বিশ্বকাপ জয়ের আনন্দ কখনো ছাদখোলা বাসে লাখো মানুষের উল্লাসে ধরা দেয়, কখনো রাষ্ট্রীয় সংবর্ধনায়। আবার কোথাও সেই আনন্দের রং মিশে যায় মাটির গন্ধে, কৃষকের ঘামে আর ফসলের প্রাচুর্যে। স্পেনের ছোট্ট শহর লস পালাসিওস ই ভিয়াফ্রাঙ্কায় এবার বিশ্বজয়ী দুই ফুটবলার ফাবিয়ান রুইস ও গাভিকে বরণ করে নিল ঠিক তেমনই এক অনন্য আয়োজনে-তাদের ওজনের সমান টমেটো উপহার দিয়ে।
মঙ্গলবার নিজ শহরে ফেরেন স্পেনের এই দুই বিশ্বচ্যাম্পিয়ন। টাউন হলে তাদের জন্য অপেক্ষা করছিল উৎসবের আবহ। করতালি, পতাকা আর উচ্ছ্বসিত মানুষের ভালোবাসার মাঝেই পুরোনো ঐতিহ্য অনুসরণ করে প্রথমে তাদের ওজন মাপা হয়। এরপর সেই ওজনের সমপরিমাণ টমেটো তুলে দেওয়া হয় তাদের হাতে।
প্যারিস সেন্ট–জার্মেইয়ের মিডফিল্ডার ফাবিয়ান রুইসের ওজন দাঁড়ায় ৮৪ কেজি। ফলে তিনি পান ৮৪ কেজি টমেটো। অন্যদিকে বার্সেলোনার তরুণ তারকা গাভির ওজন ৬৮ কেজি, তাই তার প্রাপ্য হয় ৬৮ কেজি টমেটো।
স্পেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় আন্দালুসিয়ার এই জনপদ টমেটো চাষের জন্য যেমন বিখ্যাত, তেমনি ধীরে ধীরে হয়ে উঠেছে দেশটির সেরা ফুটবল প্রতিভাদেরও এক উর্বর ভূমি। এখান থেকেই উঠে এসেছেন স্পেনের কিংবদন্তি হেসুস নাভাস, ফাবিয়ান রুইস এবং গাভি।
এই ব্যতিক্রমী সম্মান জানানোর সূচনা হয়েছিল ২০১০ সালে। দক্ষিণ আফ্রিকায় স্পেন প্রথমবার বিশ্বকাপ জেতার পর হেসুস নাভাসকে তার ওজনের সমান টমেটো উপহার দিয়েছিল শহরবাসী। এরপর ২০১২ ও ২০২৪ সালের ইউরো জয়ের পরও সেই ঐতিহ্য বজায় ছিল। এবার দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জয়ের পর একই সম্মান পেলেন ফাবিয়ান রুইস ও গাভি।
ফাবিয়ান রুইসের জন্য এটি জাতীয় দলের হয়ে আরেকটি বড় সাফল্য। তিনি ২০২৪ সালের ইউরো জয়ী দলেও গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন। অন্যদিকে গাভির আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে এটি প্রথম বড় কোনো শিরোপা, যা তার ফুটবল জীবনের স্মরণীয় এক মাইলফলক হয়ে থাকবে।

উত্তর আমেরিকার মাটিতে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে ১–০ গোলে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয় স্পেন। সেই ঐতিহাসিক জয়ের পর সোমবার সতীর্থদের সঙ্গে মাদ্রিদের রাজপথে ছাদখোলা বাসে উদ্যাপনে অংশ নেন ফাবিয়ান ও গাভি। রাজধানীর উচ্ছ্বাস শেষে তারা ছুটে যান নিজের শিকড়ে-সেই শহরে, যেখানে ফুটবল আর কৃষি একই সুতোয় গাঁথা।
স্বর্ণপদক, ট্রফি কিংবা বিলাসবহুল সংবর্ধনার বাইরে লস পালাসিওস ই ভিয়াফ্রাঙ্কার এই উপহার যেন মনে করিয়ে দেয়, একজন ক্রীড়াবিদের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি কখনো কখনো নিজের মানুষের অকৃত্রিম ভালোবাসাই। আর সেই ভালোবাসার রং যদি হয় টমেটোর মতো টকটকে লাল, তবে বিশ্বজয়ের আনন্দও যেন আরও একটু বেশি প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।


