এক ম্যাচের সর্বোচ্চ লাল কার্ড কয়টি?
এবারের বিশ্বকাপের ১ম লাল কার্ড – দক্ষিণ আফ্রিকার থেম্বা জেওয়ানের , স্তাদিও আজতেকার গ্যালারিজুড়ে তখন ৮৩ হাজার দর্শকের গগনবিদারি চিৎকার। স্বাগতিক মেক্সিকোর মুখোমুখি দক্ষিণ আফ্রিকা। শক্তি আর র্যাংকিংয়ের বিচারে ম্যাচের ফল কেমন হতে পারে, তা নিয়ে ফুটবল পণ্ডিতদের হিসাব-নিকাশ ম্যাচ শেষে একেবারেই আড়ালে চলে গেল। ২০২৬ বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচটি মেক্সিকোর ২-০ গোলের দাপুটে জয়ের চেয়েও বেশি মনে রাখা হবে ব্রাজিলিয়ান রেফারি উইলটন সাম্পাইয়োর পকেট থেকে বের হওয়া ৩টি লাল কার্ডের কারণে। ফুটবল বিশ্বকাপের ইতিহাসে এক ম্যাচে এত গুলো লাল কার্ড দেখার ঘটনা বেশ বিরল।
১৬ বছর পর একই মঞ্চে পুরোনো লড়াই
কাকতালীয়ভাবে, এর আগে ২০১০ সালের ১১ জুন দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচেও এই দুই দল মুখোমুখি হয়েছিল, যা ১-১ গোলে ড্র হয়। ঠিক ১৬ বছর পর আবারও সেই ১১ জুনের মঞ্চেই দেখা হলো দুই দলের। তবে এবার ইতিহাস বদলে দিল মেক্সিকো। র্যাংকিংয়ের ১৫ নম্বরে থাকা স্বাগতিকরা ৬৮ নম্বরে থাকা দক্ষিণ আফ্রিকাকে পুরো ম্যাচে কোনো সুযোগই দেয়নি। ৬১ শতাংশ সময় বল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখে দুর্দান্ত ফুটবল খেলেছে মেক্সিকো।
কুইনোনাস ও হিমেনেসের গোল উৎসব
ম্যাচের মাত্র ৯ম মিনিটেই লিড নেয় মেক্সিকো। দক্ষিণ আফ্রিকার গোলরক্ষক রনওয়েন উইলিয়ামস নিজেদের ডি-বক্সের সামনে পাস দিতে গিয়ে ভুল করে বসেন। মাঝপথ থেকে বল কেড়ে নিয়ে মার্সেলো লিরা তা বাড়িয়ে দেন হুলিয়ান কুইনোনাসের দিকে। ঠান্ডা মাথায় গোলরক্ষকের দুই পায়ের ফাঁক দিয়ে বল জালে জড়ান কুইনোনাস।
এরপর ম্যাচের ৬৮তম মিনিটে ডান প্রান্ত থেকে আসা একটি নিখুঁত ক্রসে অসাধারণ হেডে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন অভিজ্ঞ ফরোয়ার্ড রাউল হিমেনেস। দেশের হয়ে ১২৫তম ম্যাচে এটি ছিল তাঁর ৪৬তম গোল, আর বিশ্বকাপের মঞ্চে প্রথম। এই গোলের মাধ্যমেই মেক্সিকোর জয় নিশ্চিত হয়ে যায়।
রেফারি সাম্পাইয়োর কড়া শাসন
ম্যাচটি ফুটবলীয় সৌন্দর্যের চেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে দক্ষিণ আফ্রিকার খেলোয়াড়দের অতিরিক্ত শারীরিক ও আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলার প্রবণতার কারণে। তবে ৪৪ বছর বয়সী অভিজ্ঞ ব্রাজিলিয়ান রেফারি উইলটন সাম্পাইয়ো মাঠে কোনো ছাড় দেননি। ২০১৮ ও ২০২২ বিশ্বকাপে রেফারিংয়ের অভিজ্ঞতা থাকা সাম্পাইয়ো একের পর এক কঠোর সিদ্ধান্ত নেন।
- প্রথম লাল কার্ড: দ্বিতীয় অর্ধের শুরুর মাত্র ৫ মিনিটের মাথায় মেক্সিকোর গুতিয়েরেসকে বিপজ্জনক ট্যাকল করার দায়ে দক্ষিণ আফ্রিকার ডিফেন্ডার স্পেফেলো সিথোলেকে সরাসরি লাল কার্ড দেখান রেফারি।
- দ্বিতীয় লাল কার্ড: ৮৩তম মিনিটে মেক্সিকোর রবার্তো আলভারাদো বল নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার সময় দক্ষিণ আফ্রিকার আরেক ডিফেন্ডার জোয়ান পেছন থেকে তাঁর মুখে আঘাত করেন। ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (VAR)-এর সহায়তায় সাম্পাইয়ো দ্বিতীয়বারের মতো লাল কার্ড বের করেন। দক্ষিণ আফ্রিকা পরিণত হয় ৯ জনের দলে।
- তৃতীয় লাল কার্ড: রেফারি কেবল স্বাগতিকদের প্রতিপক্ষকেই শাস্তি দেননি। ইনজুরি সময়ে দক্ষিণ আফ্রিকার এক খেলোয়াড়কে বেপরোয়া ট্যাকল করায় মেক্সিকোর সিজার মন্টেসকেও সরাসরি লাল কার্ড দেখান তিনি। ফলে দুই দল মিলিয়ে মাত্র ১৯ জন খেলোয়াড় নিয়ে ম্যাচ শেষ হয়।
বিশ্বকাপের ইতিহাসে লাল কার্ডের রেকর্ড ও বিরল তালিকা
বিশ্বকাপের ইতিহাসে এক ম্যাচে সবচেয়ে বেশি ৪টি লাল কার্ড দেখার রেকর্ড রয়েছে দুটি ম্যাচে – ১৯৩৮ সালে ব্রাজিল বনাম চেকোস্লোভাকিয়া এবং ২০০৬ সালে পর্তুগাল বনাম নেদারল্যান্ডসের সেই বিখ্যাত ‘নুরেমবার্গের যুদ্ধ’ ম্যাচে।
এবার মেক্সিকো ও দক্ষিণ আফ্রিকার ম্যাচটি ৩টি লাল কার্ড নিয়ে বিশ্বকাপের একটি বিরল তালিকায় প্রবেশ করল। এর আগে ১৯৫৪ সালে হাঙ্গেরি-ব্রাজিল, ১৯৯৮ সালে ডেনমার্ক-দক্ষিণ আফ্রিকা এবং ২০০৬ সালের দুটি ম্যাচে (অস্ট্রেলিয়া-ক্রোয়েশিয়া ও ইতালি-যুক্তরাষ্ট্র) এক ম্যাচে ৩টি লাল কার্ড দেখার ঘটনা ঘটেছিল।
বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচ সাধারণত গোলের আনন্দে রাঙানো থাকে, তবে ২০২৬ আসরের প্রথম ম্যাচটি ফুটবল প্রেমীদের মনে থাকবে মাঠের ফুটবলের চেয়ে রেফারি উইলটন সাম্পাইয়োর পকেট থেকে বারবার কার্ড বের হওয়ার নাটকীয় মুহূর্তগুলোর জন্য।
স্কোর কার্ড
বিশ্বকাপ ২০২৩





















