণভাগের দৃঢ়তায় গোলশূন্য ড্রতে শেষ হলো ইংল্যান্ড-ঘানা ম্যাচের প্রথমার্ধ ।
ম্যাচের শুরু থেকেই দুই দলের মধ্যে এক অদ্ভুত সাবধানী মনোভাব লক্ষ্য করা যায়। খেলার প্রথম ২৫ মিনিটে ইংল্যান্ডের জর্ডান পিকফোর্ড কিংবা ঘানার বেঞ্জামিন আসারে কাউকেই কোনো উল্লেখযোগ্য পরীক্ষা দিতে হয়নি। থ্রি লায়ন্সরা ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখে ধীরস্থিরভাবে আক্রমণ গড়ার চেষ্টা করলেও প্রথমার্ধে তাদের নেওয়া ৩টি শটের একটিও লক্ষ্যভেদী (অন টার্গেট) ছিল না। অন্যদিকে ঘানা শুরু থেকেই রক্ষণাত্মক খেলে কাউন্টার অ্যাটাকের অপেক্ষায় ছিল।
ম্যাচের ৩৩ মিনিটে প্রথম বড় সুযোগটি পান ইংল্যান্ডের জুড বেলিংহাম। বল রিবাউন্ড হয়ে ডি-বক্সে তার পায়ে আসলে তিনি গোল লক্ষ্য করে দারুণ এক শট নেন। তবে ঘানার অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার থমাস পার্টেই চমৎকারভাবে সেই শটটি প্রতিহত করে ঘানাকে রক্ষা করেন।
খেলার গতি বাড়াতে গিয়ে ৪১ মিনিটে টুর্নামেন্টে নিজেদের প্রথম হলুদ কার্ডটি দেখে বসে ইংল্যান্ড। মিডফিল্ডার ডেক্লান রাইস অতিরিক্ত আক্রমণাত্মকভাবে বল কেড়ে নেওয়ার চেষ্টায় (প্রেসিং) ঘানার জেরোম ওপোকুকে ফাউল করলে রেফারি তাকে হলুদ কার্ড দেখান।
দ্বিতীয়ার্ধ: মাদুয়েকের চেষ্টা ও ম্যান সিটি সতীর্থদের দ্বৈরথ
বিরতির পর ম্যাচের গতি বাড়াতে মরিয়া হয়ে ওঠে ইংল্যান্ড। বিশেষ করে ডান উইঙে ননি মাদুয়েকে বেশ প্রাণবন্ত ফুটবল খেলেন। ঘানার জেদি ও অনমনীয় রক্ষণভাগ ভেদ করার জন্য তিনিই ছিলেন ইংল্যান্ডের মূল ভরসা। তবে ঘানার রক্ষণ দেয়াল আজ ভাঙা সম্ভব হয়নি।
ম্যাচের আরেকটি আকর্ষণীয় দিক ছিল ম্যানচেস্টার সিটির সতীর্থদের মধ্যকার লড়াই। ঘানার অঁতোয়ান সেমেনিও আজ মাঠে নেমেছিলেন তার ক্লাব সতীর্থ জন স্টোন্স, নিকো ও’রাইলি, মার্ক গেহি এবং জেমস ট্রাফোর্ডের বিপক্ষে। ক্লাবের পরম বন্ধুরাই আজ মাঠে পরিণত হয়েছিলেন ‘চিরশত্রুতে’। সেমেনিও কয়েকবার ইংল্যান্ডের রক্ষণভাগে হানা দিলেও স্টোন্স-গেহিরা তাকে সফল হতে দেননি।
ম্যাচের শেষ কথা
শেষ বাঁশি বাজার আগ পর্যন্ত দুই দলই গোলের জন্য মরিয়া চেষ্টা চালিয়েছে, তবে কাঙ্ক্ষিত গোলের দেখা মেলেনি। রক্ষণভাগের দৃঢ় পারফরম্যান্সে ম্যাচটি ছিল দারুণ উপভোগ্য, আর শেষ পর্যন্ত প্রথমার্ধ ইংল্যান্ড ও ঘানাকে গোলশূন্য ড্র নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয়েছে।.
স্কোর কার্ড
বিশ্বকাপ ২০২৩





















