বিশ্বকাপসহ ফিফার বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বেসরকারি বিনিয়োগ আনার পরিকল্পনা থেকে শেষ পর্যন্ত সরে এসেছে ফিফা। তবে এতেই শেষ হয়নি বিতর্ক। উল্টো ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর নেতৃত্বের ওপর আস্থা হারানোর কথা প্রকাশ্যে জানিয়েছে ইউরোপিয়ান ফুটবল সংস্থা (উয়েফা)। এমনকি তাকে পদত্যাগ অথবা অনাস্থা ভোটের মুখোমুখি হওয়ার আহ্বানও জানিয়েছে সংস্থাটি।
২০২৬ বিশ্বকাপজুড়েই একাধিক বিতর্কে জড়ান ইনফান্তিনো। বিভিন্ন নিয়ম প্রয়োগ, ইরানের সঙ্গে আচরণ এবং যুক্তরাষ্ট্রের এক ফুটবলারের লাল কার্ড স্থগিত করার মতো সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন তিনি। এসব ইস্যুতে প্রকাশ্যেই অসন্তোষ দেখিয়েছিলেন উয়েফা সভাপতি আলেক্সান্দার সেফেরিন। বিশ্বকাপের ফাইনালের দিনও তিনি স্টেডিয়ামে উপস্থিত ছিলেন না।
পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়, যখন ফিফা বিশ্বকাপসহ নিজেদের টুর্নামেন্টে বেসরকারি বিনিয়োগ আনার পরিকল্পনা ঘোষণা করে। এই প্রস্তাবের বিরুদ্ধে সর্বসম্মতিক্রমে অবস্থান নেয় উয়েফার ৫৫টি সদস্যদেশ। শুধু তাই নয়, কনকাকাফ ও এএফসিও পরিকল্পনাটি প্রত্যাখ্যান করে। একপর্যায়ে চাপের মুখে প্রস্তাবটি প্রত্যাহার করে নেয় ফিফা।
তবে বিনিয়োগ পরিকল্পনা বাতিল করেও উয়েফার আস্থা ফেরাতে পারেননি ইনফান্তিনো। ইউরোপের ফুটবল সংস্থাটি এখন তার নেতৃত্ব নিয়েই প্রশ্ন তুলেছে এবং ফিফায় পরিবর্তনের দাবি জানিয়েছে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফ জানিয়েছে, ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে অনাস্থা ভোট আনার পক্ষে প্রস্তুত উয়েফার ৫৫ সদস্য। আনুষ্ঠানিকভাবে ভোটের প্রক্রিয়া শুরু করতে ৪৩টি সদস্য অ্যাসোসিয়েশনের সমর্থনই যথেষ্ট।
উয়েফা ইতোমধ্যেই প্রকাশ্যে জানিয়েছে, তারা বর্তমান নেতৃত্বের ওপর আস্থা হারিয়েছে এবং ফিফায় বড় ধরনের সংস্কার দেখতে চায়।
উয়েফার অবস্থানের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে ইংল্যান্ড ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনও। এক বিবৃতিতে সংস্থাটি বলেছে, ‘আমরা উয়েফার অবস্থানকে পূর্ণ সমর্থন জানাই। বিশ্ব ফুটবলের সুশাসন নিশ্চিত করতে ফিফার নেতৃত্ব ও পরিচালন ব্যবস্থার একটি ব্যাপক এবং কার্যকর পর্যালোচনার সময় এসেছে। এমন একটি কাঠামো প্রয়োজন, যেখানে ২১১টি সদস্য সংস্থার স্বার্থ রক্ষা করার পাশাপাশি ফুটবলের দীর্ঘমেয়াদি ভবিষ্যৎকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে।’
ফিফার বিতর্কিত বিনিয়োগ পরিকল্পনা আপাতত থেমে গেলেও, ইনফান্তিনোর নেতৃত্ব নিয়ে যে সংকট তৈরি হয়েছে, তা বিশ্ব ফুটবলের প্রশাসনিক অঙ্গনে নতুন এক অধ্যায়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে।


