দিলশান মাদুশাঙ্কার দুর্দান্ত বোলিংয়ে পাকিস্তানকে ৮ উইকেটে হারিয়ে ওয়ানডে ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে শ্রীলঙ্কা। মঙ্গলবার লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে স্বাগতিকদের মাত্র ১১০ রানে অলআউট করে ১৮.১ ওভারেই জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছে যায় লঙ্কানরা। হাতে ছিল ৩১.৫ ওভার।
বাঁহাতি পেসার মাদুশাঙ্কা ৩৪ রান দিয়ে নিয়েছেন ৫ উইকেট, যা ওয়ানডে ক্রিকেটে তাঁর ক্যারিয়ারসেরা বোলিং। অন্যদিকে, ব্যাট হাতে অপরাজিত ৬২ রান করে শ্রীলঙ্কার জয় নিশ্চিত করেন কামিন্দু মেন্ডিস। তাঁর সঙ্গে অপরাজিত ২৩ রান করেন পাভান রত্ননায়েকে।
এই জয়ে শনিবারের ফাইনালে পাকিস্তানের মুখোমুখি হবে শ্রীলঙ্কা। আগেই নিজেদের প্রথম তিন ম্যাচ জিতে ফাইনাল নিশ্চিত করেছিল পাকিস্তান। ফলে বৃহস্পতিবার শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ইংল্যান্ডের ম্যাচটি এখন নিয়মরক্ষার লড়াইয়ে পরিণত হয়েছে।
মাদুশাঙ্কার গতিতে দিশেহারা পাকিস্তান
টস জিতে প্রথমে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন শ্রীলঙ্কার অধিনায়ক কুশল মেন্ডিস। তাঁর সিদ্ধান্তকে সঠিক প্রমাণ করতে শুরু থেকেই পাকিস্তানের ব্যাটিং লাইনআপে আঘাত হানেন লঙ্কান বোলাররা। বিশেষ করে মাদুশাঙ্কার শর্ট বল সামলাতে ব্যর্থ হন স্বাগতিক ব্যাটাররা।
চতুর্থ ওভারে মাদুশাঙ্কার বলে পয়েন্ট অঞ্চলে ক্যাচ দিয়ে ৫ রান করে ফেরেন ফখর জামান। ত্রিদেশীয় সিরিজে প্রথমবার খেলতে নামা মাজ সাদাকাতও বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। আসিথা ফার্নান্দোর দুর্দান্ত ইয়র্কারে এলবিডব্লিউ হয়ে ৮ রান করে ফেরেন তিনি।
এরপর সাদ বেগ ৫ রান করে শর্ট কভারে ক্যাচ দেন মাদুশাঙ্কার বলে। সালমান আলী আগা ৯ রান করে সাহান আরাচ্চিগের শিকার হন। ফলে শুরুতেই চাপে পড়ে পাকিস্তান।
এক প্রান্তে প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেন বাবর আজম। তবে ৩৩ বলে পাঁচটি বাউন্ডারিতে ২৯ রান করার পর এশান মালিঙ্গার বলে এলবিডব্লিউ হয়ে ফেরেন তিনি। এর মধ্যেই দুটি রিভিউ হারিয়ে ফেলে পাকিস্তান।
এরপর দ্রুত উইকেট হারাতে থাকে স্বাগতিকরা। শাদাব খান ২ রান করে আরাচ্চিগের বলে আউট হন। হাসান নওয়াজ ১৭ রান করে দুনিথ ওয়েল্লালাগের শিকার হন। একপর্যায়ে ৯১ রানেই ৮ উইকেট হারিয়ে ম্যাচ থেকে কার্যত ছিটকে পড়ে পাকিস্তান।
শেষ দিকে আরাফাত মিনহাস ও হারিস রউফকে ফিরিয়ে নিজের পাঁচ উইকেটের পথে এগিয়ে যান মাদুশাঙ্কা। মিনহাস করেন ১০ রান, আর হারিসের ব্যাট থেকে আসে মাত্র ১ রান।
শেষ উইকেটে কিছুটা আক্রমণাত্মক হওয়ার চেষ্টা করেন অধিনায়ক শাহিন শাহ আফ্রিদি। ১৩ বলে ১৫ রান করার পথে দুটি ছক্কা হাঁকান তিনি। তবে ওয়েল্লালাগের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফিরলে মাদুশাঙ্কার পাঁচ উইকেট পূর্ণ হয়। ২৫.৩ ওভারেই ১১০ রানে গুটিয়ে যায় পাকিস্তানের ইনিংস।
