ইংলিশ ফুটবলে অবিশ্বাস্য অঘটনের জন্ম দিয়ে কারাবাও কাপের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে চতুর্থ বিভাগের দল ফ্লিটউড টাউন। মঙ্গলবার রাতে প্রিমিয়ার লিগের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্সেনালকে পেনাল্টি শুটআউটে ৫-৩ ব্যবধানে হারিয়েছে তারা। নির্ধারিত সময়ে ১-১ গোলে সমতা থাকার পর টাইব্রেকারে জয় নিশ্চিত করে ফ্লিটউড। প্রতিযোগিতার ইতিহাসে এই প্রথম কোনো প্রিমিয়ার লিগ চ্যাম্পিয়ন চতুর্থ বিভাগের দলের কাছে লিগ কাপ থেকে বিদায় নিল।
ফ্লিটউডের হাইবারি স্টেডিয়ামে ম্যাচটি ছিল স্বাগতিকদের জন্য বিশেষ উপলক্ষ। ইংলিশ ফুটবল লিগে জায়গা পাওয়ার ১৫ বছরের ইতিহাসে এত বড় ম্যাচ আর খেলেনি দলটি। ম্যাচ শুরুর আগে আতশবাজির আয়োজনও ছিল। তবে খেলা শুরুর এক মিনিটের মধ্যেই স্টেডিয়ামের ওপর ড্রোন উড়তে থাকায় প্রায় আট মিনিট বন্ধ থাকে খেলা।
আর্সেনালে ৯ পরিবর্তন
আর্সেনাল কোচ মিকেল আর্তেতা আগের ম্যাচের একাদশ থেকে নয়টি পরিবর্তন আনেন। তবু মার্টিন জুবিমেন্দি, কাই হাভার্টজ, ইউরিয়েন টিম্বার ও ভিক্টর ইয়োকেরেসের মতো তারকারা ছিলেন দলে। কিন্তু শুরু থেকেই আর্সেনালের খেলায় ছন্দের অভাব দেখা যায়। উল্টো ২১ মিনিটে এগিয়ে যায় ফ্লিটউড। মার্ক হেলমের বাড়ানো বলে আর্সেনালের ১৭ বছর বয়সী ডিফেন্ডার মার্লি স্যালমনকে পেছনে ফেলে গোলরক্ষক ইলান মেসলিয়েরের পাশ দিয়ে বল জালে পাঠান ফুলহ্যাম থেকে ধারে খেলতে আসা অ্যারন লুপালো-বি।

বিরতির পর অধিনায়ক মার্টিন ওডেগার্ড ও বেন হোয়াইটকে মাঠে নামান আর্তেতা। তাতেই বদলায় ম্যাচের চিত্র। ৫০ মিনিটে বাঁ দিক থেকে সিয়াডাক ও’নিলের নিচু ক্রসে পড়ে গিয়েও বল জালে পাঠান ইয়োকেরেস। মৌসুমে এটিই ছিল তাঁর প্রথম গোল।
আক্রমণে সফলতা নেই
এরপর আর্সেনাল একের পর এক আক্রমণ করলেও গোলরক্ষক জে লিঞ্চের দৃঢ়তায় এগোতে পারেনি। শেষ দিকে হ্যারিসন নিলকে লাথি মারায় লাল কার্ড দেখেন আর্সেনালের কিশোর প্রতিভা ম্যাক্স ডাউম্যান। যোগ করা সময়ে বেন হোয়াইট ও ওডেগার্ডের শট ঠেকিয়ে ম্যাচ টাইব্রেকারে নিয়ে যান লিঞ্চ।
শুটআউটে ব্রুনো গিমারায়েসের শট রুখে দেন লিঞ্চ। এরপর ফ্লিটউডের কিশোর ডিফেন্ডার কনর হগি জয়সূচক পেনাল্টি জালে জড়াতেই মাঠে নেমে আসেন উল্লসিত সমর্থকেরা। ১৯৯৩ সালের পর লিগ কাপ জিততে না পারা আর্সেনালের জন্য এটি বড় ধাক্কা।