মাদুশাঙ্কার পাঁচ উইকেটের পাশাপাশি সাহান আরাচ্চিগে নেন দুটি উইকেট। আসিথা ফার্নান্দো, এশান মালিঙ্গা ও দুনিথ ওয়েল্লালাগে একটি করে উইকেট পান।
কামিন্দুর অপরাজিত ৬২ রানে সহজ জয়
১১১ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে আক্রমণাত্মক শুরু করে শ্রীলঙ্কা। উদ্বোধনী জুটিতে কামিন্দু মেন্ডিস ও অ্যাভিষ্কা ফার্নান্দো ৬.৫ ওভারে যোগ করেন ৫০ রান।
১৭ বলে ১৬ রান করে শাহিন আফ্রিদির বলে ফখর জামানের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন অ্যাভিষ্কা। তবে অন্য প্রান্তে সাবলীল ব্যাটিং চালিয়ে যান কামিন্দু।
৪৩ বলে অর্ধশতক পূর্ণ করেন এই ব্যাটার। শাহিনের প্রথম ওভারেই ক্যাচ দিয়ে বেঁচে যান তিনি। পরে এলবিডব্লিউর সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সফল রিভিউ নিয়েও ইনিংস এগিয়ে নেন কামিন্দু।
শেষ পর্যন্ত ৬০ বলে আটটি চার ও দুটি ছক্কায় অপরাজিত ৬২ রান করেন তিনি।
অন্যদিকে, কুশল মেন্ডিস ৬ বলে ৮ রান করে আরাফাত মিনহাসের বলে বোল্ড হন। অদ্ভুতভাবে ব্যাটে লেগে বল স্টাম্পে আঘাত করায় তাঁর ইনিংসের সমাপ্তি ঘটে।
তবে এরপর আর কোনো উইকেট হারায়নি শ্রীলঙ্কা। পাভান রত্ননায়েকে কামিন্দুর সঙ্গে জুটি গড়ে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন। ২৬ বলে দুটি বাউন্ডারিতে ২৩ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি। মাজ সাদাকাতের স্পিনে কভার-পয়েন্ট দিয়ে বাউন্ডারি মেরে ম্যাচ শেষ করেন রত্ননায়েকে।
পাকিস্তানের হয়ে শাহিন আফ্রিদি ও আরাফাত মিনহাস একটি করে উইকেট নেন। তবে দলের মাত্র ১১০ রানের সংগ্রহ বোলারদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়।
ফাইনালের আগে বড় ধাক্কা পাকিস্তানের
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে আগের ম্যাচে নাটকীয় এক উইকেটের জয় পেয়েছিল পাকিস্তান। সেই ম্যাচে শাদাব খানের অপরাজিত সেঞ্চুরি দলকে রক্ষা করেছিল। কিন্তু শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ব্যাটিংয়ের সেই দুর্বলতা আবারও প্রকাশ পেয়েছে।
অন্যদিকে, টুর্নামেন্টের শুরুতে ধুঁকতে থাকা শ্রীলঙ্কা দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে আগের জয় এবং পাকিস্তানের বিরুদ্ধে এই বড় ব্যবধানের সাফল্য দলটির আত্মবিশ্বাস বাড়াবে।
মাদুশাঙ্কার দুর্দান্ত বোলিং ও কামিন্দুর দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে পাওয়া এই জয় শ্রীলঙ্কাকে ফাইনালের আগে এগিয়ে রাখবে। শনিবার শিরোপার লড়াইয়ে আবারও মুখোমুখি হবে পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কা।
সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড
পাকিস্তান: ১১০ (২৫.৩ ওভার)
- বাবর আজম: ২৯
- হাসান নওয়াজ: ১৭
- শাহিন আফ্রিদি: ১৫
- দিলশান মাদুশাঙ্কা: ৫/৩৪
শ্রীলঙ্কা: ১১৪/২ (১৮.১ ওভার)
- কামিন্দু মেন্ডিস: ৬২*
- পাভান রত্ননায়েকে: ২৩*
- শাহিন আফ্রিদি: ১ উইকেট
- আরাফাত মিনহাস: ১ উইকেট
ম্যাচের সেরা খেলেয়াড় : দিলশান মাদুশাঙ্কা
ফলাফল: শ্রীলঙ্কা ৮ উইকেটে জয়ী (৩১.৫ ওভার হাতে রেখে)।


